বিয়ানীবাজারে অবৈধভাবে টিলার মাটি কেটে নেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

0
316

সিলেটের সংবাদ ডটকম: বিয়ানীবাজারে অবৈধভাবে টিলার মাটি কেটে নেওয়ায় স্থানীয়দের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কাটছে তাদের দিন। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ার সময় রাত জেগে থাকেন টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি ভারী বর্ষণে উপজেলার বেশ কিছু এলাকার টিলায় ধস নামে। গত ২৬ মার্চ মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন এলাকায় জব্বারের টিলার বিশাল অংশের মাটি ধসে মুরাদগঞ্জ-বারইগ্রাম সড়কের ওপর পড়লে তিন দিন যান চলাচল বন্ধ থাকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ টিলা থেকে দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে মাটি কেটে অন্যত্র নেওয়া হয়। এ কারণে টিলার বিশাল অংশের মাটি ধসে রাস্তার ওপর এসে পড়ে। টিলার ওপরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল বাছিত। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিবেশী অবৈধভাবে ১৬ ফুটের বেশি গর্ত করে টিলার মাটি কেটে নেওয়ায় তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণে টিলার মাটি ধসে পড়ছে।

তাদের বসতঘরের কাছে ফাটল দেখা দেওয়ায় যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে গত ২৬ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগের পরও টিলার মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়িপাড়া, সুপাতলা, নিদনপুর, মোল্লাপুর, মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম, ফেনগ্রাম, ছোটদেশ, ভাগন ও চন্দগ্রাম এলাকা, মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর, পাতন, আব্দুল্লাহপুর এবং লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ, আষ্টসাঙ্গন, লাউতা, পাহাড়িয়াবহর, বাউরভাগ, লাল বাউরভাগসহ টিলাবেষ্টিত এলাকায় অবৈধভাবে টিলার মাটি কাটা হয়ে থাকে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব টিলার মালিকরা অবৈধভাবে কেটে টিলার মাটি অন্যত্র বিক্রি করছেন। পৌরসভার নিদনপুর এলাকার গিয়ে দেখা যায়, বিশাল টিলার পাদদেশে বসবাস করছেন আমিরুল ইসলামসহ তাঁর চার ভাই। বসতঘরগুলো লাগোয়া টিলার চারপাশের মাটি কেটে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে ভারি বর্ষণে টিলার মাটির বিশাল অংশ ধসে আমিরুল ইসলামের বসতঘর পর্যন্ত আসে।

এতে তাদের বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। আমিরুল ইসলাম জানান, তাঁরা পাঁচ ভাই এ টিলার মালিক। এক মাটি ব্যবসায়ী টিলার সব মাটি কেটে নেওয়ার কথা বললেও আংশিক কেটে আমাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া টিলার মাটি কাটা অবৈধ।

টিলার মাটি কাটা বন্ধ করতে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছি। এখন টিলার ওপরে ও নিচে যদি ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী থাকেন তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের খোঁজ নিয়ে আমরা সরানোর ব্যবস্থা করব। টিলার মাটি কাটার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 10 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here