একনেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

0
198

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করবে সরকার। মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ইতোপূর্বে এতো বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। এসব মসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, হজযাত্রী ও ঈমাম প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

প্রস্তাবিত এসব মসজিদ নির্র্মাণে সিংহভাগ টাকা দেবে সৌদি আরব। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এসব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আজ ২০ হাজার ৪০২ কোটি টাকার মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৯ হাজার ৬৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেক জেলায় আইটি পার্ক তৈরি করতে হবে, যাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে মানুষ আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

এছাড়া এলএনজি টার্মিনাল এখন থেকে সমুদ্রে না করে মাটিতে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নগর দারিদ্র সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বস্তির সংখ্যা বাড়ুক, এটা প্রধানমন্ত্রী চান না। এজন্য প্রকল্পটি নতুন করে সংশোধন করে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, বস্তিবাসীদের জন্য সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হবে, যেন অল্প জায়গাতেই অধিক মানুষ বসবাস করতে পারে’। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প অন্যতম।

এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যার মধ্যে সৌদি সরকার অনুদান বাবদ দেবে ৮ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। মুস্তফা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে এর আগে এতো বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। সব মসজিদের মডেল চিত্র হবে একই রকম। সরকার জমি অধিগ্রহণ করবে। আর মসজিদ নির্মাণ করে দেবে সৌদি সরকার। এর বাইরে জেলা পর্যায়ে আইটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে দেশের ১২টি স্থানে হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০৩০ সাল নাগাদ আইটি খাত থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া আজ অনুমোদন দেয়া হয়েছে, পটুয়াখালী-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এদিন মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পও একনেকে পাস হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এছাড়া ১ হাজার ৯৭৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলি নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ৭৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ৪৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প, ২৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট শহরের বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহ পরাণ সেতুঘাট সড়ক ৪ লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, খালিশপুর-মহেশপুর-দত্তনগর-জিন্নানগর-যাদবপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা শহরে ৩টি পাইকারি কাঁচাবাজার নিমার্ণ প্রকল্প, ৬৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে থ্রিজি প্রযুক্তিকরণ চালু এবং ২ দশমিক ৫ জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পও আজ একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ উপস্থিত ছিলেন।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here