সিলেটের জৈন্তাপুরে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব

0
182

শোয়েব উদ্দিন, (জৈন্তাপুর): আল্লাহ সিলেটের প্রকৃতিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছেন।দেশের যে সব জেলা পর্যটনের স্বর্গভুমি হিসেবে পরিচিত, সিলেট তার মধ্যে অন্যতম তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই কিছু লোভী মানুষের জন্য এই মনোরম জনপদ টিলা শুন্য হতে চলেছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্তে ও অসাধু প্রভাবশালীরা একের পর এক টিলা কেটে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সৌন্দর্যকে কেড়ে নিচ্ছে। জীববৈচিত্র ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় টিলা কাটা বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার কথা বলা হলেও মাটি বেচার কারবারীদের কাছে এসব শুধুই নীতিবাক্য।

বাড়ি ঘর তৈরীর জন্য সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন টিলা কেটে দংশ করা হচ্ছে। প্রকল্পে বালুর বিকল্প হিসেবে ভরাটের জন্য ঢালাও ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে টিলার মাটি। এক সময় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলর হরিপুর, বাগেরখাল, শ্যামপুর, চিকনাগুল, চারিকাটা, জৈন্তাপুর, সারীঘাট, নলজুরি, ৪নং জৈন্তা ও শ্রীপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় প্রচুর পাহাড় ও টিলা থাকলে ও এখন টিলার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে।

পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, যে হারে টিলা কাটা হচ্ছে তাতেই অচিরেই জৈন্তাপুর টিলা শূন্য হতে পড়রে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর  উচ্চ আদালত সিলেট জেলার ৬ টি উপজেলার পাহাড় টিলা কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও  টিলা কাটা থেমে নেই।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু টিলার মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।তারা পাহাড় টিলা কাটার মতো লাভ জনক ব্যবসা ছাড়তে রাজি নয়। কারণ টিলার মাটি অনেক দামে বিক্রয় করা হয়, টিলা কাটা ভুমি আবাসনের জন্য প্লাট ভালো দামে বিক্রয় করা যায়। এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িতরা অনেকেই এখন কোটি পতি।

জৈন্তাপুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রচুর পাহাড় টিলা, আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণেই পর্যটকেরা ভিড় করে থাকেন এই ভুস্বর্গে। কিছু অসাধু ব্যবসায়িদের কারণে জৈন্তাপুরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে বসেছে। জৈন্তাপুরে প্রভাবশালীরা পাহাড় টিলা কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় করচ্ছে অসাধু ব্যবসায়িরা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধ সত্ত্বেও সম্প্রতি জৈন্তাপুরে ১ টি টিলা কাটার দৃশ্য সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নে ১ টি টিলা কাটা হচ্ছে। এক সময় টিলাটি তার অস্তিত্ব হারাবে। এভাবেই জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্থানের টিলার অস্তিত্ব মুছে দেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছেন, পাহাড় টিলা গুলো দ্রুত রক্ষায় এগিয়ে না আসলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অচিরেই হারিয়ে যাবে জৈন্তাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here