Daily Archives: Apr 11, 2017

সিলেটের সংবাদ ডটকম: শিববাড়ির আতিয়া মহলের সামনে অপেক্ষমান ওই ভবনের বাসিন্দারা। তাদের সকলের চোখে-মুখ থেকে এখনও কাটেনি আতংকের ছাপ। ভীড় করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া দশটার দিকে তালিকা ধরে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় ভাড়াটেদের। যার যার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেই মেলাতে থাকেন মালামালের হিসাব। ২৩ মার্চ রাতে পুলিশ এই বাসায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর গত ২৫ মার্চ সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল অভিযান শুরু করে।

অভিযানের শুরুতেই ভবনটির ২৮ টি ফ্ল্যাটে থাকা ৭৮ বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। সেসময় এক কাপড়ে আসা এই বাসিন্দারা নিজেদের সব মালপত্র ফেলে আসেন বাসার ভেতরে। জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ১৭ দিন পর মঙ্গলবার সকালে আতিয়া মহলের ভাড়াটিয়াদের কাছে নিজেদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।

পাঁচতলা এই ভবনের নিচ তলায় লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। ফলে নিচের দুটি তলার ফ্ল্যাটগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া উপরের তিনটি তলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেমন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়নি সেখানকার বাসিন্দাদের। জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল ঠিক তার বিপরীত দিকের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া পিয়ালী চৌধুরী। তার ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে প্যারা কমান্ডোরা ভবনে প্রবেশ করেছিল।

ফলে বাসায়  কোন মালামাল অবশিষ্ট নেই। কেবল ছাই আর আসবাবপত্রের পুড়ে যাওয়া অংশ বিশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই ভাবে নিচ তলায়ই আরেকটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটে পশু চিকিৎসক শ্যামসুন্দ ঘোষ। তিনি বলেন, সারাজীবন রোজগার করে যা কিছু গড়েছিলাম তার সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই পাইনি। বাকী জীবন রোজগার করেও আর এগুলো গড়া যাবে না।

দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গৃহিনী শিরীন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কোনো জিনিস পাইনি। ফ্রিজ টিভি সব সব ধ্বংস হয়ে গেছে। বিছানার তোষকের তলা থেকে টাকা নিয়ে গেছে। মাটির ব্যাংক ছিলো সেটা কেটেও টাকা নিয়ে গেছে। মানিব্যাগ ফ্লোরে পড়ে আছে, কিন্তু ভেতরে কোনো টাকা নেই। প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিলো এগুলোও নেই।

আমি একেবারে নিংস্ব হয়ে গেছি। তবে উপরের তলার ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা বাসিন্দারা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের অনেকেই নিজের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিস ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর অনেক শঙ্কা শেষে এগুলো ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আমার বাসায় সবকিছু পেয়েছি।

তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি খুবই খুশি, সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ না থাকায় বর্তমানে বাসযোগ্য নয় ভবনটি। ফলে সকাল থেকেই ভাড়াটিয়ারা নিজেদের আসবাবপত্র আতিয়া মহল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন। অনেকেই এরমধ্যে খুঁজে নিয়েছেন নতুন বাসা। ভবনটির মালিক উস্তার আলি জানান, অভিযানে ভবনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার না করা পর্যন্ত সেটি বাসযোগ্য নয়।

ফলে ভাড়াটেরা বিকল্প বাসস্থানে চলে যাচ্ছেন। মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, সোমবার র‌্যাব অভিযান শেষে ভবনটিকে ঝুঁকিমূক্ত ঘোষণার পর আজ আমরা তালিকা দেখে সকল ভাড়াটিয়াদের ভেতরে পাঠিয়েছি। তাদের নিজেদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, ভবনটি বিধ্বস্ত থাকায় এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এখনই কেউ এখানে থাকতে পারবেন না।

