Daily Archives: Apr 9, 2017

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনসহ তার পরিবারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিবাগত রাতে চেয়ারম্যান’র নিজ গ্রাম আমতৈল বাজারে এক বিচার বৈঠক থেকে এ ঘোষণা করা হয়।

সেই সাথে আমতৈল গ্রামের হারুণ মিয়া ও জমসেরপুর গ্রামের সামছুল ইসলাম’র পরিবারকেও অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন বৈঠকে উপস্থিত লোকজন। বৈঠকে আমতৈল, জমসেরপুর ও মাখরগাঁও গ্রামের কয়েক শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এনিয়ে এলাকায় টানা টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় একমাস ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারে একটি শুটকির দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে এ দ্বদ্ধের সৃষ্টি হয়।

ওই দোকানটি আমতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব সম্পত্ত্বি হিসেবে প্রায় ৪০বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চায়েতের নির্ধারিত বিশ্বনাথ পুরাতন বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ওই দোকানে ২০বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন আমতৈল গ্রামের হারুণ মিয়া।

এতে প্রতিমাসে ৪হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করেও আসছিল। এর পূর্বে আমতৈল জমসের পুর গ্রামের সামছুল হক’ও ওই দোকানে ব্যবসা করেন। তিনি প্রায় ২০বছর পূর্বে হারুণ’র কাছে দোকানটি বিক্রি করে ব্যবসা ছেড়ে দেন। কিন্তু হারুণ মিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অথবা ওই মৎস্য সমিতির কাউকে না জানিয়ে মার্চের প্রথম দিকে বিশ্বনাথ পুরাতনবাজার বণিক সমিতিরি সাবেক সভাপতি আরশ আলীর কাছে দোকানটি বিক্রি করে দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে আমতৈল গ্রামবাসী ও মৎস্য সমিতির লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। এনিয়ে আমতৈলবাজরে বেশ কয়েকটি বিচার বৈঠক হয়। সর্বশেষ অভিযুক্তদের নিয়ে শুক্রবার রাতে চেয়ারম্যান আলমগীর সমন্বয়ে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আলমগীর ওই বিচার বৈঠকে অভিযুক্তদের হাজির না করে পুলিশ নিয়ে বৈঠকে বাঁধা সৃষ্টির অভিযোগে উপস্থিতি লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

এসময় উপস্থিত শত শত লোকজন চেয়ারম্যানর বিরোদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পুলিশ ও চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান’সহ তিনটি পরিবারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাই মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান’র বাবা আবুল বশর অভিযুক্তদের সাথে আতাত করে তাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আসছেন। তাই চেয়ারম্যান কৌশলে বৈঠক বানচাল করতে পুলিশ নিয়ে উপস্থি হন।

এজন্য তাদেরকে স্থানীয়ভাবে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন বলে তারা জানান। ওই বৈঠকের তারিখ তার সমন্বয়ে করা হয়েছে স্বীকার করে চেয়ারম্যান আলমগীর বলেন, তার বিরোদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় ইমাম উদ্দিন মেম্বারকে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান না করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উঠেছেন। সুত্র:- বাংলা পেইজ ডটকম

তোফায়েল আহমদ: লিবিয়া থেকে ইতালী যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ রয়েছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলে্জের ছাত্র রুহুল আমীন (২৫)। সে বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউপির নন্দিরফল গ্রামের শওকত আলী ছখর এর কনিষ্ঠ পুত্র।

সে  বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে সদ্য বিএ পাশ করে বেরিয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যুঝুকি জেনেও অনেকে পাড়ি জমাচ্ছেন লিবিয়ায়, লিবিয়া হয়ে ইতালীতে ঢুকা যাত্রীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর লাশের মিছিলে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে কয়েকটি নাম।

আরো কতো নাম থাকবে ভবিষ্যতে সে তালিকায় আজো বিয়ানীবাজারবাসীর অজানা। গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে ইতালী যাওয়ার পথে নৌকাডুবি ও মাফিয়াদের গোলাগুলির কারনে বিয়ানীবাজারের ইমরান ও লিটনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

