Daily Archives: Apr 6, 2017

0 1

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন  সফলভাবে শেষ হয়েছে।  এ সম্মেলনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার সিপিএ সম্মেলন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আসছে  নভেম্বরে সিপিএ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নভেম্বরে বাংলাদেশ সিপিএ  সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সিপিএ সম্মেলনে আইপিইউ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। বৃহস্পতিবার আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং ও পার্লামেন্টস ফর নিউক্লিয়ার নন- প্রোলিফারেশন অ্যান্ড ডিসআর্মামেন্টের (পিএনএনডি) প্রতিনিধি দল সংসদে ভবনে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার বলেন, ১৩৬তম আইপিইউ অ্যাসেম্বলি সফলভাবে আয়োজন করতে পেরে বাংলাদেশ সত্যিই গর্বিত।

এ অ্যাসেম্বলির বড় প্রাপ্তি হলো আন্তর্জাতিক মানের অ্যাসেম্বলি আয়োজনের সামর্থ্য যে বাংলাদেশের আছে তা বিশ্ব পরিমণ্ডলে অবগত করা। তিনি বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ ও স্বাধীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তবনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা দানে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা ঘোষণায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈষম্য কমানো, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যা সকল দেশের মানুষের কল্যাণে আইপিইউ`র কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলন সফল আয়োজনের জন্য স্পিকার ও সম্মেলনের সভাপতি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। সাক্ষাতকালে পিএনএনডি’র প্রতিনিধি দলের প্রধান মনি শংকর আয়ার বলেন, পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব বিনির্মাণে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ জন্য তিনি বিশ্বের সকল দেশের সহযোগিতা কামনা করেন। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ অস্ত্র প্রতিযোগিতায়  নয়, জনগণের কল্যাণে বিশ্বাস করে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য অন্যতম পূর্বশর্ত বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা। রাজনৈতিক অঙ্গীকার অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করতে পারে। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতিবাচক কর্মসূচিসহ বিশ্বের সকল দেশের সংসদসমূহ সোচ্চার হলে শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। আর তখনই পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ কর্মসূচি সফল হবে। সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে বৃটেন, জাপান, ভুটান ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি, হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এমপি, সাবিনা আক্তার তুহিন এমপি, মাহজাবিন খালেদ এমপি, কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, মো. ফখরুল ইমাম এমপি এবং মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

0 31

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: তদন্ত সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘বিতর্কিত’ ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিষয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য সংবলিত খবরের কাগজ জমা দিয়েছেন সাংবাদিক সাগর লোহানী ও প্রবীর শিকদার।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে তারা এসব তথ্য জমা দেন। বিয়ষটি নিশ্চিত করে সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, দুটি অনলাইন ও একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনসহ ২৮ পৃষ্ঠার কাগজপত্রের ফরোয়ার্ডিং জমা দিয়েছেন তারা।

‘এ সময় তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খানও ছিলেন তার কার্যালয়ে। পরে তারা তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, দুই সাংবাদিক যেসব নথিপত্র দিয়েছেন, এগুলো আগেই আমাদের কাছে ছিল। তারপরও যেহেতু স্বেচ্ছায় তথ্য দিতে এসেছেন তারা- তাই তাদের দেয়া পেপারগুলো গ্রহণ করেছি। এসব নথি তদন্তের সহায়ক হবে কিনা?

