শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কাঁদছে কৃষক

0
47

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে একের পর এক ডুবছে হাওর পাড়ের কৃষকদের বেচেঁ থাকার শেষ অবলম্বন বোরো ধানের জমি। বাধঁ ভেঙ্গে চোখের সামনে কাঁচা, আধা পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবার দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না হাওর পাড়ের অসহায় কৃষকরা।

উপজেলার টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে কয়েক দিনের ব্যবধানে বাঁধ ভেঙ্গে মহালিয়, ধরনারদর হাওর, বলদার হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওরের নিন্মাঅঞ্চল সহ ছোট ছোট ১২টি হাওর ডুবে ৮হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

কষ্টের ফলানো সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে এখন ঝড়ছে কৃষকের চোখের পানি। ডুবে যাওয়া বোরো ধানের জমি এবারও কৃষকরা এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ছড়া সুদে ঋন নিয়ে চাষ করেছে। এই ফসল হানীর কারনে ছড়া সুদে নেওয়া ঋন পরিশোধ কি ভাবে করবে এ নিয়ে হতাশায় দিন পার করছে হাওর পাড়ের কৃষকরা।

উপজেলার বোয়ালমারা,শনির হাওর,মাতিয়ান হাওর,লোভার হাওর,বলদার হাওর,লালুয়া গোয়ালা বাঁধ,মেশিন বাড়ির বাঁধ,সহ বিভিন্ন হাওরের বাঁধ দেবে গেছে ও ফাঠল দেখা দিয়েছে। বাধঁ ভেঙ্গে কাঁচা,আধা পাকা বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় হাওর পাড়ের বাঁধ রক্ষায় ফাঠল ও দেবে যাওয়া অংশে সংস্কারের কাজ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,সদর ইউপি চেয়ারম্যান সহ হাওর পাড়ে স্থানীয় কৃষকগন দিন-রাত।

এর পরও হাজার হাজার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় বাঁেধ এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায় নি। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্র জানায়,পানি উন্নয়ন বোর্ড এডিপি প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ২৩টি হাওরের মধ্যে ১৮টি হাওরের বাঁধ নিমার্ন ও মাটি ভড়াটের কাজ পায়। এ উপজেলায় আবাদী জমির পরিমান মোট ২৪হাজার ৯শত ৯৫হেক্টর।

তার মধ্যে ১৮হাজার ২শত হেক্টরের অধিক জমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন প্রকার ধান চাষ করা হয়েছে। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। উৎপাদিত ধানের মধ্যে রয়েছে হাইবিট ৮শ হেক্টর, স্থানীয় ২২শ হেক্টর ও বাকি জমিতে অকশি জাতীয় ধান চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে প্রতি বছর উৎপাদিত ধান থেকে ৬৪হাজার মেঃটনের অধিক চাল হয়।

যার মূল্য ২শত কোটির বেশি টাকা। মহালীয়া হাওরের রব্বানী,শনি হাওরের খেলু মিয়া,আতিক,সাদেক আলী,মাটিয়ান হাওরের উত্তম পুরকায়স্থ,অপু সহ উপজেলার হাওর পাড়ের কৃষকগন ক্ষুবের সাথে জানান,ছেলে মেয়ের লেখাপড়া আর কাওয়ন কেমনে হইব রক্ষক বক্ষক হইলে তখন আর কি করা যায়। আর বাঁধ নির্মান কারীদের বিরোদ্ধে সরকার,নেতা-নেত্রীরা সময় মত কোন কঠিন ব্যবস্থা না করায় বাঁধ নির্মাণ কাজ ৪০ভাগ শেষ করেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ও পিআইসিগন নিজেদের খেয়াল খুশি মত বাঁন্ধের উপর থাকা গাছ-পালা কাইটা পরিস্কার না কইরা,বান্ধের দুই পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে কোন রকম দায় সারা বাঁন্ধ নির্মান করছে। তারা জানায়,নিদির্ষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি আইনা,বস্তাত মাটি ভইড়া,বাঁশ দিয়া প্রতিরক্ষা বাঁন্ধ দেওয়া নিয়ম থাকলেও তা কেউ শুনে নাই।

এসব অনিয়মের কারনে গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে বাঁন্ধ ভাইঙ্গা কোটি কোটি টাকার কষ্টের সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত বছরের মত এবারও একেই অবস্থা অইছে। এই ফসল ফলাতে আমরা বিভিন্ন এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋন নিছি কেমনে ঋন পরিশোধ করতাম ভাইবা পাইতাছিনা। সবাই সবার ধান্দা নিয়েই ব্যস্থ আছিন আর অহন আমরার কাম শেষ।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান-এ বছর উপজেলায় ১৮৩০০ হেক্টর ধান চাষ করা হয়েছে। হাওরের বাঁধ গুলো খুবেই যুকিপূর্ন অবস্থায় ছিল এবং এখনও আছে। বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে ও কৃষকদের সাথে কথা বলেছি। বাধঁ ভেঙ্গে ৮হাজার হেক্টর বোরো জমির কাচাঁ-আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-এবারও সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে হাওরের বাঁধ গুলো ভেঙ্গেছে।

আর প্রতিটি বাঁধ এখনও খুবই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। নিজেই প্রতিদিন প্রতিটি বাঁধের খবর নিয়ে মাঠি ফেলার কাজর করছি সবাইকে নিয়ে। সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন জানান,জেলার একাধিক হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও পাহাড়ী ঢলের পানি হাওরের বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবেশ করছে। হাওরের বাঁধ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here