একই দিন হতে বিয়ানীবাজারের অনেককেই ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে উদ্ধার করে লিবিয়ান কোস্টগার্ড। অনেকেই এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। পরিবার থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছেন আসলেই সে কোথায়।

এখন পর্যন্ত তার সাথে কথা বলে নিশ্চিত হতে পারেননি সে বেচে আছে কিনা, তবে তারা হাল ছাড়েননি। তার ভাই দলিল লেখক নাজিম উদ্দিন জানান, এখোনো সে নিখোঁজ, কোনো সন্ধান তারা পাননি, এখোনো আশায় আছেন পরিবারের সদস্যরা সে ফোন করবে। তারা রুহুল মারা গেছে এ কথা এখন পর্যন্ত মানতে নারাজ। শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন লিবিয়া যাত্রীর অভিভাবক জানান, রুহুল আমীন সাগর থেকে ফিরে আসেননি, উদ্ধারকৃত কোস্টগার্ডের কাছে রুহুল আমীন নামের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।তারা অনেকেই নিশ্চিত যে রুহুল বেচে নেই। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে হঠাৎ করে বাংলাদেশী মানবপাচারকারি সদস্যরা লিবিয়াকে রুট করে সমুদ্রপথে ইতালী পৌছানোর রমরমা বানিজ্য শুরু করে।

প্রবাসী অধ্যুসীত বিয়ানীবাজারের তরুনরা কোনো বৈধ উপায়ে ইউরোপ যাওয়ার রাস্তা না পেয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়েই লিবিয়ামুখী হচ্ছেন এবং অনেকেই ইতিমধ্যে লিবিয়া হয়ে স্বপ্নের ইউরোপের দেশ ইতালীতে পাড়ি জমিয়েছেন। গত নভেম্বরে বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউপির রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র হাফিজ হোসাইন আহমদ (২০) লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালী যাওয়ার পথে ট্রলারডুবিতে নিহত হয়েছেন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, গত বছর ১ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছে। আর জাতিসংঘ বলেছে, ২০১৬ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সুত্র:- বিয়ানীবাজার টাইমস

মো. হাফিজুর রহমান: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা সার্বিক পরিস্থিতির পরিচালনার স্বার্থে তদারকি করে থাকেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস.এম রোকন উদ্দিন।

অসৎ পুলিশ দেখতে দেখতে আমরা এতোটাই অভ্যস্ত, সৎ আর কাজের পুলিশ দেখলে আতকে উঠি। এই সমাজে বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে শতভাগ স্বচ্চ থাকা, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক থাকা যে সম্ভব, আপনাকে না দেখলে, কাছ থেকে না জানলে অজানাই থেকে যেতো।

এই করাপটেড, লোভি, উচ্চাভিলাসী সমাজে আপনি একটি দৃষ্টান্ত। দায়িত্বকে আপনি দায়িত্ব ভেবেছেন। কিন্তু আমরা এটা দেখে অভ্যস্ত যে আমাদের রাষ্ট্রীয় অফিসে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ নিজেকে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত’ ভাবেন। আপনি ব্যতিক্রম। কিভাবে সম্ভব এটা? সম্প্রতি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের সন্ধান পায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

আর সেখানে দৈনন্দিন কার্য হিসেবে গাড়ী যুগে যাচ্ছিলেন রোকন উদ্দিন স্যার। হঠাৎ পথিমধ্যে লক্ষ্য করলেন একটি মাদ্রাসা পড়োয়া ছাত্রী গাড়ীর ভয়ে রাস্তা পার হতে পারছে না। অনেকক্ষণ যাবত ভয়ে দাড়িয়ে আছে। তাৎক্ষণিক তিনি গাড়ী থামিয়ে, নেমে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন “মা” ভয় পেওনা, আংকেল আছি, আমার হাতটা শক্ত করে ধরো, তোমাকে রাস্তা পার করে দিচ্ছি।

