কে নিবে দায়ভার অনাকাঙ্খিত যে কোনো ঘটনার?

0
189

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি বলে  প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগ যখন কোন টালবাহানার শিকার হয় তখন আর মন স্তির থাকেনা। প্রতিবাদের ঝড় আমার সত্ত্বা ও মন-মননকে নাড়া দেয় তীব্র গতিতে।

ছাত্রলীগের আদর্শ সাথে চলতে গিয়ে আমি শিখেছে সকল হীনতা আর আন্যায়ের বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়া। ছাত্রলীগের আদর্শ আমাকে যেমন অন্ধকারে প্রদীপ হয়ে জ্বলতে শিখিয়েছে তেমনি শিখিয়েছে আদর্শের ঝান্ডা বেহাত হলে সুহাতে সমর্পনে লড়ে যাওয়া।

তাই প্রিয় সংগঠনের ঝান্ডা কোন ব্যর্থের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নিমজ্জিত হলে, ছাত্রলীগের আদর্শ আমাকে বারবার তাড়া করে ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখতে। চারদলীয়জোট সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে ছাত্রদল আর ছাত্রশিবিরে হিংস্রতা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

তাদের দৌরাত্মা এতটাই বেড়েছিল যে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জনগন ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে  বিদ্যানন্দিনী, গনতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশের দায়ভার অর্পন করার পর ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য আর বেপরোয়া ভাব থামানো প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তখন ছাত্রলীগের ত্যাগী আর তেজস্বী নেতৃত্বের কারণে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের হাত থেকে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান উদ্বার করা সম্ভব হয়েছিল। সেই সময় থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতৃবৃন্দের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাথে সরাসরিভাব জড়িত থাকার কারণে আমি সিলেট জেলা ছাত্রলীগে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনার একজন সাক্ষী। ছাত্রলীগের দূর্ভোগকালীন সময়ের ত্যাগী নেতা, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থকে তাঁর একটি ভুলের কারণে সংগঠনের নীতি ঠিক রাখতে সকল ত্যাগ পিছনে রেখে কেন্দ্রীয় সংসদ তাকে  সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করেন।

সিপিবির সভায় বঙ্গবন্ধুর সমালোচনার প্রতিবাদ করায়, নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুর কাছ থেকেও পদ কেড়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে দশ সদস্য বিশিষ্ট  একবছরের জন্য সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কমিটি প্রদান করা হয়।

ব্যর্থতার ১৪ মাস কাটিয়ে অবশেষে  পনের মাসের মাথায়, চার ডিসেম্বর ২০১৫ সালে সমালোচনার পাহাড় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের আসল কর্মী বাদ পরে কমিটিতে স্থান পায়, বিবাহিত, পুলিশ এসল্ট মামালার আসামী, ব্যবসায়ী, অনুপ্রবেশকারী, অছাত্র-যে কখনো স্কুলের বারান্দায় যায়নি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী সহ নানান অপকর্মে জড়িত  অনেকে।

সেদিনই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের উপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ৫২ জন পদধারী পদত্যাগের ঘোষনা দেন। কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হুসাইনের বলিষ্ট হস্তক্ষেপ এবং আস্থা প্রদানে সেদিন তারা পদত্যাগ ঘোষনা প্রত্যাহার করেন। এরপর থেকে সভাপতি-সম্পাদক হয়ে উঠেন বেপরোয়া।

হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহ-পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারতের নাম করে  অস্ত্রের মহড়া দিয়ে শুরু হয় তাদের সংগঠন বিরুধী অনেক কার্যকলাপ। সকল মিডিয়া এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও প্রশাসন ছিল নিরব। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, রাহাজানি এমনকি খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল সভাপতি ও সম্পাদক সমর্থিতরা আর বাকিরা ছিলেন কমিটি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার।

দায়িত্ব পালনকালে কোন উপজেলা কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়নি বরং কেন্দ্রিয় নির্দেশ অগ্রাহ্য করে সম্মেলন আয়োজন না করে টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারী সহ অযোগ্যদের দিয়ে পকেট কমিটি প্রদান করে। অনেক সংগঠন বিরুধী কার্যকলাপ সাথে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায় সেটি হলো, ৭ মার্চ ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এম.  রায়হান চৌধুরীর নেতৃত্বে চিহ্নিত ভাড়াটে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এম.সি কলেজে সশস্ত্র হামলা।

হামলায় গুরুতর আহত হয় এম.সি কলেজের ছাত্র  রতন গোপ এবং শাহিন নামে অপর এক ছাত্র। অসংখ্য অপকর্ম এবং সংগঠন বিরুধী কার্যে জড়িত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সমর্থিত সকল পদধারী নেতা কর্মী কোন কলেজে অবস্থান না থাকলেও সিলেট ছাত্রলীগের ইতিহাসখ্যাত ব্যর্থ সাভাপতি, সম্পাদক বা সিলেট জেলা ছাত্রলীগ তাদের মেয়াদকালে একবার স্থগিত হওয়া ব্যতীত আর কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোউত্তীর্ণ হয়েছে বেশ আগে। গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ প্রথমবার সিলেট জেলা ছাত্রলীগকে সম্মেলন আয়োজনের তারিখ নির্ধারন করে দেন। অন্য এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারণ দর্শিয়ে এই তারিখ বাতিল করা হলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের অগ্রযাত্রা নতুন আলোর দেখা পায়নি।

এরপর ১৮ই মার্চ ২০১৭ সালে দ্বিতীয় বার তারিখ নির্ধারন করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগকে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্তিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এম.পি।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের আলো জলমলে আকাশ মেঘে ঢেকে দ্বিতীয় তারিখেও সম্মেলন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয় সামাদ রায়হায় নেতৃত্বাধীন সিলেট জেলা ছাত্রলীম। জিলেট জেলা ছাত্রলীগ এখন অবিভাবকহীন হয়ে ছুটাছুটি করচ্ছে দিক্বিদিক।

২২ ই এপ্রিল ২০১৭ সালে  তৃতীয় বার সম্মেলন আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়ার পর সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলন আয়োজনে ব্যর্থ হলে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সম্মেলন না হওয়া নিয়ে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রদান না করায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কার্যত অবিভাবকহীন হয়ে আছে।

তৃতীয়বারের মত সম্মেলন আয়োজনে ব্যর্থ হয়েও দাম্ভিকতা সাথে বিচরনের ফলে যদি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা অন্যকারো উপর সাধারণ কর্মীরা হামলা করে, যদি সহিংস হয়ে উঠে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ, কিংবা যদি অন্য কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম হয়, কোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড যদি সংগঠিত হয়ে যায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের এই ঘোলাটে সময়ে।

কে নিবে তার দায়ভার? বাংলাদে ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী সংসদ? সিলেট ছাত্রলীগের আস্তা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক এস.এম জাকির হুসেন? নাকি যাদের কারণে অবতাড়ন হয়েছে এই নাটকের? বি:দ্রঃ এই লেখার দায়ভার সম্পূর্ণ আমার। লেখক:- জাকির আহমদ। স্নাতক সম্মান শেষবর্ষ। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। এম.সি কলেজ, সিলেট। ও সদস্য সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।

(Visited 17 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here