গতকাল কি ঘটেছিল উপশহর এবিসি পয়েন্টে?

0
6475
মৃদুল-আরমানের নোটারী পাবলিক ও কাবিন

সিলেটের সংবাদ ডটকম: গতকাল রাতে হঠাৎ খবর পাওয়া যায়, উপশহর এবিসি পয়েন্ট থেকে একজন তরুনীকে অপহরন করা হয়েছে। এবং এ কাজে সহযোগীতা করেছে সিলেট শাহপরান থানার পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে ২/১ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ করা হয়। কিন্তু সিলেটের সংবাদ ডটকম ঘটনাটি জেনে সিলেট শাহপরপান থানায় যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনার আংশিক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আজ শুক্রবার অনুসন্ধান করে ঘটনা্র বিস্তারিত সম্পর্কে জেনে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করা হলো। গতকাল রাত সাড়ে দশটার সময় উপশহর এবিসি পয়েন্ট থেকে স্বামীর হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া সেই তরুনী ও তার স্বামীকে আটক করে পুলিশ। আটক করার পর তাদের কাছ থেকে জানা যায়, আসল ঘটনা। আটককৃতরা হলো, সোহেল আরমান নাহিদ ও জান্নাতুল ফেরদৌস মৃদুল।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদেরকে টিলাগড় পয়েন্ট থেকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা অবস্হায় আটক করেন শাহপরান থানার এস আই যতন। এসময় পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে আরমান ও মৃদুল একেক সময় একেক কথা বলায় তাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসলে জানা যায় উপশহর থেকে এরাই পালিয়েছিল। পরে মৃদুলের মা রওশন বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করা হয়।

এসময় জান্নাতুল ফেরদৌস মৃদুল পুলিশকে জানায় সে স্বেচ্ছায় আরমানের সাথে (তার স্বামী) পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে কেউ অপহরন করে নাই। পরে তাদেরকে আজ শুক্রবার সিলেট শাহপরান থানার সাধারন ডায়েরী নং- ১১৬৭ তারিখ ২৮ এপ্রিল মুলে সোহেল আরমান নাহিদকে ৫৪ ধারা ও জান্নাতুল ফেরদৌস মৃদুলকে নিরাপদ হেফাজতের আবেদন করে আদালতে প্রেরন করা হয়।

আরমান ও মৃদুল

আটক সোহেল আরমান নাহিদ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার ধানার টেংরা গ্রাম বর্তমানে মেজরটিলা ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার প্রত্যাশা-৩০ নং বাসার বাবুল আহমদের ছেলে। এবং জান্নাতুল ফেরদৌস মৃদুল ওসমানীনগর থানার দক্ষিন রইকদারা গ্রামের আছাব আলী ও রওশন আরা বেগমের মেয়ে। এদিকে আটক মৃদুল ও আরমান পুলিশকে জানায় ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ  ভালবেসে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এবং পরে ২ লক্ষ টাকার কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

এবং মৃদুল ও আরমান তাদের স্ব-পক্ষে কাবিননামা ও নোটারী পাবলিকের কপি সিলেট শাহপরান থানায় জমা দেয়। তাদের জবানবন্দী থেকে জানা যায়, বিয়ে করার পর থেকে মৃদুলের মা-বাবা বিষয়টি মেনে না নিয়ে মেয়েকে কৌশলে তাদের কাছে নিয়ে আটক করে রাখেন। এদিকে মৃদুল তার বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরে পেতে সিলেট নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে একটি বিবিধ মামলা করেন।

উক্ত মামলার খবর পেয়ে মৃদুলের মা রওশন বেগম ও মামা শাহপরান থানা এলাকার মুকির পাড়া বাসা নং-৬৩/বি’র মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম মৃদুলকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় মৃদুল তার স্বামী আরমানকে ফোনে বিষয়টি জানায়। এসময় আরমান তার সহযোগীদের সাথে নিয়ে মৃদুলকে তার মা ও মামার হেফাজত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে মৃদুলের মার মিথ্যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয়।

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here