রাস্তা পার হবার আনন্দ মেয়েটির চোখে, মুখে আচ করা যাচ্ছিল। মেয়েটি হাসি-মুখে আংকেলকে ‘থ্যাংক ইউ’ বলে চলে গেল। আর তখনি সেই এলাকায় অবস্থান করা দৈনিক কালের কণ্ঠের আলোকচিত্রি আমিন রাব্বী দূশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পুলিশের উধ্বর্তন একজন কর্মকর্তার এমন ঘটনা তো দুর্লভ ঘটনা। এরকম শতশত দৃশ্য আমরা রাস্তাঘাটে পুলিশ এর দেখতে পাই। কিন্তু কালো চশমা পরিধানের কারণে তাঁদের (পুলিশ) প্রতিনিয়ত মানবসেবা মূলক কাজগুলো আমাদের চোঁখে পড়ে না।

কবি সেজুল হোসেন বলেন- নগরে থাকলে কী হবে, নগরের মানুষের ভাষা বুঝি না। তারাও বোঝে না আমায়। অথচ গ্রাম থেকে আসা একটা মানুষের প্রশ্বাসের ধ্বনিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গল্প পড়তে পারি। কি হবে আমার এই নাগরিক ভুল জীবন নিয়ে? মানবকল্যাণে তৃপ্তি পান দেহমনে! পুলিশ হবে জনবান্ধবময় এটাই উনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। এই দেশে পুলিশ বিভাগে একজন করে যদি রোকন উদ্দিন থাকে, দেশ বদলে যাবে। লেখক: পুলিশ সদস্য

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। ফলে তার ফাঁসি কার্যকরে আর কোন বাধা রইলো না।

এখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই জেলকোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নিতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ। রোববার (৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, তার সহযোগি শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, রাষ্ট্রপতি জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বলে আমরাও শুনেছি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর কারা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ৩ জঙ্গির মধ্যে বাকি দুজন বন্দি আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। এদিকে, রোববার দুপুরে জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শিশু, নারী ও পুরুষসহ প্রায় ১২ জন রিপনের সঙ্গে দেখা করে ২৫ মিনিট কথা বলেন।

এসময় রাষ্ট্রপতি তার প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়। কারা সূত্রে জানা গেছে, রিপনকে সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। ফাঁসির আদেশ পাওয়ার পর পরই যাতে তা কার্যকর করা যায়, সেজন্য ফাঁসির মঞ্চ ও কারাগারের ৮-১০ জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি।

এ ঘটনায় আহত হন আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন খারিজ করে দেন।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: শায়েস্তাগঞ্জে কলি আক্তার (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তার মা লিলিমা হক শিমু (২৬) কে ছুরিকাঘাত করেছে একদল বখাটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  শনিবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

আহত কলি আক্তার শায়েস্তাগঞ্জের চরহামুয়া নোয়াবাদ গ্রামের এমদাদুল হকের কন্যা। সে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াবাদ গ্রামের এমদাদুল হকের কন্যা কলি আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার লেঞ্জাপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র সাইফুর রহমান হিরকের।

দীর্ঘদিন প্রেমের পর গত কয়েক মাস আগে তারা বিয়ে করতে রাজি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে কতাবার্তা হলে কলি মা ও তার আত্মীয় স্বজন বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে কলি ও হিরক কোর্টে এসে গোপনে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে থাকে। সম্প্রতি বিয়ের পর মাস পেরুতে না পেরুতেই তাদের মধ্যে মনমালিন্য শুরু হয়। এক পর্যায়ে কলি হিরককে ডিভোর্স দিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে আসে।

যা নিয়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এদিকে, কলি আক্তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায়  উল্লেখিত সময়ে শায়েস্তাগঞ্জ জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ হতে পরীক্ষা দিয়ে তার মায়ের সাথে করে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে হিরক মিয়া ও তার সহযোগীরা তাদের গতিরোধ করে। পরে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তাদেরকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে।

