গোলাপগঞ্জে রুস্তমপুরে তিনদিনে সাতটি বসতভিটা নদীরগর্ভে : ঝুঁকিতে আরো অর্ধশতাধিক

0
164

সিলেটের সংবাদ ডটকম: গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘার রুস্তমপুরে দুই দিনের ব্যবধানে সাতটি বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। সেই সাথে গরুর গোয়ালা টিউবওয়েল ও গাছগাছালিও তলিয়ে যায়।

বসতভিটা ও গাছগাছালি হারিয়ে অসহায় লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন ও নদীর পারে ব্লক না থাকাই এ সর্বনাশের কারণ।

তাদের দাবি শুধু এই পাঁচটি বাড়ি নয়, গ্রামে শতাধিক বাড়ি তলিয়ে গেছে নদীতে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী পারের সবকটি বসতবাড়ি রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। সরেজমিন বাঘা রুস্তমপুর এলাকায় গেলে কথা হয় বসতভিটা হারানো অসহায় লোকজন ও গ্রামবাসির সাথে।

রুস্তপুর মাঝপাড়া গ্রামের বায়োবৃদ্ধ মো: আজিজুর রহমান (৬০) বলেন, দিনের বেলা তার বসতভিটা অর্ধেক তলিয়ে যাওয়ার পর রাতের বেলায় বাকি অংশটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়।

এসময় তারা পাশের একটি ঘরে শুয়েছিলেন। শাঁ শাঁ শব্দে তাদের ঘুম ভাঙ্গার পর উঠে দেখেন চোখের নিমিষেই সুরমার নদীগর্ভে চলে গেছে তাদের বসতভিটা ও গাছগাছালি। এ কথাগুলো বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রউফ খান (৬৫) জানান, তার তিনটি ঘরের মধ্যে দুটি ঘর একই রাতে তলিয়ে যায় নদীতে।

অবশিষ্ট ঘরও যে কোন সময় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন তিনি। মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, তার বসতভিটার বড় একটি অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে যে ঘরটি রয়েছে তাও ঝুঁকির মধ্যে।এসময় তার টিওবওয়েল, পুকুর ও অসংখ্য গাছগাছালি তলিয়ে যায় নদীতে। হাজারি বাড়ি হিসেবে আমাদের বাড়িটির পরিচিতি থাকলেও এখন কেবল স্মৃতি।

এসময় সাংবাদিকদের সাথে কথাবলার সমর অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।এসময় তার দু চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝড়তেও দেখা যায়। হাজিপুর ঘনশ্যাম এলাকার সমাজসেবী ফরিদ আহমদ জানান, শুধু রস্তমপুর এলাকা নয়, পাশ্ববর্তী এলাকা ঘনশ্যাম ও শুকনা এলাকাও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে।

গ্রামবাসী জানান, শুধু তারাই ঐ গ্রামের মাস্টার আব্দুর রহমান মাস্টার আব্দুছ সুবহান, মজির উদ্দিন, মছব্বির আলী ও ডাক্তার আমির উদ্দিনের বসটভিটা ও গাছগাছালি নদী গ্রাস করে ফেলে।অসহায় এসব লোকজন যে যেদিকে পারছেন অন্যত্র চলে গেছেন।

খুঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুস্তমপুর পুরান জামে মসজিদ, হাতিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা, রুস্তমপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা, রুস্তমপুর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ, স্থানীয় গোরস্তান ও নদীপারের রাস্তাটি রয়েছে অতি ঝুঁকির মধ্যে। এরমধ্যে এসব স্থাপনার কোন কোন স্থানের বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে।

নদী পারের রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ দিন থেকে সুরমা নদীর ভয়াবহ তাণ্ডবলীলায় একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এরমধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে সুরমা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা ও নদী পারে ব্লক না থাকা।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here