তারা নিজেদের মালপত্র নিয়ে যেতে পারবেন। অনেকের টাকাপয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে খায়রুল ফজল বলেন, নিচ তলায় তো আর কিছু পাওয়ার কথা নয়। তবে উপরের তলাগুলো থেকে কিছু খোয়া যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন প্রশ্ন উঠতে পারে ভেবে আমি এখন পর্যন্ত ভবনের ভেতরে কোনো পুলিশ ঢুকতে দেইনি। র‌্যাব ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার পরই ভাড়াটিয়াদের ডেকে এনেছি।

তারা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর আমরা ঢুকবো। তিনি বলেন, তারপরও কারো কিছু হারিয়ে গেলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা খুঁজে দেখবো। প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল আতিয়া মহলে অপারেশন টুয়াইলাইট পরিচালনা করে।

২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান। অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয় বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়। এর মধ্য থেকে সোমবার এক নারীসহ দুই জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হলেও বাকি দুই জঙ্গির শরীরে ‘সুইসাইড ভেস্ট’ লাগানো থাকায় তাদেরকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে অভিযানের ছয়দিন পর সোমবার ওই দুইজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট জেলার সদর উপজেলার ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পুর্ব শাপলাবগ এলাকায় জাল দলিল বানিয়ে একজনের জায়গা অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এ কাজে ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্হানীয় কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী সুরুজ আলী শাপলাবাগ নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সালামের কাছ থেকে ১৯৮৯ সালের ১৫ই মার্চ ৩৩৩৯/৮৯ সাব কাবালা দলিল এবং ১১৭০/৮৯ নং নামজারী মুলে জেএল নং- ৯৮ স্হিত, মৌজা- সাদিপুর ২য় খন্ড, সে: জরিপী ১২৯, নামজারী ১২৯/১ খতিয়ানের সে: জরিপী ১৮৫১ নং দাগে সাড়ে ৫ শতক জায়গা খরিদ করেন।

এরপর তিনি ঐ জায়গা ভোগ দখল করা অবস্হায় স্ব-পরিবারে ল্ডন চলে যান। মাঝে মধ্যে তিনি লন্ডন থেকে দেশে আসতেন এবং জায়গার খোজ খবর নিতেন। এমতাবস্হায় লন্ডন প্রবাসী সুরুজ আলী বিগত ২০০৪ সালের ৩রা মার্চ দেশে আসলে জানতে পারেন তাহার খরিদা উল্লেখিত তপশীলের ভুমি আলতাফ মিয়া নামক এক ব্যাক্তি দখল করে নিয়েছেন। এ খবর শুনে সুরুজ আলী তার আত্বীয় ইসলামপুর শ্যামলী আবাসিক এলাকার মুবাশ্বির আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিনকে ঘটনাটি জানান। এবং বিষয়টির খোজ খবর নিতে বলেন।

সাহাব উদ্দিন খোজ নিয়ে জানতে পারেন, (১) পুর্ব শাপলাবাগের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান আসাদের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান মখন উরফে জাল মখন, (২) কল্যানপুরের চেরাগ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম, (৩) সুবিদ বাজার নুরানী ৮৪/৯ নং বাসার মরহুম মৌলভী ছফির উদ্দিনের ছেলে মো: নুরুল হক, (৪) সিলেট সদর নাব-রেজি: অফিসের দলিল লেখক সফিকুর রহমান, (৫) পুর্ব শাপলাবাগের হাজী নাছির উদ্দিনের ছেলে হাফিজ মো: খায়রুল ইসলাম, (৬) হাজী আব্দুর নুর,(৭) কল্যানপুরের মৃত জৈন উল্লা্যহর ছেলে সাহাব উদ্দিনসহ একটি জাল দলিল জালিয়াত চক্র তার খালু শশুর সুরুজ আলীর জায়গা দখল করে রেখেছে। 

জায়গার মুল মালিক লল্ডন প্রবাসী হওয়ায় তিনি কে কিভাবে তার জায়গা দখল করল তা খতিযে দেখার জন্য সাহাব উদ্দিনকে অনুসন্ধান করার জন্য বলেন এবং এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও বলেন। সাহাব উদ্দিন খোজ নিয়ে জানতে পারেন, দলিল জালিয়াতি চক্র অন্য একজনকে ভুয়া সুরুজ আলী বানিয়ে জায়গার মালিক দেখিয়ে ২০০০ সালের ৪ জানুয়ারী সিলেট সদর সাব রেজিষ্ট্রারী অফিসের ১৪১/১৪১/২০০০ ইং সাব কাবালা জাল দলিল নিজ নামে তৈরী করে।