বিষয়টি আচ করতে পেরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, তারা দুই জন স্বামী স্ত্রী। যা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ ঘটনাটি ঘটেছে। তবে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালচ্ছে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটে যৌতুক দাবি মেটাতে না পারায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তিন সন্তানের জননী নির্যাতিত হোসনেআরা বেগম (২৫) গোয়াইনঘাট উপজেলার কাকুনাখাই গ্রামের ইব্রাহীম আলী ডুমাইয়ের মেয়ে ও একই গ্রামের সায়েদ আহমদের স্ত্রী।

এ ঘটনায় সিলেটের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রোববার সিলেটের সমাজসেবা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ, গোয়াইনঘাট উপজেলার কাকুনাখাই গ্রামের আবু বকরের পুত্র সায়েদ আহমদের সাথে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল বিয়ে হয় হোসনেআরার।

বিয়ের পর কয়েকদিন সুখেই ছিল তার সংসার। পরবর্তীতে স্বামী মাদকসেবী ও পরনারী মূখী হয়ে হোনেআরার বিয়েকালীন দেয়া উপহার সামগ্রী বিক্রি করে ফেলে। একপর্যায়ে স্বামী সায়েদ আহমদ ও তার স্বজনরা দোকানের নামে হোসনেয়ারার কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় হোসনেআরার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।

যৌতুক দাবিতে গত ২১ জানুয়ারী হোসনেআরাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে স্বামী সায়েদ ও তার স্বজনরা। সন্তানদের দিকে চেয়ে এ পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর ঘর আঁকড়ে ধরে রাখেন হোসনেআরা। গত ২৫ মার্চ রাতে যৌতুক দাবিতে স্বামী সায়েদ ও তার স্বজনরা হোসনেয়ারার উপর আবারো চালায় অমানুষিক নির্যাতন।

পরদিন সকালে তিনসন্তানসহ গুরুতর আহত হোসেনয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন স্থানীয় মেম্বার ও পিত্রালয়ের লোকজন। এর পর থেকে গৃহবধু হোসেনেআরা তিন সন্তান নিয়ে তার পিত্রালয়েই অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সে মোতাবেক হোসনেআরা ৩ এপ্রিল সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশা মামলা (নং-২৮৮/১৭) করেন।

মামলায় হোসনেআরা তার স্বামী সায়েদ আহমদ, দেবর সহিদ আহমদ, শশুর আবুবক্কর ও চাচা শশুর রহমত আলীকে আসামী করেন। আদালত মামলা গ্রহণপূর্বক তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিলেটের সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা বারের অ্যাডভোকেট মো. মনজুর কাদের।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের জৈন্তাপুরে নিখোঁজের ২দিন পর পুকুর হতে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর উত্তর বাগেরখাল গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে হারুনুর রশিদ (২০) ভ্যানগাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

সে উপজেলার ঠাকুরের মাটি (ঘাটের ছটি) এলাকায় সৌদী আরব প্রবাসী সফি উল্লাহর নির্মাণাধীন ভবনের কেয়ার টেকার উত্তর বাগেরখাল গ্রামের আব্দুল জলিলের সাথে ভবনে একসাথে বসবাস করে আসছে। গত ৭ এপ্রিল হারুন ভ্যান গাড়ী চালিয়ে রাত্রী যাপনের জন্য সৌদী আবর প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে আসে, এরপর হতে হারুন নিখোঁজ রয়েছে।

অপরদিকে নিখোঁজ হারুনের ভ্যানগাড়ীটি গত ৮ এপ্রিল শনিবার সকালে কেয়ার টেকার আব্দুল জলিলের কাছ নিয়ে যায় মনির নামের এক ব্যক্তি। এদিকে ৯ এপ্রিল রবিবার সাকাল ১০টার দিকে ঘাটেরছটি আইসক্রীম ফ্যাক্টরির সন্নিকটে পুকুরের মধ্যে স্থানীয় জনতা নিখোঁজ হারুন রশিদের লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ জৈন্তাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। দুপুর ১২টায় জৈন্তাপুর থানা পুলিশ নিহত হারুন রশিদের লাশ উদ্ধার করে।

