গাড়ির হেলপার থেকে কোটি কোটি টাকার ফলিক

1
840

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ফলিক-কালাম চক্র কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিএনপি-জামাতের ছত্রছায়ায় ফলিক-কালাম চক্র কদমতলী বাস টার্মিনালে অপরাধের অভয়ারণ্য তৈরি করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইজারাদার আশরাফুল ইসলাম খান সুহেল।

শুধু বাস টার্মিনালে নয় সিলেটের যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ফলিক-কালাম চক্র। গতকাল বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই অভিযোগ করেন যুবলীগ নেতা সুহেল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুহেল বলেন, সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল জন্মলগ্ন থেকে ফলিক-কালাম চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে নামমাত্র টাকা দিয়ে ইজারা নিয়ে খাস কালেকশনসহ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ১৫-১৬ ও ১৬-১৭ তিনি ও মিসবাহ উদ্দিন তালুকদার ইজারা প্রাপ্ত হন। ইজারা অফিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরর হমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগান তারা।

টার্মিনালে চাদাবাজি, নৈরাজ্য, জুয়া, মদ ইত্যাদি বন্ধ করা। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় প্রচুর উন্নয়ন কর্মকান্ডও পরিচালিত হয়। যার কারণে ফলিক-কালাম চক্রের গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা গাড়ি থেকে নির্ধারিত টাকা না দেওয়াসহ নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। ৯টি বাস কাউন্টারের টাকা লীজ হোল্ডার কে না দিয়ে ফলিক-কালাম চক্র ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ মে টেন্ডার ড্রপিং এর নির্ধারিত তারিখে তিনি টেন্ডার ড্রপ করতে যান। তার সাথে আরো ৪জন যুবলীগকর্মী ছিলেন। ফলিক মিয়াও লোকজন নিয়ে এসে টেন্ডার ড্রপ করেন। এ সময় যুবলীগ কর্মী জাহেদের সাথে ফলিক মিয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তখন জাহেদের সাথে বাকবিতন্ডায় এক পর্যায়ে ফলিক মিয়া প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করলে উত্তেজনা শুরু হয়। তখন যুবলীগ নেতৃবৃন্দকে ঘটনাটি জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীল সদস্যরাও উপস্থিত হন।

যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ও আইনশঙ্খলা বাহিনীল সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সুহেল অভিযোগ করেন, কালাম-ফলিকের সময় টার্মিনালে বিদ্যুতবিল চুরি, মদ, জোয়াসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা চালিয়েছে। ফলিক-কালাম চক্র তাদের স্বার্থে যখন তখন পরিবহণ ধর্মঘট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে এবং সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি ও হেনস্থা করে যাচ্ছে।

গত পহেলা মে দিবসে ফলিকের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একটি সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অসুবিধার কারনে তারা এ সভায় উপস্থিত হননি। ফলিক আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তিনি বলেন, গাড়ির হেলপার থেকে ফলিক কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হল, তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, সর্বোপরি ফলিক-কালাম চক্র জেলা বাস মালিক সমিতিকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

গত উনিশ এপ্রিল জেলা বাস মালিক সমিতির মেয়াদ উত্তীর্ন হলেও এ চক্রের মনমত কমিটি না হওয়ায় নতুন কমিটি এখনও হচ্ছে না। সম্প্রতি সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি, মহানগর যুবলীগের সভাপতি, ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদককে জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

কুচক্রিমহলের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে দাবি করে তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এক সময়ের গাড়ির হেলপার ফলিক কিভাবে কোটি কোটি টাকার অর্থবিত্তের মালিক হলো তা অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

(Visited 2 times, 1 visits today)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here