ঋণের দায়ে বাহুবলে ৪ মাস ধরে আত্মগোপনে ইউপি সদস্য

0
186

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বাহুবলে ৪ মাসের বেশি সময় ধরে ইউপি মেম্বার রেজাউল কবির আত্মগোপনে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডবাসী। গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

এসব কারণে ভোক্তভোগী জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার ৪নং বাহুবল সদর ইউনিয়নের চন্দনিয়া, বালিচাপড়া, নোয়াবাদ ও বাবনাকান্দি (আংশিক) গ্রাম নিয়ে গঠিত ৩নং ওয়ার্ড।

ইউনিয়নের পশ্চিম সীমান্তের এ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচিত হন রেজাউল কবির। স্থানীয় নন্দনপুর বাজারের শেখ ভবনের নীচ তলায় ‘শেখ আল-হাবিব ট্রেডার্স’ নামে একটি (যৌথ মালিকানাধিন) হার্ডওয়ার এবং ‘মেসার্স লিপন ক্লথ স্টোর’ নামে ওপর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি।

উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহে পূঁজি সম্প্রসারণের নামে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। নির্বাচনের পর কিছুদিন তিনি জনগণের পাশে থাকলেও ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় গত বছরের শেষের দিকে বালিচাপড়া গ্রামের মৃত নছর উদ্দিবের পুত্র আলাউদ্দিন ওরফে আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল আদালত ০১) আদালতে ৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন।

বাদী জানান, বিগত বছরের ১০ মার্চ মেসার্স লিপন ক্লথ স্টোরের মালিক স্থানীয় বালিচাপড়া গ্রামের মৃত ওয়াজিদ উল্লা’র পুত্র রেজাউল কবিরকে (বর্তমান ইউপি মেম্বার) ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেন। ৩০ নভেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকব লিঃ, হবিগঞ্জ শাখায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামীয় একাউন্টের একটি চেক প্রদান করেন।

একাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করেন। এ প্রেক্ষিতে আলাল উদ্দিন প্রথমে উকিল নোটিশ ও পরে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়াও আরো অনেকে পাওনা আদায়ে তাকে চাপ দিতে থাকলে এক পর্যায়ে রেজাউল কবির আত্মগোপনে চলে যান।

এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার তাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কোটি টাকা ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে আদালতের পরোয়ানা ও ঋণদারের ভয়ে ৪ মাস ধরে আত্মগোপনে আছেন আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার রেজাউল কবির। তার অনুপস্থিতিতে এলাকার লোকজন ওয়ারিশান সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ ও গরু-ছাগলের রশিদ নিয়ে মারাত্মক ভোগান্তিতে আছেন।

ফলে জনমনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুস সালাম বলেন, সাম্প্রতিক ঝড় ও অকাল বন্যায় এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার সাহেবে আত্মগোপনে থাকায় এলাকার মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি বাস্তব পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েনি।

ফলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা পূনর্বাসন ও সহায়তা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন। চন্দনিয়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বী ফরিদ মিয়া বলেন, ৪ মাসের বেশি সময় ধরে আমাদের মেম্বার আত্মগোপনে থাকায় ওয়ার্ডের উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে জনমনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here