এসময় সৌদীআবর প্রবাসী সফি উল্লাহর নির্মানাধীন ভবনের কেয়ার টেকার আব্দুল জলিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন  নিহতের পরিবারের পক্ষ হতে অভিযোগ পেলে মামলা হিসাবে রের্কড করা হবে। লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে অধিকতর তদন্তের জন্য হারুনের লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

0 123

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির ক্ষণ গণনায় থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হুজি নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি যেকোনো মুহূর্তে কার্যকর হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ হাতে পেলেই দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেলে গাজীপুরে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ কর্তৃপক্ষের মধ্যেমে কারাগারে এলে এবং নির্দেশনা পেলেই কারা বিধি মোতাবেক হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

রোববার বিকেল পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকরের আদেশ হাতে এসে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি। কাশিমপুর কারা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু করা হয়। জল্লাদদের নামের তালিকা তৈরি করে তাদের ফাঁসির মহড়া দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ কারাগারে ফাঁসির অপেক্ষায় থাকা মুফতি হান্নান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি শরিফ শাহেদুল আছেন। মামলার অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন আছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। এ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আপিল না করায় তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে। উচ্চ আদালতের আপিল শুনানি ও রিভিউ খারিজের পর তাদের ফাঁসি কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই।

মার্চের শেষ সপ্তাহে দুই ধাপে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেন। তবে শনিবার রাতে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন।

এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। এ ঘটনায় ২০০৪ সালের ২১ মে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এক সময় জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতৃত্বদানকারী মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলার অভিযোগ ছাড়াও নাশকতার অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ একশ’রও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনায় নাম এসেছে তার। অন্তত ১৩টি মামলায় তার বিচার চলছে। ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সভামঞ্চের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় করা মামলায় মুফতি হান্নানের নাম আসে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাতেও তিনি জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে এসব অভিযোগে মামলা হয়। ২০০৭ সালের ৭ জুন মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ, শরীফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ৩১ জুলাই চারজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরের বছর আবু জান্দালকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যায়। এ ছাড়া আসামিরা আলাদা আপিল করেন। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে এই ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শুরু হয়।

তিন দিনে রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপন শেষ করে। এরপর ছয় দিন ধরে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ, মোহাম্মদ আলী ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর। ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হয়।

0 16

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সংসদের ফ্লোরে এমপিদের (সংসদ সদস্য) অসংসদীয় ভাষা বন্ধ হওয়া উচিত।

ভাষা প্রয়োগে তাদের আরও বেশি সচেত হওয়া উচিত। ট্রান্সপারান্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণাপত্র ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’-এ এমপিদের অশ্লীল ও অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে রোববার স্পিকারের মতামত চাওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের নিজ কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি দশম সংসদের সপ্তম থেকে ১৩তম অধিবেশন পর্যন্ত সংসদের বাইরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে দুই হাজার ১০১ বার এবং সংসদের ভেতরে ৪৩৩ বার বিভিন্ন কটূক্তি, আক্রমণাত্মক, কটু ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়।

যা বিধিসম্মত নয়। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় স্পিকার নিরব ভূমিকা পালন করেন। এ বিষয়ে সিপিএ’র (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন বলেন, ‘টিআইবি জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার জন্য যদি কোনো সুপারিশ করে সেগুলো আমরা অবশ্যই বিবেচনা করব।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে কী বলবেন, সেটা একান্তই তাদের বিষয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কথা না বলেন ততক্ষণ পর্যন্ত তো বোঝা যায় না তারা কী বলছেন। তবে কার্যপ্রণালীবিধির বাইরে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার হলে অবশ্যই আমরা ইন্টারফেয়ার করি এবং বলি আপনি ২৭০ বিধি অনুসরণ করে বক্তব্য দিন।

