পুর্ব শাপলাবাগে জাল দলিলে জায়গা বিক্রির হিড়িক (পর্ব-২)

0
1157

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট জেলার সদর উপজেলার ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পুর্ব শাপলাবগ এলাকায় জাল দলিল বানিয়ে একজনের জায়গা অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেয়ার ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ থাকছে ২য় পর্ব।

ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুর্ব শাপলাবাগের বাসা নং ৫ সোনা মঞ্জিলের মৃত সোনা মিয়া উরফে হাতকাটা সোনার ছেলে সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান আসাদের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান মখন উরফে জাল মখন উরফে জে,টি,বি মখন, (২) কল্যানপুরের চেরাগ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম, (৩) সুবিদ বাজার নুরানী ৮৪/৯ নং বাসার মরহুম মৌলভী ছফির উদ্দিনের ছেলে মো: নুরুল হক, (৪) সিলেট সদর সাব-রেজি: অফিসের দলিল লেখক সফিকুর রহমান, (৫) পুর্ব শাপলাবাগের হাজী নাছির উদ্দিনের ছেলে হাফিজ মো: খায়রুল ইসলাম, (৬) পুর্ব শাপলাবাগ এলাকার ২ নং রোডের মৃত মেরাব আলীর ছেলে হাজী আব্দুর নুর,(৭) কল্যানপুরের মৃত জৈন উল্লা্যহর ছেলে সাহাব উদ্দিনসহ একটি জাল দলিল জালিয়াত জড়িত থাকার তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

সুত্র থেকে জানা যায়, এই জাল চক্র একই পরিবারভুক্ত লোক। একে অন্যের সহযোগীতায় বিভিন্নভাবে জাল দলিল তৈরী করে লোকজনের জায়গা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সেরখমই একজন ভোক্তভোগী হলেন সুরুজ আলী। এই জালিয়াত চক্রটি দীর্ঘদিন সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকার জায়গার জাল দলিল বানিয়ে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছে।

সে বিষয়ে আমরা পরের পর্বে তুলে ধরব তাদের কোটিপতি হওয়ার কাহিনী। এদিকে সুরুজ আলীর জায়গা জালিয়াত চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করতে তারই আত্বীয় সাহাব উদ্দিন আমমোক্তার বলে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে বিগত ২২ ফেব্রুয়ারী ২০০৬ সালে সিলেট মাননীয় ১নং আমল গ্রহনকারী হাকিম আদালতে একটি এবং একই সালের ১৪ মার্চ আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

আদালত কর্তৃক মামলা দুটি তদন্তপুর্বক ব্যবস্হা নেয়ার জন্য করে সিলেট কোতয়ালী মডেল থানাকে নির্দেশ জারি করেন। পরবর্তীতে কোতয়ালী থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী এসআই সঞ্জিত দাস ও জাহের ভূইয়াকে মামলা দুটি তদন্ত করার দায়িত্ব দিলে এসআই জাহের ভূইয়া ও সঞ্জিত দাস তদন্ত করে বিগত ২০১০ সালের ১১ই মে আসামীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১ ধারায় অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেন।

পরে আসামীরা আদালতে উপস্হি হয়ে জামিন নিলেও পুর্ব শাপলাবাগ এলাকার ২ নং রোডের মৃত মেরাব আলীর ছেলে হাজী আব্দুর নুর এখনও পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ পত্রে তদন্তকারি কর্মকর্তারা আসামীরা জাল জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং পরধনলোভী বলেও উল্লেখ করা হয়।

মামলা সুত্রে জানা যায়, এই জাল চক্র ভুয়া সুরুজ আলী বানিয়ে প্রকৃত সুরুজ আলীর স্বাক্ষর জাল করে একলাছ নামের একজনকে সনাক্তকারি সাজিয়ে লন্ডর প্রবাসী আসল সুরুজ আলীর জায়গা জাল দলিল যার নং- ১৪১/২০০৪ বানিয়ে বিক্রি করে।এমনকি বিক্রি ভুমিতে জালিয়াত চক্র তাদের মনোনীত লোকজনকে ঐ জায়গায় থাকতে দেয়।

যাতে লোকজন বিশ্বাস করে এ জায়গা তাদের। পরবর্তীতে জাল দলিলের মালিক একলাছ মিয়ার খোজ নিতে গিয়ে তার ঠিকানামতে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লন্ডন প্রবাসী সুরুজ আলী তৎকালীন ভুমি উপমন্ত্রী বরাবরে একটি দরখাস্ত করেন। পরে উক্ত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার ভুমি সিলেট তদন্ত করে দেখেন দলিল সম্পাদনের তারিখে সুরুজ আলী লন্ডনে ছিলেন। অতএব সুরুজ আলীর নামে তৈরীকৃত দলিল জাল। চলবে……………………. 

পুর্ব শাপলাবাগে জাল দলিলে জায়গা বিক্রির আগের সংবাদ পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here