লিবিয়া থেকে ইতালী যাওয়ার পথে নিখোঁজ বিয়ানীবাজার কলেজছাত্র রুহুল

0
281

তোফায়েল আহমদ: লিবিয়া থেকে ইতালী যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ রয়েছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলে্জের ছাত্র রুহুল আমীন (২৫)। সে বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউপির নন্দিরফল গ্রামের শওকত আলী ছখর এর কনিষ্ঠ পুত্র।

সে  বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে সদ্য বিএ পাশ করে বেরিয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যুঝুকি জেনেও অনেকে পাড়ি জমাচ্ছেন লিবিয়ায়, লিবিয়া হয়ে ইতালীতে ঢুকা যাত্রীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর লাশের মিছিলে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে কয়েকটি নাম।

আরো কতো নাম থাকবে ভবিষ্যতে সে তালিকায় আজো বিয়ানীবাজারবাসীর অজানা। গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে ইতালী যাওয়ার পথে নৌকাডুবি ও মাফিয়াদের গোলাগুলির কারনে বিয়ানীবাজারের ইমরান ও লিটনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

একই দিন হতে বিয়ানীবাজারের অনেককেই ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে উদ্ধার করে লিবিয়ান কোস্টগার্ড। অনেকেই এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। পরিবার থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছেন আসলেই সে কোথায়।

এখন পর্যন্ত তার সাথে কথা বলে নিশ্চিত হতে পারেননি সে বেচে আছে কিনা, তবে তারা হাল ছাড়েননি। তার ভাই দলিল লেখক নাজিম উদ্দিন জানান, এখোনো সে নিখোঁজ, কোনো সন্ধান তারা পাননি, এখোনো আশায় আছেন পরিবারের সদস্যরা সে ফোন করবে। তারা রুহুল মারা গেছে এ কথা এখন পর্যন্ত মানতে নারাজ। শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন লিবিয়া যাত্রীর অভিভাবক জানান, রুহুল আমীন সাগর থেকে ফিরে আসেননি, উদ্ধারকৃত কোস্টগার্ডের কাছে রুহুল আমীন নামের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।তারা অনেকেই নিশ্চিত যে রুহুল বেচে নেই। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে হঠাৎ করে বাংলাদেশী মানবপাচারকারি সদস্যরা লিবিয়াকে রুট করে সমুদ্রপথে ইতালী পৌছানোর রমরমা বানিজ্য শুরু করে।

প্রবাসী অধ্যুসীত বিয়ানীবাজারের তরুনরা কোনো বৈধ উপায়ে ইউরোপ যাওয়ার রাস্তা না পেয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়েই লিবিয়ামুখী হচ্ছেন এবং অনেকেই ইতিমধ্যে লিবিয়া হয়ে স্বপ্নের ইউরোপের দেশ ইতালীতে পাড়ি জমিয়েছেন। গত নভেম্বরে বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউপির রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র হাফিজ হোসাইন আহমদ (২০) লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালী যাওয়ার পথে ট্রলারডুবিতে নিহত হয়েছেন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, গত বছর ১ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছে। আর জাতিসংঘ বলেছে, ২০১৬ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সুত্র:- বিয়ানীবাজার টাইমস

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here