দায়ীদের চিহ্নিত করে কয়েকজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে : মায়া

0
13

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি বলেছেন, সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দুর্যোগের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আমরা যেখানেই গিয়েছি এই একটি বিষয়ের অভিযোগ শুনেছি। তাদের এই কাজের জবাবদিহিতা কিন্তু আমাদেরকেই করতে হচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত।

এরা যদি হাওরাঞ্চলের বাঁধগুলোতে ঠিকঠাক মতো কাজ করতো তাহলে অধিকাংশ ফসল রক্ষা করা যেতো। ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সফল হয়েছে সরকার।

আল্লাহর রহমতে আমি বলতে পারি একটি মানুষও না খেয়ে নেই। আমরা একটি মানুষকেও না খেয়ে মরতে দেবো না। যখন যেটা প্রয়োজন হয়েছে আমরা সেটা সকলের হাতে তুলে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা কাজ করেছি এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছি।

মায়া বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন আমি তাঁদেরকে মন্ত্রণালয় ও দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মন্ত্রী বলেন, আগে দেখা যেত বন্যা, দুর্ভিক্ষ কিংবা খরা হওয়ার পর খাবার আসতো।

কিন্তু আমাদের সরকার অন্তত ছয় মাস আগে তা প্রস্তুত করে রাখে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের হাতে ‌আগাম সবকিছু দিয়ে রাখি। জরুরী দুর্যোগ মোকাবেলায় তাঁরা নিজ নিজ ক্ষমতা বলে ঝাপিয়ে পাড়েন। তিনি বলেন, আমরা দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে যে সকল অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো সুরাহা করেছি আর বাকিগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি সুনামগঞ্জের হাওর পারের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত ২০/২২ দিন ধরে পানির সঙ্গে লড়াই করে যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা অত্যন্ত সাহসী মানুষ। আমরা তাদের পাশে সব সময় আছি। মন্ত্রী দুর্গত এলাকার সংবাদ যেভাবে ছড়িয়েছে সেভাবে ক্ষতি হয়নি বলে সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সারা বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৯টি উপজেলা এবং ৩টি জেলায় আকস্মিক ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতির পরিমাণ কোথাও ১২ আনা, কোথাও সিকি। তবে ফলাও করে প্রচারের পেছনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা তা সফল হতে দেইনি। আমরা দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি। মন্ত্রী আরো বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কাছে খাদ্যের কোনো অভাব নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি যতদিন সরে না যাবে ততদিন ওই এলাকার মানুষকে আমরা খাইয়ে যাবো। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল উপকরণই সরকারের কাছে মজুদ আছে। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সকল দাবি পূরণ করার আশ্বাস প্রদান করেন। বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জের এই দুর্যোগে তাদের দলের একটি নেতাও কি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে? এসেছে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে?

দিয়েছে চাল, ডাল কিংবা এক বান্ডেল টিন? এরা কি দেশের উপকার করবে। দেশের মানুষের জন্য যদি প্রাণ কাঁদে তবে তা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি এই সকল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকায় বসে বক্তৃতা-বিবৃতি দিলে চলবে না, মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান।

দুর্যোগপূর্ণ এলাকার বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আপনাদেরই এলাকার মানুষ, আপনাদের প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন। এই অসহায় মানুষদের পাশে আপনারা দাঁড়ান। মুক্ত হস্তে দান করেন। তিনি জেলার নেতাদের উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ খবর নেয়ার আহবান জানান।

সভার শেষ পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রশাসনিক সকল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার যারা কর্মকর্তা আছেন তাঁরা আল্লাহর ওয়াস্তে ভাল হয়ে যান, মানুষের পাশে দাঁড়ান। নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো শতর্ক হোন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মো. শাহ কামাল।

সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আশফাক আহমদ, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here