এমন প্রশ্নের উত্তরে এম সানাউল হক মিয়া বলেন, মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। এখন এসব পেপার অনুসন্ধানে সহায়ক কিনা যাচাই-বাছাই করে বলা যাবে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সাগর লোহানী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে যেসব তথ্য-উপাত্ত আছে, সেগুলো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা গ্রহণ করেছেন। অনুসন্ধানে প্রমাণযোগ্য অপরাধ পাওয়া গেলে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে তদন্তের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে প্রবীর শিকদার বলেন, ‘আমরা আশা করছি তদন্ত সংস্থা শিগগিরই মুসা বিন শমসেরের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের উদ্যোগে নেবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, তারা যেসব ডকুমেন্টস দিয়েছেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। সত্যতা থাকলে অবশ্যই তদন্ত হবে। ফরিদপুর শহরের সাধারণ একটি পরিবার থেকে রহস্যময়ভাবে ধনকুবের হয়ে ওঠা মুসাকে তার এলাকার মানুষ ‘নুলা মুসা’ নামেই চেনে।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার বিচারের দাবি ওঠে। মুসার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের কথা বললেও তাতে কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারছিল না ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর প্রেক্ষাপটে অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রীর ফুপাত ভাইয়ের বেয়াই হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন জাঁকজমকপূর্ণ চলাফেরার জন্য বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশের প্রিন্স’ হিসেবে পরিচয় পাওয়া মুসা।

গত ২১ মার্চ মুসার বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধ বিষয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ফরিদপুরের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুসার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী প্রমাণ দিতে তারা ‘তৈরি আছেন’। মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাত্তরে মুসা বিন শমসেরের অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগের খতিয়ানও সেখানে তুলে ধরা হয়। এর আগে গত ২৯ মার্চ তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা সানাউল হক বলেছিলেন, অনুসন্ধানে ‘অগ্রগতি হলেই’ তারা মুসার বিরুদ্ধে মামলায় যাবেন।

এ ব্যবসায়ীর বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা তদন্ত সংস্থাকে দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়েই বৃহস্পতিবার নথি হস্তান্তরের কথা বলেন সাগর লোহানী ও প্রবীর শিকদার। প্রবীর শিকদার বলেন, ‘১৬ বছর আগে আমি দৈনিক জনকণ্ঠে নুলা মুসার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেছিলাম। সেই প্রতিবেদনের পর সে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করে। তবে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। সে সময় সংবাদকর্মীরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘আমি যা লিখেছি, তা যদি সত্যি না হত, তাহলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারত। সে তা না করে আমার ওপর হামলা করেছে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ থেকে ৯টি শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। অভিযানের চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবন থেকে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ ২৮ মার্চ শেষ হওয়ার পরও ভবনটিতে প্রচুর বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা থাকায় গত ৩ এপ্রিল থেকে এ অভিযান শুরু করে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা।

চতুর্থ দিন শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আতিয়া মহলের পাশে র‌্যাবের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে অভিযান সম্পর্কে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের ব্রিফ করেন র‌্যাব-৯-এর প্রধান লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ।

তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে গত ৩ এপ্রিল বেলা ১২টা থেকে আতিয়া মহলে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯টি শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ক্লিয়ারিং অভিযানের প্রথমদিনই দুই জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।

এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাহমুদ। আলী হায়দার জানান, আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক ছাড়াও বিস্ফোরক বানানোর প্রচুর সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। এছাড়াও বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থও পাওয়া গেছে, যা কী কাজে ব্যবহৃত হতো তা জানতে ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়েছে।

আতিয়া মহল ক্লিয়ারিংয়ে আরও সময় লাগবে জানিয়ে র্যাব-৯ এর এই কর্মকর্তা এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল এ জঙ্গি আস্তানা রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই গত ২৩ মার্চ রাত দেড়টা থেকে আতিয়া মহল ঘেরাও করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ২৫ মার্চ সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল। ৪ দিনের এ অভিযান শেষে ২৮ মার্চ পুলিশের কাছে আতিয়া মহলের দায়ভার হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: টানা ভারী বর্ষণে বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলীই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ভেঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত করে।

প্লাবনের পানিতে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যস্ত কমলগঞ্জ- মৌলভীবাজার সড়ক ্দুই ফুট পানিতে নিমজ্জিত থাকায় রাতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। গত ৩ দিনের টানা বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ধলাই নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়তে থাকে।