এরপর অবৈধ জাল দলিলের বলে অন্যের জায়গার মালিক সেজে কল্যানপুরের চেরাগ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগমকে ক্রেতা সাজিয়ে ৩১৭০/২০০১ সালের আরো একটি জাল দলিল মুলে মালিক হয়ে সুবিদ বাজার নুরানী ৮৪/৯ নং বাসার মরহুম মৌলভী ছফির উদ্দিনের ছেলে মো: নুরুল হকের কাছে ১২৬৬০/২০০১ নং জাল দলিল মুলে জায়গাটি বিক্রয় করেন।

এমনভাবে মো: নুরুল হকও নিজে মালিক না হয়েও জাল দলিলে জায়গা কিনে ৯৪৫২ নং দলিল মুলে সিলেট সদর নাব-রেজি: অফিসের দলিল লেখক সফিকুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। এভাবে পরবর্তীতে সফিকুর রহমানও পুর্ব শাপলাবাগের হাজী নাছির উদ্দিনের ছেলে হাফিজ মো: খায়রুল ইসলামের নিকট একইভাবে জায়গাটি বিক্রি করে দেন। স্হানীয় সুত্র থেকে জানা যায়, ১ থেকে ৯ নং ব্যাক্তিদ্বয় একই পরিবারভুক্ত লোক। একে অন্যের সহযোগীতায় বিভিন্নভাবে জাল দলিল তৈরী করে লোকজনের জায়গা হাতিয়ে নিচ্ছে। চলবে…………………….  

পুর্ব শাপলাবাগে জাল দলিলে জায়গা বিক্রির আগের সংবাদ পড়তে এখানে ক্লিক করুন   

0 6

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ দমনে ভারত-বাংলাদেশ ঐক্যমতে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

এর আগে চারদিনের ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তাকে বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১০৯৮ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন অনেক আগেই। এবার জাতিসংঘের শান্তিদূত হিসেবে নিয়োগ পেলেন মালালা ইউসুফ জাই। জাতিসংঘের সর্বকনিষ্ঠ শান্তিদূত হলেন মালালা। খবর বিবিসির।

১৯ বছর বয়সী মালালা বর্তমানে এ লেভেলে পড়ছেন। যুক্তরাজ্যের একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অফার পেয়েছেন তিনি। শান্তিদূত হিসেবে বিশ্বে নারীশিক্ষা বিস্তারে কাজ করবেন মালালা।

শিক্ষায় নারীদের অধিকার নিয়ে ক্যাম্পেইন চালানোয় ২০১২ সালে তালেবানরা তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মাননা গ্রহণ করে মালালা বলেন, পরিবর্তনের শুরু আমাদের সঙ্গে আসে এবং আমাদের শুরুটা এখনই করতে হবে। আপনারা (মেয়েরা) যদি নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল দেখতে চান, তবে আপনাদেরই এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে।

কারও জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব বক্তব্যে মালালাকে “সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বিষয়টির প্রতীক” বলে উল্লেখ করেছেন। গত মাসে মালালা ইউসুফ জাই জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি, দর্শন এবং অর্থনীতিতে পড়ার অফার পেয়েছেন।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় আবারো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় থেকে নিরাপদে থাকার জন্য উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী আরাফুরা সাগরে ধীর গতির একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দুই মাত্রার একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে।

ছোট দ্বীপ এবং উপকূলের বাসিন্দাদের ভারী বর্ষণ, ঝড় এবং ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে রক্ষা পেতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই দেশটিতে চারমাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডেবির আঘাতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বর্ষণ ও বন্যায় ছয় জনের মৃত্যু হয়।

