মসজিদে প্রবেশ করেও ছাত্রলীগের হাত থেকে রক্ষা পেলেন না রঞ্জিত সূত্রধর

0
310

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলায় একটি সেতু’র কাজের অনিয়মের ছবি ফেইসবুকে শেয়ার দেওয়ায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রঞ্জিত সুত্রধরকে বেধরক মারপিট করা হয়েছে।

ঠিকাদারের আত্মীয় স্বজনের হামলা থেকে বাচঁতে এলাকার কান্দিগাঁও মসজিদে ঢুকেও রক্ষা পেলেন না তিনি। মসজিদের ভেতরেই তাকে বেধরকভাবে কোপানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলাবাজার এলাকার কান্দিগাঁও মসজিদে এ ঘটনা ঘটেছে।

মারধরের আঘাতে রঞ্জিতের শরীরের রক্তে মসজিদের বারান্দা ভেসে গেছে। গুরুতর আহত ইউপি সদস্য রনজিত সূত্রধর (৩৫) কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি আলামিন বলেন,‘এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ দিলে মামলা নেব।

জানা যায়, পশ্চিমপাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের মেস্তুর হাটির সামনে একটি সেতু’র কাজ করেছিলেন ঠিকাদার এই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু। কাজের নিম্মমানের ছবি তুলে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন গ্রামের আইনজীবী রাধা কান্ত সুত্রধর। এই পোস্টটি শেয়ার করেন ইউপি সদস্য রঞ্জিত সুত্রধর। এই অপরাধে ঠিকাদার রেজাউল আলম নিক্কুর আত্মীয়-স্বজনরা রঞ্জিত সুত্রধরকে বেধরক পেঠায়।

প্রাণ বাঁচাতে ইউপি সদস্য রঞ্জিত সূত্রধর দৌড়ে পাশের একটি মসজিদে (কান্দিগাঁও মসজিদে) ঢুকেও রক্ষা পাননি। সেখানে ঢুকেও তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর আহত রঞ্জিতকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। ঘটনার সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের আহ্বায়ক মুনসুর আলম সুজন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

মুনসুর আলম সুজন বলেন,‘আমি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক গ্রুপের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক। ঘটনার সময় আমি বাজারে ছিলাম। দৌড়ে গিয়ে দেখেছি লোকজন মারামারি ফিরাচ্ছেন। শুনেছি মসজিদে মারা হয়েছে? আপনিও ছিলেন মারধরে? এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন,‘মসজিদে মারামারি হয়েছে শুনেছি আমি। যারা ঘটনায় যুক্ত ছিল তারা আমার আত্মীয়।

এজন্য অনেকে আমাকে এই পক্ষের বলছেন। কান্দিগাঁও গ্রামের মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লি আব্দুন নূর বলেন,‘মসজিদের ভেতরেই ইউপি সদস্যকে কোপানো হয়েছে। এখনও (রাত ৮ টা) রক্তের দাগ রয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। পশ্চিম পাগলার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন,‘সেতু’র কাজ নি¤œমানের হয়েছে, এটা উল্লেখ করে গ্রামের অ্যাড. রাধা কান্ত সুত্রধরের ফেইসবুক পোস্টটি শেয়ার দিয়েছিলেন রঞ্জিত মেম্বার। এজন্য তাকে মারপিট করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।

থানার ওসি এসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। অভিযুক্ত ঠিকাদার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম আলম নিক্কু বলেন, রাধাকান্ত সূত্রধর আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মিত একটি ব্রীজের কাজের অনিয়ম হয়েছে বলে ফেইসবুকে একটি লেখা আপলোড করেছে।

আমি রাধাকান্তের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি, সে বলেছে আমার সম্পর্কে কিছু লেখেনি, এটি অন্য একজনকে ইঙ্গিত করেছে জানিয়ে লেখা ডিলিট করার আশ্বাস দেয় সে। কিন্তু ঘটনার একদিন পরও এই ইউপি সদস্য আমার নাম উল্লেখ করে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে পোস্টটি শেয়ার করে। আমি থাকে বিষয়টি ডিলিট করার জন্যে অনুরোধ করেছি। সে ডিলিট করেনি।

আপনারা জানেন আমার গোষ্ঠী অনেক বড়। ইতোমধ্যে এটি এলাকায় ছড়িয়ে যায়। আমার আত্মীয়দের অনেকেই এবিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত হন। দুপুরের দিকে দুই জন ছাত্রলীগ কর্মী ও আমার ভাগ্না পোস্টটি ডিলিট করার জন্যে তাকে (রঞ্জিতকে) পাগলা বাজারে অনুরোধ করে কিন্তু রঞ্জিত এটি ডিলিট করেনি। বিকেলের দিকে আমি ঘুমিয়েছিলাম, শুনলাম আমার গোষ্ঠীর মানুষ তাকে বাড়ি যাওয়ার পথে মসজিদে মারধর করেছে। আমাকে নিয়ে ঘটনাটি হওয়ায় আমি বিব্রত।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here