হাওয়রের ফসল যখন তলিয়ে যাচ্ছে তখন হঠাৎ আগুন চাল ও আটার মূল্যে

0
346

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জ জেলার সব হাওয়রের ফসল যখন তলিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনি কোন কারণ ছাড়া লাগামহীন ভাবে বাড়ছে চাল ও আটার দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে শহরতলি, উপজেলা শহর ও গ্রামীণ বাজারে চাল ও গমের মূল্য হুড় হুড় করে বেড়ে গেছে।

বস্তা প্রতি চালের দাম ৩ থেকে ৫শত টাকা ও গমের দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে চালের আমদানি কম ও লোকাল বাজারে চাল না থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মিলমালিক ও ক্রেতারা কারণ দেখালেও এ অজুহাত মানতে নারাজ সাধারণ ক্রেতারা।

বন্যার পানিতে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় অধিক লাভের আশায় কোন কারণ ছাড়াই ব্যবসায়িরা চাল ও আটার মূল্য বৃদ্ধি করছেন বলে দাবী তাদের। চাল ও আটার এমন আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। চালের এমন উর্ধগতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এখনি চালের দামের মূল্য নিয়ন্ত্রণ না করলে দুর্ভোগ চরমে উঠতে পারে বলে আশংকা তাদের।

তবে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিক্রেতাদের মনিটরিংয়ে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা মার্কেটিং অফিসার  মো. আব্দুল খালেক। সরেজমিনে শহরতলি  ও শহরের একাধিক চালের বাজার ঘুরে দেখা যায় ,চালের মুল্যে ব্যাপক পার্থক্য। সুনামগঞ্জে একাধিক দোকান মালিকের দেয়া তথ্য মতে  পুরাতন ২৮ ও ২৯ জাতের চাল বস্তা প্রতি বর্তমান বাজার দর ২৫০০ থেকে ২৫৫০ টাকা।

তিন দিন আগে যার বাজারমূল্য ছিল ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা। নতুন ২৮ ও ২৯ জাতের চাল বস্তা প্রতি বর্তমান বাজার দর ২১০০ থেকে ২১৫০ টাকা, তিন দিন আগে যার দর ছিল ১৯০০ থেকে ১৯৫০ টাকা। মোটা সিদ্ধ চালের বর্তমান বাজার দর বস্তা প্রতি ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা, যার পূর্ব মুল্য ছিল ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা।

নতুন মালা জাতের চালের বর্তমান বাজার মূল্য ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা , যার পূর্বমূল্য ছিল ১৮০০ টাকা। মোটা আতবের বর্তমান বাজার মূল্য ২০০০ টাকা, যার পূর্বমূল্য ছিল ১৮৫০ টাকা। বিরুই জাতের আতব চালের বর্তমান মূল্য ২১০০ টাকা, যার পূর্ব মূল্য ছিল  ২০০০ হাজার টাকা। পাইজাম জাতের সিদ্ধ চালের বর্তমান বাজার মূল্য ২২০০ থেকে ২২৫০ টাকা, যার পূর্ব মূল্য ছিল ১৯০০ টাকা।

এদিকে  বস্তা প্রতি আটার বর্তমান বাজার দর ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। তিনদিন আগে যা ছিল ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা। শহরের চালের এমন আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধিতে চাল ক্রয় করতে আসা অসংখ্য ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আলী আমজদ, হোসেন মিয়া ও অনুপ নারায়ন নামে কয়েকজন ক্রেতা বলেন, রাতারাতি চালের দাম বেড়ে গেল। হাওরের ফসল নিল দুই দিন হয় নি।

এর মধ্যেই চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে গেল কিভাবে। ব্যবসায়িরা কোন কারণ ছাড়াই অধিক লাভের আশায় চালের দাম বৃদ্ধি করছেন। প্রশাসন দিব্বি এই বিষয়গুলো দেখে যাচ্ছেন। বাজার তদারকী না করলে আমরা কই যাব।

উপজেলা শহর ও গ্রামের একাধিক বাজারেও বেশি দামে চাল ও আটা বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। চালের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ব্যবসায়ী ও বিকালে ডিলারদের নিয়ে মতবিনিময় করেছে জেলা প্রশাসন। এসময় পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here