রাত সাড়ে আটটায় পানির আঘাতে কমলগঞ্জ পৌরসভার গোপালনগর এলাকার মনবাবুর বাড়ি সামনে ১টি ও  মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা দুটি স্থান দিয়ে দ্রতগতিতে নদীর ঢলের পানি প্রবেশ করে পৌরসভার গোপালনগর, নাগড়া, করিমপুর, যোদ্ধাপুর এলাকা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও, ঠাকুর বাজার, মইডাইল, সোনাপুর, ঘোষপুর ও শংকরপুর সহ ২০টি গ্রামের ৩০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন।

পানির নীচে নিমজ্জিত হওয়ায় বুধবার রাত থেকে কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল। বুধবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ও আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায়  নদীতে পানি কমতে থাকে। অন্যদিকে সড়ক থেকেও পানি নেমে গেলেও ২৫ গ্রামের ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তা এখনও নিমজ্জিত রয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয় মাঠে ৩/৪ ফুট পানি ঢুকে পড়ায় বৃহষ্পতিবার আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করা হয়। সকালে শতাধিক শিক্ষার্থী এসে পানির কারণে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। এছাড়া করিমপুর ও বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি প্রবেশ করে। পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় বুধবার রাত ১১টায় সড়ক কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। বৃহষ্পতিবার ভোওে পানি কমতে শুরু করলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এছাড়া ধলাই নদীর প্রায় ১৫টি স্থান সম্পূর্ন ঝুঁকিপূর্ন থাকায় আরও ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভানুগাছ বাজারের পাশে নতুন ব্রীজ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল থাকায় কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আং রহিম মুহিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডেও গাফিলাতির কারণে পৌরসভার গোপালনগর এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় অর্ধশত কাঁচ ঘর বিধ্বস্ত, মৎস্য খামার এর বিপুল পরিমান ক্ষতি সাধিত হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকা থেকে পানি নেমে সেখানকার পরিস্থিতি বেশ উন্নতি হয়। তবে এসব পানি এস আবার শমশেরনগর, মুন্সীবাজার ও পতনউষার ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের বোরো ফসলসহ গ্রাম্য রাস্তা ও ফসলি জমিতে প্লাবনের সৃষ্টি করে। সরেজমিন ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায় কমলগঞ্জে পৌরসভা এলাকার বাঁধের প্রায় ১৫টি স্থান সম্পূর্ন ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় আছে।

তাছাড়া কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধ খুবই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ বসত বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন দাস এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত ৬/৭ বছরে এ গ্রামের ১৫টি বসত ঘর ধলাই নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। প্রতি বছর বন্যা হলে বা নদীতে পানি বাড়লে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দিয়ে যান।

তার পর আর কোন খোঁজ থাকে না। এ দিকে গত কয়েক দিনের বর্ষণে কমলগঞ্জ উপজেলায় এ বছর আবাদকৃত ৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর বোরো ফসল সম্পূর্ণরুপে  প্লাবনের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। শমশেরনগর ইউনিয়নের বোরো চাসী সিদ্দিকুর রহমান, দুরুদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, বড় আশা করে এ বছর বরো চাষাবাদ করেছিলেন। তিন দফা পানিতে নিমজি হওয়ার সম্পূর্ণরুপে বোরো ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে যাবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শামছুদ্দীন আহমদ প্লাবেনর পানিতে বোরো ফসল নিমজিÍত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত পানি নেমে গেলে বোরো ফসলের একটি অংশ রক্ষা পেতে পারে। তবে যেসব জমিতে ধান বের হয়ে গেছে সেই ধান সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হয়ে যাবে। কি পরিমাণ বোরো ফসল সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হবে সে সম্পর্কে তিনি সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

তবে কৃষকরা আশাঙ্কা প্রকাশ করে বলেন সমূহ ফসলই বিনষ্ট হয়ে যাবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বুধবার রাতে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় ধলাই নদীতে পানি কমতে থাকায় ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তা থেকে পানি নামতে শুরু কওে পতনঊষার ইউনিয়ন ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলে কিছুটা অবনতি হয়েছে।

