ঋতু পরিবর্তনের কাল রোগ সংক্রমণের কাল

0
242

সিলেটের সংবা্দ ডটকম: প্রতি মৌসুমেই দেখা দেয় সিজনাল রোগব্যাধি। সাধারণত আবহাওয়ার পরিবর্তনজনীত কারণে নানা ধরনের রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। এখন গরমকাল চলে এসেছে।

এ সময় ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। প্রতি বছরই এমনটি হয়। তবে, এ বছর আগেভাগেই গরম চলে এসেছে। সংগত কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপও গত বছরের চেয়ে একটু আগেই দেখা যাচ্ছে।

গরম এবং পানিবাহী ব্যাকটেরিয়ার কারণে এ সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবার, মফস্বলের চেয়ে শহুরে জনপদগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার ও সংখ্যা বেশী। এর পেছনের কারণ হচ্ছে ভেঙ্গে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, দূষিত খাবার পানি এবং অপর্যাপ্ত সেনিটেশন ও বর্জ্যব্যবস্থাপনা।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। সাধারণত প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয় এপ্রিল-মে’তে। কিন্তু এ বছর মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারনা, বৃষ্টি হলে এ ব্যাপারে স্বস্থির খবর আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই শিশু। আবার উচ্চবিত্তদের তুলনায় মধ্য এবং নি¤œবিত্ত রোগী বেশি। বিশুদ্ধ পানি পান না করা, বাসি-পচা খাবার খাওয়া এবং সঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবই ডায়রিয়ার মূল কারণ। এক সময় বাংলাদেশে কলেরা বা উদরাময় মহামারী আকারে দেখা দিত। কয়েক দিনের ব্যবধানে মারা যেতো হাজার হাজার মানুষ।

কলেরার কারণে বহু জনপদ জনশূন্য হয়ে গেছে। তখন খুব কম মানুষই স্বাস্থ্যসচেতন ছিলেন। আবার কলেরার ওষুধের সহজলভ্যতা যেমন ছিল না, তেমনি কলেরা সম্পর্কে জনমনে কুসংস্কারপূর্ণ ধারনা ছিলো। জনগণের খাদ্যাভ্যাস ছিলো না বিজ্ঞানসম্মত। দারিদ্র্যের কারণে খাদ্যাভাব, পচা ও বাসি খাবার গ্রহণ, উন্মুক্ত জলাশয়ের দূষিত পানি পান করা এবং ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবেই মূলতঃ ডায়রিয়া ও কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিত।

এখন মানুষ অনেক স্বাস্থ্যসচেতন হয়েছে, সহজলভ্য হয়েছে ডায়রিয়ার ওষুধ ও চিকিৎসা। খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। এখন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সেনিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় ডায়রিয়ার মত পানিবাহিত রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও সেনিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সামাজিক সচেতনতা ও উদ্যোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ফলশ্রুতিতে কলেরার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে, গরমজনিত ও অন্যান্য কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে কলেরার জীবাণু বহন করছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ জন্যে অনিরাপদ পানি এবং অপর্যাপ্ত ও ত্রুটিপূর্ণ সেনিটেশন ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত হবে, ডায়রিয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়া। সচেতন হলে এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। একইসঙ্গে সুচিকিৎসাও অবারিত করতে হবে। ভেজাল ও বিষযুক্ত খাবারের বিপণন বন্ধে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ থাকলেও কার্যত এখনও ভেজালকারীদের দৌরাত্ম বন্ধ করা যায়নি।

কনটেমিনেটেড খাবার ও পানীয়র মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। আবার মুনাফাশিকারী চক্র খাবার স্যালাইন ও ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ও মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার অভিযোগও আছে। এতে অসচেতন ও অসহায় মানুষজন চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ ধরনের চিত্র কোনো মতেই কাম্য হতে পারে না।

(Visited 11 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here