0 7

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: উপকূলীয় শহরের পরিবেশগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) তিন হাজার ২৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল জানান, এই আট প্রকল্প বাস্তবায়নের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দুই হাজার ৪১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, এক হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় শহর পরিবেশগত অবকাঠামো প্রকল্প, ৫৯৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৫৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৪৭৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

এ ছাড়া ১৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প, ১৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট-মিঠামইন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ১৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ও খুলনা জেলা পুলিশ লাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০০ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ দুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ১০ কিলোওয়াট এফ. এম বেতার কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পুলিশের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি সব কর্মচারির জন্য শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। বিফ্রিংকালে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারন অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ।

0 2667

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট নগরীর বাগবাড়ীস্থ ‘রফিক রেস্টহাউজ’ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৭ তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় রেস্টহাউজ থেকে এদেরকে আটক করা হয়।

তাৎক্ষনিকভাবে আটককৃতদের নাম এবং পরিচয় জনিা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেস্টহাউজয়ে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গেছে। সাত তরুণী আটক হলেও কোন পুরুষ আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

0 134

সিলেটের সংবাদ ডটকম: কানাইঘাটে এক গরু চোরের ছুরির নিচ থেকে রক্ষা পেল গাভী। জানা যায়  সোমবার গভীর রাতে একদল কসাই চোর উপজেলার ৭নং ইউপির বাউরভাগ পুর্ব গ্রামের মৃত মুসা মিয়ার পুত্র হেলাল উদ্দিনের একটি গাভী চুরি করে নিয়ে যায়।

সকালে জানা জানি হলে তারা বিভিন্ন স্থানে গাভীটি খুজতে থাকেন। এক পর্যায় পার্শ্ববর্তী ব্রাক্ষনগ্রামের নদীর তীরে কসাই চোরেরা প্রতিদিনের ন্যায় মাংস বিক্রির জন্য গাভীটিকে জবাইয়ের উদ্যেশে শুয়ে ছুরি চালানোর প্রস্তুতি নিতে না নিতে হেলাল উদ্দিন তার গাভীটি চিনতে পেরে চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে যান।

পরে কসাই চোরের ছুরির নিচ থেকে গাভীটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান। এ ব্যাপারে ঐ দিনই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ব্রাক্ষনগ্রামের আব্দুন নুরের পুত্র নাজিম উদ্দিন, কটাই মিয়ার পুত্র শাবুল আহমদ ও আজির উদ্দিনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কসাই চোরেরা নিয়মিত ব্রাক্ষনগ্রামের নদীর তীরে চুরির গরু জবাই করে সস্তা দামে মাংশ বিক্রি করে থাকে। হেলাল উদ্দিন অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে তার আপন চাচার ৭০হাজার টাকা মুল্যের একটি গর্ভবর্তী গাভী ঐ কসাই চোরেরা চুরি করে নিয়ে জবাই করে স্থানীয়দের কাছে মাংশ বিক্রি করেছে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সুনামগঞ্জ জেলার একমাত্র হাওর শনির হাওর পানির সাথে যুদ্ধ করে এখনো আল্লাহর রহমতে টিকে রয়েছে। আপনারা যে যে অবস্থানে আছেন তাড়াতাড়ি উড়া কুদাল লইয়া শনির হাওরের বান্দে যাউকা।

এভাবেই তাহিরপুর বাজার ট্রলার ঘাট থেকে মাইকিং করে বোঝাই করা নৌকায় হাওরের বাঁধে যাচ্ছেন শ্রমিক জনতা। গতকাল সোমবার সকালে মাইকিং করার সময় বৌলাই নদীর পারে বসে ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক লিবাস মাতব্বর এভাবেই বলছিলেন, ‘আওর পানির সাথে আর কয়দিন যুদ্ধ করা যায়।

বাঁধের আশপাশে মাটি না থাকায় অনেকটা দূর থেকে হাঁটুজল ভেঙে বস্তায় করে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে বেড়িবাঁধে। গতকাল সোমবার শনির হাওরে কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের নিচুস্থানজুড়ে ও ৮ টি ক্লোজার বাঁধে কাজ করেন তিনটি উপজেলার ৫ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩ সহস্রাধিক কৃষক-জনতা।

