‘১০ টাকা মুল্যের চাল ডিলার শায়েস্তা মিয়া আমাকে দিয়ে কালোবাজারে পাঠাচ্ছিলেন’

0
143

সিলেটের সংবাদ ডটকম: কানাইঘাটে ১০ টাকা মুল্যের ৬ বস্তা চাল ২টি সিএনজি যোগে কালোবাজারে নেওয়ার পথে উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউপির মির্জাগড় শাহী ঈদগাহের পাশ থেকে স্থানীয় জনতা আটক করেন।

পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজি সহ চালগুলো জব্দ করে ১৯৭৪ ইং সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে।

থানার মামলা নং ১৬-২৬/০৪/১৭ইং। এ ঘটনায় শনিবার রাত ৩টায় এজহার ভুক্ত পলাতক আসামী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউপির এখলাছপুর গ্রামের শওকত আলীর পুত্র চালক সেবুল আহমদ(২২)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদের দিক নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নুনু মিয়া, এসআই পান্না লাল দেব, এসআই রাজিব মন্ডল, এএসআই আব্দুল মান্নান সহ একদল পুলিশ গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।

এসময় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক সেবুল আহমদ স্বীকার করে বলে ১০ টাকা মুল্যের ৬বস্তা চালের মধ্যে ৩ বস্তা চাল তার সিএনজিতে তুলে দিয়ে গোলাপগঞ্জের পরগণা বাজারে বিক্রির জন্য পাঠিয়েছিল ডিলার শায়েস্তা মিয়া ও তার ভাই।

গতকাল শনিবার দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় কানাইঘাটে খাদ্য বান্ধব শিরোনামের খবরে বলা হয় পুলিশের পাশাপশি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমেছে। কিন্তু এ খবরের ভিন্ন মত প্রকাশ করে কানাইঘাট সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুমন আর্চায জানান, ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপিতে গত শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফাওয়াত স্যার সেখানে ১৮জন সুবিধাভোগী ব্যাক্তির মধ্যে চাল বিক্রি করাসহ সার্বিক বিষয় জানতে গিয়েছিলেন, তাই আমি স্যারের সাথে ছিলাম।

আমরা কোন তদন্তে যাইনি। এটির তদন্ত পুলিশ করবে। তবে ডিলার শায়েস্তা মিয়া সহ অন্য আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজাগঞ্জ ইউপি ডিলারের খাতা পত্র ও খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্রের মজুদকৃত চালের হিসাব থেকে দেখা যায় ডিলার শায়েস্তা মিয়া গত মঙ্গলবার দিনে তার ইউপির ২৪৯জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর কাড ধারীর মধ্যে ২৩১জনকে জন প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করেন।

কিন্তু স্থানীয় সুত্রে জানা যায় যেখানে করিম জুট মিলস ও ইউএমসি কম্পানীর চাল দেওয়ার কথা সেখানে রশিদ কম্পানী সহ অস্পষ্ট ভাবে চালের বস্তার উপর লিখা রয়েছে বিভিন্ন কম্পানীর নাম। এমন কি ২০১৪সালের সীলকৃত চালের বস্তাও মজুদ রয়েছে তার বিক্রয় কেন্দ্রে। এলাকাবাসীর মতে প্রকৃত কম্পানীর চাল গুলো কোথায় বিক্রি করলেন ডিলার শায়েস্তা মিয়া।

তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন ডিলার শায়েস্তা মিয়া ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিক্রয় কেন্দ্রে অন্য কম্পানীর চাল রেখে দিয়েছেন। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইফুল আলম সিদ্দিকীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনিও কানাইঘাট সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুমন আর্চাযের কথা সাথে এক মত পোষণ করে বলেন আমরা তদন্তে যাইনি। তবে ২০১৪ সালের সিলকৃত চালের বস্তা ও কোন কম্পানীর চাল ঐ বিক্রয় কেন্দ্রে আছে তা আমার জানা নেই।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here