এ অবস্থার আরও উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৈতন্যগঞ্জ গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাঁধ মেরামতের ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। মূলত কাজ করতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজানের বাসায় তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাসার সামনে রাখা গাড়ি ও মোটরসাইকেল সহ বেশ কিছু যানবাহন ভাুচুর করেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি নেতা মিজানের সুবিদবাজারস্থ বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী ও মহানগরের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী সশস্ত্র ভাবে হামলা চালিয়ে এ ভাংচুর করে।

হামলাকারিরা এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল ও গুলি বর্ষণ করে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, হামলাকারীরা তিন তলা ভবনের দরাজা-জানালা ও গ্যারেজে রাখা দুটি পাজারো গাড়ি এবং তিনটি মোটরাসাইকেল ভাংচুর চালায়।

এসময় গ্যারেজের ভিতরে রাখা দুটি পাজারো গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ- ১১৭৯৪৮, ঢাকা মেট্রো গ- ১৪০১৯৫), তিনটি মোটরসাইকেল (সিলেট মেট্রো হ- ১৩৩০৫৭, সুনামগঞ্জ হ- ১১১৩৯৫, সিলেট হ ১১০৮০২৫) ভাংচুর চালায়। তিনি জানান, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাসার ভিতরে প্রবেশ করে বৈঠক ঘরেও ভাংচুর চালায়।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলেও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়নি বলে জানান তিনি। সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহাম্মদ জানান, তুষারের ওপর হামলার ঘটনার রেস ধরেই এঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সফরসঙ্গী হয়ে ভারত যাচ্ছেন সিলেটের বিশ্বনাথের ‘আফিয়া খানম ফিশারিজ’র স্বত্তাধিকারী রুবা খানম।

রুবা বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের রামধানা গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও আফিয়া খানম’ দম্পত্তির কন্যা। রুবা খানম শুক্রবার বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিআই’র এক বাণিজ্যিক সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সফরসঙ্গী হয়ে ভারত যাচ্ছেন।

রুবা খানম সিলেট উইমেন চেম্বার অফ কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সদস্য এবং এফবিসিসিআই’র জিবি মেম্বার। ভ্রমনকালে তিনি পিতা-মাতা’সহ উপজেলাবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থী।

0 14

হাসান হামিদ: উৎপাদন ও মানব বসতির দিক থেকে বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর  দেশ। প্রাচীনকাল থেকেই গোটা বাংলা ছিল একটি কৃষিনির্ভর সমাজ। এক সময়ে  বিশ্ববাজারে সমাদৃত দ্রব্যসামগ্রী ছিল বস্তুত কৃষিভিত্তিক গ্রাম-বাংলার অবদান।

প্রাচীনকালে, এমনকি মধ্যযুগেও কৃষকশ্রেণী ও শাসকশ্রেণীকে পৃথক করার মতো কোনো প্রতিষ্ঠিত  মধ্যবিত্ত শ্রেণি ছিল না। এমন কোনো শক্তিশালী শহুরে শ্রেণিও তখন ছিল না, যাদের সামাজিক অবস্থান দ্বারা জনগণকে গ্রামীণ ও শহুরে এবং ধনী ও দরিদ্র হিসেবে শ্রেণিবিভক্ত করা যেত।

ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানিদের মতে, তখন জনসাধারণ স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামে বসবাস করত, যদিও তারা সেকালে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্যমান সমাজের অনুরূপ স্বশাসিত সমাজের অস্তিত্ব বাংলায় ছিল বলে স্বীকার করেন না।

আমাদের এই কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষি আর কৃষক কেন এত অবহেলিত তা আমার মাথায় ধরে না। বিশাল জনবহুল এই দেশ যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হতে পারে তবে ভবিষ্যতে কি হবে তা এখনই অনুমান করা যায়। আর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে  সুনামগঞ্জের বোরো ফসল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

কিন্তু হাওরের বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়, আর সেসব দেখার কেউ নেই। এবছর ধানের দানা আসার আগেই জেলার ১১ উপজেলার প্রায় সব কয়টি হাওরের ফসল ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ-দুর্দশায় পড়েছেন জেলার ১৫ লাখ কৃষক। দিশেহারা কৃষকদের কেউ বাঁধ রক্ষায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত বাঁধেই কাটাচ্ছেন, কেউ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন, আবার কেউ কেউ হাওরপাড়ে বসে আফসোস করছেন।

