সিলেটজুড়ে প্রবাসীদের বাড়ির দিকে পুলিশের নজর

0
343

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বাড়িগুলোর দিকে নজর দিয়েছে পুলিশ। সিলেটে ‘লন্ডনি বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত এসব বাড়িতে কারা থাকছেন, কতোদিন ধরে থাকছেন কিংবা বাড়িগুলো ছেড়ে কারা যাচ্ছেন- এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সিলেটের পুলিশ।

সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলছেন, ‘বিত্তশালী প্রবাসীরা তাদের নিজ নিজ গ্রামে সুউচ্চ অট্টালিকা, বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তোলেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব কাউকে দিয়ে প্রবাসীরা দেশ ছাড়েন।

দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লোকদের কাছ থেকে এসব বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বৃহত্তর সিলেটের প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করে ‘সিলেট ওভারসিজ সেন্টার’। এই সেন্টারের দেওয়া তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

এই প্রবাসীদের বড় একটি অংশের বাস যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে। এই প্রবাসীদের সিংহভাগই কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিলেটের নিজের গ্রামের বাড়িতে সুরম্য অট্টালিকা কিংবা বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছেন, করছেন। ওভারসিজ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ৫২.৪ শতাংশই বাড়ি নির্মাণ খাতে ব্যয় হচ্ছে।

বাকি অর্থের মধ্যে কৃষি জমি ক্রয়ে ১৩.১ শতাংশ এবং অকৃষি ও ব্যবসায়িক খাতে ১২.২ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন প্রবাসীদের সংখ্যা বেশি। সামসুল আলম জানান, সিলেটজুড়ে প্রবাসীদের বাগানবাড়ি, অট্টালিকা বা সুউচ্চ ভবন রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি।

এসব বাড়ি, অট্টালিকা বা ভবন তৈরীতে এক থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারে প্রবাসীর দুটি বাড়িতে ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। বৃহত্তর সিলেটজুড়ে প্রবাসীদের বাড়িগুলোর ব্যাপারে শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। বিশেষ করে, যেসব প্রবাসীদের বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের অবস্থান, সেসব বাড়িগুলোর ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পুলিশ।

এক্ষেত্রে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। ‘সিলেটের প্রবাসীদের বাড়িগুলো গ্রামে। আবার বাড়িগুলোর অবস্থান অনেকটা নিরিবিলি জায়গায়। এজন্য এসব বাড়িগুলোকে বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।’ বলছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা।

সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রবাসীদের বাড়িগুলো কারা ভাড়া নিচ্ছে, কারা থাকছে, কারা যাচ্ছে- এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। বাড়িগুলোর উপর নজরদারিও করা হচ্ছে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের কেউ জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here