পরবর্তীতে এক্সপাঞ্জ করার অধিকার তো আমার আছেই। সংসদ অধিবেশন কক্ষে না বললেও আমরা কিন্তু পরবর্তীতে এক্সপাঞ্জ করি। এটা অনেকেই জানেন না। ‘অনেকে মনে করেন সংসদ অধিবেশন কক্ষে এক্সপাঞ্জ যদি না বলি তাহলে হয়তো এক্সপাঞ্জ হয় না। বিষয়টি কিন্তু সেরকম নয়। আমরা কিন্তু পরেও এটি এক্সপাঞ্জ করি। সেটা করার ক্ষমতা আছে। সেটা করাও হয়।

কাজেই সব সময় সেখানে এক্সপাঞ্জ একপাঞ্জ না বললেও এক্সপাঞ্জ হয়’ বলেন স্পিকার। তিনি আরও বলেন, ‘তারা (সংসদ সদস্যরা) কিভাবে বক্তব্য দেবেন এ ব্যাপারে তাদের আরও সচেতন হতে হবে। তবে আগের তুলনায় এ অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন কিন্তু ওভাবে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয় না। একেবারে নিম্নপর্যায়ের গালাগালি এখন আর হয় না।

স্পিকার বলেন, ‘একজন স্পিকার কার্যপ্রণালীবিধি অনুযায়ী সংসদ চালান। আমার নেয়া ব্যবস্থা সম্পর্কেও আমাকে খুবই সচেতন হতে হয়। আমি যদি আমার নিয়মের মধ্যে থেকে সংসদ না চালাই তাহলে আমি কিন্তু সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব করব। ক্ষমতার অপব্যবহারের একটা প্রবণতা আমার মধ্যে কিন্তু থাকতে পারে।

কারণ অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন, আমি এমপিদের মাইক বন্ধ করি না কেন। মাইক বন্ধ করা, না করার বিবেচনাটি আমাকে নিতে হয় খুবই কেয়ারফুলি। কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ না হলে যদি মাইক বন্ধ করে দেই তাহলে আমি কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করলাম। আমি কিন্তু ওই এমপির কথা বলার ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করলাম। তবে ভাষার অপপ্রয়োগ ও অসংসদীয় ভাষা বন্ধ হওয়া উচিত।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ভারত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

ওই আলোচনা শেষে রোববার অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেছেন, তিস্তা হলো উত্তরবঙ্গের প্রাণ। একে কেড়ে নেয়া যাবে না। মমতা বলেন, তিস্তায় খুব অল্প পানি রয়েছে। এটা আমাদের প্রাণ, এটা উত্তরবঙ্গের প্রাণ।

সেই সঙ্গে মমতা জানিয়েছেন, তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য চারটি নদীর পানি বণ্টন করা যেতে পারে। তিস্তার বদলে তোর্সা, জলঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি নদীর পানি বণ্টনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তিস্তায় পানির অভাবে এনটিপিসির বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।

আশপাশের জেলাগুলোতে সেচের জন্য পানি পেতে সমস্যা হয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের তোর্সা, জলঢাকাসহ চারটি নদী আছে যেখানে পানিরপ্রবাহ ভালো। ফলে তিস্তার বিকল্প হিসেবে এই চারটি নদীর পানি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা হলো পানি নিয়ে, তিস্তা নিয়ে নয়। আপনাদের এ সমস্যা মেটানোর জন্য অন্য যেকোনো বিকল্প প্রস্তাবের বিষয় মাথায় নেব স্বেচ্ছায়।

আমরা যা করতে পারি তা হলো, ভারত-বাংলাদেশে আরো অনেক নদী আছে। সেখান থেকে আমরা পানি ব্যবহার করতে পারি’। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এর আগে ২০১৫ সালে তিনদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সে সময় অনেক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তিস্তা চুক্তির কোনো সুরাহা হয়নি। এবার তিস্তার বদলে বিকল্প পথ দেখালেন মমতা। তিস্তার পানিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের সমান অধিকার থাকলেও এর পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

0 167
গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘সিলেট নগরীতে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডের আবেদন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত...

0 526
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট জেলার সদর উপজেলার ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পুর্ব শাপলাবগ এলাকায় জাল দলিল বানিয়ে একজনের জায়গা অন্যজনের...