এক ফসলি জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকদের বাঁচার সকল অবলম্বন হাওরকে ঘিরে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাঁধ নির্মাণ করার নামে পিআইসির মাধ্যমে পাউবো পুকুরচুরি করেছে। ফলে জেলার হাওরগুলোর বাঁধরক্ষার কাজ সময়মতো শুরু না করায়, ঠিকমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়াতে আজকের এই পরিণতি। কে এসবের জন্য দায়ী তা সবাই জানে।

কিন্তু আর কতোদিন? কেনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই খাত নিয়ে এমন অবহেলা? কেনো আজ অভুক্ত থাকার দৃশ্য ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপরাধ কৃষকের স্বপ্নে টানা জীবন তারে। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরগুলোর বাঁধরক্ষার কাজ দুইভাবে করে থাকে।  বড় বাঁধগুলো স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকল্প করে নির্মাণ করা হয়।

বেড়িবাঁধগুলো ঠিকাদারদের মাধ্যমে নির্মাণ হয়ে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ও অনিয়ম, অন্যদিকে ঠিকাদাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং কোথাও কোথাও নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করায় কৃষকের  ফসল তলিয়ে যায়। প্রতিবছর হাওর রক্ষা বাঁধ শুরুর আগে পাউবো’র মাঠ কর্মকর্তারা তাদের নিজেদের মতো হাওর পরিদর্শন করে প্রাক্কলন প্রস্তুত করেন।

কোথায় কাজ হবে, কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করে জেলা কার্যালয় থেকে প্রধান অফিসে প্রেরণ করা হয়। প্রধান অফিস কাটছাঁট করে বরাদ্দ নির্ধারণ করে এবং  জেলা কার্যালয়কে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্যাদেশ প্রদান করেন এবং পিআইসি গঠনের জন্য অনুমতি প্রদান করেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি পিআইসিতে মাননীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক তিন জন সদস্য মনোনীত করা হয় এবং উপজেলা  চেয়ারম্যান কর্তৃক একজন সদস্য মনোনীত করা হয়। মূলত এই সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, লবিং, গ্রুপিং দেখা দেয়। পাউবো কর্তৃপক্ষ এই সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য ও মনোনীত ব্যক্তিদের সমন্বয় করতে অনেক সময় পার করে দেয়। এই সুযোগে সুবিধাভোগীরা কলাকৌশলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তারা প্রভাব বিস্তার করে কমিটির মূল দায়িত্ব, কর্তব্যের  ধারে-কাছে না গিয়ে প্রকল্প থেকে কিভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া যায় তার ধান্ধায় থাকে। যথাসময়ে কমিটিকে কাজ বুঝিয়ে না দিতে পারা এবং সময়মতো কার্যাদেশ প্রদান করতে প্রতিবছরই পাউবো কর্মকর্তারা ব্যর্থ হয়। আর তার পরিণতিতে আজকের এই অবস্থা। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি থাকলেও কাজের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি মূল্যায়নে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

কোন কমিটিকে কাজের বিল দেয়া হবে,  কারা কতটুকু কাজ করেছে তা যদি অন্তত ইউএনওদের স্বাক্ষরে অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে সেখানে কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতো। পাউবো উপজেলা বা জেলা কমিটির কোনো অনুমোদন না নিয়েই নিজেরা নিজেদের মতো পরিশোধ করে।

নিজেরা প্রকল্প কমিটির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কমিশনের বেড়াজালে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বন্দি করে। এভাবে যখন কাজ শুরু হয়, তখন তাড়াহুড়ো  করে টেকসই কাজ না করে কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে বিলের পেছনে দৌড়তে হয়। এভাবে কোনো যথাযথ তদারকি আর সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর দুর্ভোগ নেমে আসে অসহায় কৃষকদের মাঝে।