গত ১৫ দিনের ব্যবধানে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল ও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যায় সুনামগঞ্জ জেলার সব কটি বোরো ফসলি হাওর। কৃষকদের রাতদিন পরিশ্রম ও প্রতিদিন হাজারো মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁেধ কাজ করায় টিকে আছে জেলার একমাত্র শনির হাওর। এই হাওরে তিন উপজেলার কৃষকরা জমি চাষাবাদ করেন।

শনি হাওরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করা হয়। তাই এ বৃহৎ হাওরটির বোরো ফসল টিকিয়ে রাখতে হাজারো মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন গত ১৫ দিন ধরে। জামালগঞ্জ উপজেলা বেহলী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকির বলেন, ‘এখন আর কৃষকদের মনে নাই কোনটা পিআইসির কাজ আর কোনটা ঠিকাদারের কাজ। হাওরের ফসল রক্ষা করতে অইব।

তাই দিনরাত বান্দে কাম কররাম। বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি আব্দুজ জহুর তিনি বলেন, আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন রক্তি নদীতে বালি, পাথর নৌকাতে লোড-আনলোড হয়, শনির হাওরের বেড়িবাঁধ উচু করে ফসল রক্ষার স্বার্থে আমরা আজ সোমবার এ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। হাওরের প্রয়োজনে আরও ক’দিন বন্ধ রাখা হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুধু কৃৃষকের স্বেচ্ছাশ্রমের কাজের ফলেই শনির হাওরটি টিকে আছে। শনি হাওর রক্ষায় কৃষকদের পাশে থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, শনির হাওরপারের সকল নেতাকর্মীকে আমি রবিবার রাতে মোবাইলফোনে অনুরোধ করেছি, তাঁরা যেন সোমবার সারা দিন সকলেই শনির হাওরের বাঁধে গিয়ে কাজ করেন।

0 22

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বহুল আলোচিত সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার আপিলের রায়ে কামরুলসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী নূর আহমেদ। গত ১২ মার্চ চাঞ্চল্যকর এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১১ এপ্রিল ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। ৩০ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়। মোট ১৯ দিন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এদিন ধার্য করেন আদালত। সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি বিচারিক আদালতের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ০৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের আজিজুল ইসলাম আলমের ছেলে রাজনকে।

হত্যাকারীরা নৃশংসতার ২৮ মিনিটের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মহানগরীর জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মুহিত আলমসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গিয়ে হত্যাকারীদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগে বরখাস্ত হন জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, এসআই জাকির হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

ওই বছরের ১৬ আগস্ট সৌদি আরবে আটক কামরুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার। দ্রুততম সময়ে মামলার বিচার শেষে ওই বছরের ০৮ নভম্বের সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালত রাজন হত্যার দায়ে মূল আসামি কামরুলসহ ৪ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

১৩ আসামির মধ্যে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, তিনজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২ জনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। খালাস দেওয়া হয়েছে তিনজনকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন- মহানগরীর জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৪), চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫), তাজ উদ্দিন বাদল (২৮) ও পলাতক জাকির হোসেন পাভেল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ময়না চৌকিদারকে অপর দু’টি ধারায় পৃথক পৃথকভাবে সাত বছর ও এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা হয় কামরুলের দুই ভাই মুহিত আলম ও আলী হায়দার ওরফে আলী এবং পলাতক আসামি শামীম আহমদের। অন্য দুই আসামি আয়াজ আলী ও দুলালকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধ সন্দেহজনক ভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পান ফিরোজ মিয়া, আজমত আলী ও রুহুল আমিন। রায়ের দু’দিন পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স পৌঁছে হাইকোর্টে। পরে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন। পেপারবুক তৈরির পর গত বছর মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকা ভূক্ত হয়।

0 449
গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘সিলেট নগরীতে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডের আবেদন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত...

0 1469
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তির। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না...