বাহুবল থেকে প্রতিদিন ৮ মি. ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব

0
184

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: পাহাড়বেষ্টিত হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ৯ নম্বর কূপের খনন কাজ শেষ হয়েছে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উৎপাদন বাড়াতে ২ ও ৬ নম্বর কূপে ওয়ার্ক ওভার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ৯ নম্বর কূপে মোট গ্যাসের মজুদ নিয়ে দুইটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

এতে বাপেক্সে বলছে, ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ঘনফুট ও পেট্রোবাংলা বলছে উত্তোলনযোগ্য মজুদ রয়েছে ২৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

পাইপ লাইন নির্মাণে টেন্ডার হচ্ছে। উত্তোলন শুরু হতে আরো প্রায় ১০ মাস সময় লেগে যেতে পারে। এ ছাড়া পুরনো ২ ও ৬ কূপে আবারো ওয়ার্ক ওভার করবে বাপেক্সে। এই দুটি কূপেও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে এখানে আটটি কূপের মধ্যে পাঁচটি সচল রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।

নতুন কূপ চালু হলে এখানে গ্যাসের উৎপাদন আরো বাড়বে। এখানে গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন ৫০ ব্যারেল তেল উত্তোলন হচ্ছে। নতুন কূপ চালু হলে তেলের উৎপাদনও বেড়ে যাবে। এদিকে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড থেকে এখানে প্রতি সপ্তাহে ৬ হাজার ব্যারেল তেল আসছে। এসব তেল দেশের নানাপ্রান্তে তেলবাহী গাড়ি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার পাহাড়বেষ্টিত রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড ১৯৬০ সালে প্রস্তুত করা হয়। পরে সাতটি কূপ খননের মাধ্যমে ১৯৯৩ সাল থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এ গ্যাস যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডে। পর্যায়ক্রমে ওই গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ চালায় বাপেক্স। ৩২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ শেষে নতুন গ্যাস মজুদের সন্ধান মিলে। খনন করা হয় ৮ নম্বর কূপ।

একই ভাবে চলছিল ১২ ও ৯ নম্বর দুইটি গ্যাস কূপ খনন কাজ। এরমধ্যে ১২ নম্বর কূপে গ্যাস পাওয়া যায়নি। গ্যাস পাওয়া গেছে ৯ নম্বর কূপে। ২০১৪ সালের ১ আগস্ট শুক্রবার রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ছোট পাইপের সাহায্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে। রিগ থেকে ৫০০ মিটার দূরে পাইপ দিয়ে গ্যাস এনে পাহাড়ের মধ্যে গর্ত করে উন্মুক্ত স্থানে আগুন লাগিয়ে চাপ পরীক্ষা করা হয়।

প্রথমে সাড়ে ৮ লাখ ঘনফুট করে গ্যাস উত্তোলন হলেও পর্যায়ক্রমে চাপ বাড়তে থাকে। সর্বশেষ চাপ ছিল ১২ দশমিক ৫ লাখ ঘনফুট। সে সময়ে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ৮ নম্বর কূপ উন্নয়ন কাজের প্রকল্প পরিচালক আমীর হোসেন বলেন, ‘কোনো কূপ খনন করার পর যখন পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়, তখন গ্যাস না পাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ৮ নম্বর কূপে গ্যাস পাওয়া যায়। এরকিছু দিনের মধ্যে কাঠা মো তৈরি করে পাইপ লাইন স্থাপন করে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের প্রসেসিং প্ল্যান্ট দিয়ে ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম ২০১৪ সালের ৪ জুন সেখানে খনন কাজ শুরু করে ২ মাস হওয়ার আগেই তারা প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিটার গভীরে রিগ দিয়ে গ্যাস উত্তোলনে সক্ষম হয়।

এই খনন কাজে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। সে সময়ে পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছিল, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে আরো কূপ খনন করা হবে। সেই থেকে এই গ্যাস ফিল্ডের আশপাশের এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে নতুন দুই (১২ ও ৯ নম্বর) কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। হবিগঞ্জের তিনটি গ্যাস ফিল্ডের মধ্যে বিবিয়ানায় এরই মধ্যে ২৬টি কূপ খনন করা হয়েছে।

প্রথমে ছিল ১২টি পরে আরো ১৪টি কূপ খনন করা হয়। সেখানে আরো কূপ খননের সম্ভাবনা কম। শাহজিবাজার গ্যাস ফিল্ডেও এখন কোনো কূপ খনন হচ্ছে না। ৯ নম্বর কূপে গ্যাস পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন বিভাগের ব্যবপস্থাপক প্রকৌশলী মো. মুশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, ১২ নম্বর কূপে খনন করে গ্যাস পাওয়া যায়নি।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here