প্রভাবিত ওসি : ধ্বংসের মুখে দলাই সেতু

0
144

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ধ্বংসের মুখে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জের ধলাই ব্রিজ। ধলাই নদির তীর আর ব্রিজের চারিপাশ ঘিরে যন্ত্র দানব বোমা মেশিনের অবাধ ব্যবহারের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ কোয়ারীতে পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রের কোন বিধি নিষেধ মানা হচ্ছেনা।

অতিতের কিছু সংখ্যক ব্যবসায়িরা আইন-কানুন উপেক্ষা করে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে গেছেও বর্তমানে তার ব্যাতীক্রম অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যক্তি জানান, এতদিন বোমা মেশিনের নেতৃত্ব দিতো পাথর ব্যবসায়ীরা আর এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেন।

তার নেতৃত্বে বন্ধ থাকা বোমা মেশিন আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে পাথর সাম্রাজ্যখ্যাত ভোলাগঞ্জের ধলাই নদী। আজ হুমকির মুখে ধলাই ব্রীজ। নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ওসি আলতাফ মানছেন না উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, খনিজ মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের নির্দেশনা।

এমনকি তোয়াক্কা করছেন না পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ। সহায়তা করছেন না বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানেও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় উত্তোলনে দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুঁলী প্রদর্শন করে তিনি একদল পাথর খেকো চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে প্রতি রাতে লক্ষ টাকার রফাদফার মাধ্যমে বোমা মেশিন দিয়ে লুটপাট করাছেন কোটি টাকার পাথর।

ওসি তার নিজস্ব ও থানার বিশ্বস্ত অফিসার দিয়ে উত্তোলন করাছেন তার অংশের বিপুল অংকের টাকা। যারা টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করে তাদের হাতকড়া পড়িয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। অতঃপর তাদের আত্বীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকাকরি আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের। জানা যায়, প্রায় মাস খানেক আগে ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীতে আবারো রাতের অন্ধকারে ওসির নেতৃত্বে শুরু হয় নতুন রূপে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর লুটপাট।

প্রায় ১৫০/১৬০টি বোমা মেশিন প্রতিদিন সন্ধার পর হতে সকাল সাতটা পর্যন্ত নদী গর্ভের ২০০/২৫০ ফুট নীচ হতে পাথর উত্তোলন করে থাকে। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। প্রতিটি বোমা মেশিন হতে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয় ওসি আলতাফকে। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে থানার সাব-ইন্সপেক্টর আরিফ উল্লাহ ও থানার নৌকার মাঝি শফিক ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে প্রতিটি বোমা হতে ওসির নামে পাঁচ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে থাকে।

এ প্রতিবেদককে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার ভাতের টেক গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে পাথর শ্রমিক তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল সোমবার গভীর রাতে ওসির নামের চাঁদা উত্তোলন করতে যায় এস আই আরিফ উল্লাহ ও মাঝি শফিক।

ওই রাতে ওসিকে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না দেয়ায় ওসি আলতাফের নির্দেশে উপজেলার পাড়ুয়া লামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনসার উদ্দিন জিলানী, আব্দুল মুমিন, ফয়েজ, অজ্ঞাতনামা আরো একজনসহ আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে জিলানীকে পনেরো হাজার টাকার বিনিময়ে মধ্যপথে ছেড়ে দেয় এস আই আরিফ উল্লাহ।

পরে তাদের থানায় নিয়ে আসার পর আমার কাছ থেকে বিশ হাজার, আব্দুল মুমিন ও ফয়েজের কাছ থেকে বিশ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি হতে পনেরো হাজার টাকা নিয়ে ওসি আলতাফ হোসেন নিজেই আমাদের ছেড়ে দেয়। শুধু তাই নয় ওই রাতে কয়েক ড্রাম ডিজেল, ব্যাটারীসহ মূল্যবান জিনিসপত্রও নিয়ে আসে এস আই আরিফ।

উৎকোচের মাধ্যমে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলেও সাথে আনা কয়েক ড্রাম ডিজেল, ব্যাটারীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে দেয়া হয় থানায়। কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেনের এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী। তারই পাশাপাশি সুশীল সমাজ হয়ে পড়েছেন নির্বাক।

অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেনের কাছে বোমা মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরন করে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, বোমা মেশিনে পাথর উওোলনে উচ্চ আদালত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খনিজ মন্ত্রনালয়সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমারও নির্দেশনা ছিলো বোমা মেশিন না চালানোর জন্য।

এত কিছুর পরও কিভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন হয় তা আমার বোধগম্য নয়। আপনারা সাংবাদিকরা সেখানকার সঠিক চিত্র তুলে ধরেন তা আমি চাই। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করেন। আর আমার কাজ আমি করছি। সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান এ বিষয়ে বলেন, আমরা জানি বোমা মেশিন পরিবেশ নষ্টের জন্য ভয়ংকর।

তারপরও কিভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন হচ্ছে তা অবশ্যই আমি খতিয়ে দেখবো। বোমা মেশিন সংক্রান্ত বিষয়ে মুঠোফোনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার অফিসে আসেন এ বিষয়ে কথা বলবো। আপনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করুন। আর যদি বোমা মেশিন চলে দয়া করে আমাকে জানাবেন।

সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন সম্পুর্ণরূপে অবৈধ। বোমা মেশিনের তান্ডব-লীলায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পরিবেশ হুমকির মুখে থুবড়ে পড়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেখানে কি করে বোমা মেশিন চালানো হচ্ছে।

দূষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে অবৈধ বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু অভিযানকালে থানা পুলিশের পক্ষ হতে কোন ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছিনা। তবে বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে ও থাকবে। এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here