হাসব না কাঁদব?

0
195

এম এ ওয়াদুদ: সম্প্রতি বোরো ফসল তোলার পূর্ব মুহূর্তে চৈত্র মাসের ১ম সপ্তাহ থেকেই শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। আর উজানের ভারতীয় পানি এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করে দেয় সিলেট সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা সহ আরো বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানের প্রায় ৯০ ভাগ ফসলহানি ঘটিয়েছে।

বন্যার পর কয়েক দিনের খরা শুরু হলেও ইতিমধ্যে আধা পাকা ধান পচে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ে। সিলেট-মৌলভীবাজার এর হাকালুকি হাওর ও সুনামগঞ্জের ছোট বড় অর্ধ শতাধিক হাওরের মাছে মড়ক দেখা দেয়, এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা’র মতো অবস্থা।

তারপরও দেখা যায় হাঁসও মারা যাচ্ছে? কৃষকদের গোলার ধান উঠানোর পরিবর্তে হাঁস মোরগ ও মাছের মড়ক সব নিয়ে বৃহত্তর সিলেট জেলায় মঙ্গার অবস্থা বিরাজ করছে। অবিলম্বে হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে না আসলে বন্যা কবলিত জনপদ ধ্বংস হওয়ার উপক্রম।

এরূপ অবস্থায় গত ২০ এপ্রিল ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রকাশিত সিলেটের ডাকে প্রকাশিত সংবাদ ‘‘হাকালুকি হাওরে পরিবেশ রক্ষায় পানিতে ১ টন চুন ফেলা হয়েছে। এতে আমি বিস্মিত হই। আমরা জানি চুন পানি পরিস্কার বা জীবাণু নাশ করতে সহায়তা করে।

তাই বলে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেষ্টিত হাওরে মাত্র ১ টন চুন ফেলা জনগণকে আশ^স্ত করার একটি প্রহসন মাত্র। তাও যদি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সমস্ত হাওরে চুনের পাউডার বা তরলকৃত চুন ফেলা হত তাহলে অন্তত কিছুটা উপকার হত। তার পরের দিন অন্য এক বিশেষজ্ঞের অভিমত ভারতের মেঘালয় থেকে চলে আসা ইউরেনিয়াম মিশ্রিত পানির কারণে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছ মারা যেতে পারে।

আমার প্রশ্ন তাহলে হাকালুকির মাছের মড়ক কেন হল? এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে হাসব না কাঁদব ভেবে পাচ্ছি না। সমাজের বা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেমন খুশি বক্তব্য রাখলে জাতি আস্থার সংকটে ভোগবে। প্রায় বৎসরই হালুকিতে বন্যা হয় বন্যার পানি সরে যাওয়ার মুহূর্তে বিভিন্ন গাছ এবং ঘাস পচে গিয়ে গ্যাস সৃষ্টি হয়।

এতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং মাছ বা অন্যান্য জলজ প্রাণী সহ হাস পর্যন্ত মারা যায়। হাকালুকির চারপাশের ছোট ছোট নদী, খাল ইত্যাদির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি দ্রুত হাকলুকিতে প্রবেশ করে কিন্তু বিরাট জলরাশি জুড়ি নদীর দুইটি নালা দিয়ে কুশিয়ারায় পতিত হত কিন্তু একটি নালা অর্থাৎ ভাটির দিকের প্রবাহ ক্রসজামের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ায় খুব দ্রুত পানি স্ফীত হয়।

এমনকি কুশিয়ারার পানি হাকালুকিতে ঢুকতে থাকে এটাই কি ফি বছরের কাহিনী। নদী খনন এবং জুড়ি কুশিয়ারার সঙ্গমস্থলে একটি স্লুইস গেইট হাকালুকির মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য একটুখানি হলেও স্বস্তি আনতে পারে। ২০১০ সালে আমরা সরকারের কাছে বার বার দাবি জানানোর পর জুড়ি নদী খননের কাজ শুরু হয় তাহা ছিল লোক দেখানো।

এমতাবস্থায় অবিলম্বে বন্যা কবলিত এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে নদী খনন সহ জুুড়ি ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গম স্থলে একটি স্লুইস গেইট স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি। লেখক:- এডভোকেট ও সভাপতি, হাকালুকি বাঁচাও আন্দোলন

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার জন্য সিলেটের সংবাদ ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here