এসব কাজ করুক আর না করুক পাউবো কর্তৃপক্ষ সহ মধ্যসত্বভোগীদের চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকতে হয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। এভাবে কোনো যথাযথ তদারকি আর সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর দুর্ভোগ নেমে আসে অসহায় কৃষকদের মাঝে। কৃষকরা সব হারিয়েও হয়তো আন্দোলনে নামবে না। তবে আমাদের মনে রাখা দরকার, বাংলার কৃষকরা দুর্বল নয়।

উনিশ শতকের সত্তরের দশক ও পরবর্তীকালের কৃষক আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মতৎপরতার কথা আমরা জানি। কৃষকদের অব্যাহত আন্দোলন এবং তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন ঔপনিবেশিক সরকারকে সেসময় উদ্বিগ্ন করে তোলে। সরকার উপলব্ধি করে, কৃষকদের দাবিদাওয়া পূরণ না করলে, অচিরেই সরকারের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেবে।

ফলত সরকার ১৮৮৫ সালের বাংলার প্রজাস্বত্ব আইন দ্বারা তাদের অধিকার  অনেকাংশে প্রতিষ্ঠিত করে। উনিশ শতকের ঘটনাবলি বাংলার কৃষকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটায়। শহরভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলির কৃষক-শাখা অতঃপর কৃষকদের স্বার্থরক্ষার আন্দোলন শুরু করে। নির্বাচনের রাজনীতিতে কৃষকেরা তাদের নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণেও একটি নিয়ামক শক্তি হয়ে ওঠে।

ভারত বিভাগের আগে কৃষক আন্দোলনগুলিতে স্বভাবতই সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ ঘটে। কিশোরগঞ্জ ও অন্যান্য স্থানে কৃষক আন্দোলনে তারই প্রমাণ পাওয়া যায়। বঙ্গভঙ্গের অব্যবহিত পূর্বে  তেভাগা,  নানকার, টঙ্ক প্রভৃতি সকল আন্দোলনই ছিল বহিরাগত ভাবধারায় প্রভাবিত। এ পর্যায়ে বামপন্থি নেতৃত্বের দ্বারা কৃষকদের আদর্শ ও রণকৌশল নির্ধারিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ এবং ১৯৫১ সালে পূর্ববাংলার জমিদারি প্রথা বাতিল হওয়ার পর কৃষক আন্দোলনের আরও চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটে।

ভূমিসংস্কার ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং গ্রামীণ সমাজের রাজনীতিকরণের মাধ্যমে কৃষকদের অভাব অভিযোগ প্রশমনের রাষ্ট্রীয় নীতি কৃষক আন্দোলনের চিরায়ত রূপকে একটি অতীত ঘটনায় পর্যবসিত করেছে।

একজন কৃষক তার ফসলের গল্প বলে যে আনন্দ পান, আর কিছুতে তিনি তা পান না। কৃষক ফসল ফলান বলেই আমরা তা খেয়ে জীবনযাপন করি। কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। তাই নীতিমালা সংশোধন করে বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে মন্ত্রণালয়কে ভাবতে হবে।

কোন প্রক্রিয়ায় কাজ টেকসই হবে, কোন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন সুরক্ষিত থাকবে তা ঠিক করা প্রয়োজন। হাওর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরামর্শ করে স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকের জন্য বরাদ্দের অংশটুকু নিয়ে যেনো আর লুটপাটের মহোৎসব না হয়। (লেখক:- গবেষক সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

0 3

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানসিক রোগে আক্রান্তদের যথাযথ সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে সমাজের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক রোগীকে অবজ্ঞা ও অবহেলা না করে বিজ্ঞানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ ব্যাপারে জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক রোগের মধ্যে বিষণ্নতাজনিত সমস্যা অন্যতম। তিনি বলেন, যুগোপযোগী স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০১৭ পালন করা হচ্ছে জেনে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং এ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বাড়িগুলোর দিকে নজর দিয়েছে পুলিশ। সিলেটে ‘লন্ডনি বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত এসব বাড়িতে কারা থাকছেন, কতোদিন ধরে থাকছেন কিংবা বাড়িগুলো ছেড়ে কারা যাচ্ছেন- এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সিলেটের পুলিশ।

সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলছেন, ‘বিত্তশালী প্রবাসীরা তাদের নিজ নিজ গ্রামে সুউচ্চ অট্টালিকা, বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তোলেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব কাউকে দিয়ে প্রবাসীরা দেশ ছাড়েন।

দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লোকদের কাছ থেকে এসব বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বৃহত্তর সিলেটের প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করে ‘সিলেট ওভারসিজ সেন্টার’। এই সেন্টারের দেওয়া তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

এই প্রবাসীদের বড় একটি অংশের বাস যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে। এই প্রবাসীদের সিংহভাগই কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিলেটের নিজের গ্রামের বাড়িতে সুরম্য অট্টালিকা কিংবা বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছেন, করছেন। ওভারসিজ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ৫২.৪ শতাংশই বাড়ি নির্মাণ খাতে ব্যয় হচ্ছে।

বাকি অর্থের মধ্যে কৃষি জমি ক্রয়ে ১৩.১ শতাংশ এবং অকৃষি ও ব্যবসায়িক খাতে ১২.২ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন প্রবাসীদের সংখ্যা বেশি। সামসুল আলম জানান, সিলেটজুড়ে প্রবাসীদের বাগানবাড়ি, অট্টালিকা বা সুউচ্চ ভবন রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি।

এসব বাড়ি, অট্টালিকা বা ভবন তৈরীতে এক থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারে প্রবাসীর দুটি বাড়িতে ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। বৃহত্তর সিলেটজুড়ে প্রবাসীদের বাড়িগুলোর ব্যাপারে শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। বিশেষ করে, যেসব প্রবাসীদের বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের অবস্থান, সেসব বাড়িগুলোর ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পুলিশ।

এক্ষেত্রে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। ‘সিলেটের প্রবাসীদের বাড়িগুলো গ্রামে। আবার বাড়িগুলোর অবস্থান অনেকটা নিরিবিলি জায়গায়। এজন্য এসব বাড়িগুলোকে বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।’ বলছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা।

সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রবাসীদের বাড়িগুলো কারা ভাড়া নিচ্ছে, কারা থাকছে, কারা যাচ্ছে- এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। বাড়িগুলোর উপর নজরদারিও করা হচ্ছে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের কেউ জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: বরখাস্তের তিন দিন পর ফের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) দায়িত্ব নিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগর ভবনে গিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন তিনি।

নগরীর কুমারপাড়াস্থ নিজ বাসা থেকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নগর ভবনে যান সিসিক মেয়র আরিফ। নগর ভবনে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরিফকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান মেয়রের চেয়ারে বসে আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছিল, তার বিচার আমি পেয়েছি।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে মেয়রের চেয়ারে বসেছি আমি। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে চেয়ারে বসতে পেরেছি এটা ভালো লক্ষণ। আশা করি জন প্রতিনিধিদের হয়রানীমুক্ত রাখতে সরকার উদ্যোগ নেবে। যে আইনের বলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বারবার হয়রানী করা হচ্ছে, এটি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়।

বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকরা ভাববেন আশা করছি। এর আগে, গত রবিবার শোডাউন করে নগর ভবনে ফিরে মেয়রের চেয়ারে বসেছিলেন আরিফ। তবে পৌনে তিন ঘন্টার মাথায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলার মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় আরিফকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

পরদিন উচ্চ আদালতে মন্ত্রণালয়ের আদেশের বিরুদ্ধে রিট করেন আরিফ। আদালত মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সে আবেদন আজ বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে মেয়রের চেয়ারে বসতে আরিফের সামনে কোনো বাধা ছিল না।

0 167
গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘সিলেট নগরীতে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডের আবেদন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত...

0 526
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট জেলার সদর উপজেলার ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পুর্ব শাপলাবগ এলাকায় জাল দলিল বানিয়ে একজনের জায়গা অন্যজনের...