অনিমেষ দাস, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জে’র রক্তি নদীতে ভলহেড নৌকা আটকে রাখায়, তিন উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ২ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে, যেকোন সময় দ্বন্ধ,সংঘাতের আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতনমহল।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার একমাত্র নদী সুরমা হয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের পাশ দিয়ে রক্তি নামে একটি নদী বয়ে যায় তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুরে, রয়েছে ফাজিলপুর বালি-পাথর মহাল।

এ মহাল থেকে প্রতিদিন শত শত বালু-পাথরবাহী বলহেড নৌকা রক্তি নদী হয়ে সুরমায় এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায়। নদী ভাঙ্গনের অযুহাত দেখিয়ে বলহেড আটকে রেখে অচলাবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে রক্তি নদী দিয়ে বলহেড চলাচল বন্দের দাবী জানান, জামালগঞ্জের একটি প্রভাবশালী মহল।

অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় লোকজন প্রতিপক্ষের অহেতুক আন্দোলন প্রতিহত করা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার বালী-পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দ্বন্ধ সংঘাতের সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

শতকরা ৮০ভাগ দেশীয়  নৌকা ড্রেজার সিষ্টেম,বাকী ২০ভাগ ছোট নৌকা শ্রমিক নির্ভরশীল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, শ্রমিক নেতা এমদাদুল হক আফিন্দী’র অফিসের পেছনেই ড্রেজার দিয়ে বালু নিজেই আনলোড করেন। সুনামগঞ্জের কোয়ারীতে রালুর রেইট প্রতি বর্গফুট ৬:৫০ থেকে ৭টাকা পর্যন্ত আর দূর্লভপুরে বিক্রি করতে হবে ১৭/১৮টাকা।

জামালগঞ্জে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জন্য যে আন্দোলন তা সাংঘর্ষিক এবং বেআইনিভাবে করছে। ৫ দিন ধরে ১০০ টি বলগেট বন্ধ করে কোন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়নি। একটি স্বার্থন্বেষী মহল অসৎ উদ্যেশে আন্দোলন করছে।

এটা সরকারকে ও এমপি মহোদয়কে বেকায়দায় ফেলার জন্য জামালগঞ্জ-তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর তিন উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার না করে যদি শ্রমিকরা কাজ করেন তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কিন্তু সেদিকে দৃিষ্ট দিচ্ছেন না আন্দোলনকারীরা।

তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগনেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন,যুগ যুগ ধরে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলতেছে এবং এখান থেকে বালি পাথর যাচ্ছে,জামালগঞ্জের দূর্লভপুর নামক স্থানে কতিপয় স্বার্থেন্বেসী লোকজন তাদের ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিল করার জন্য, রক্তি নদীতে বলহেড আটকে রেখে জোর পূর্বক নৌকা আটক করে,তাদের চাঁদা আদায় ও মারপিট শুরু কওে একটি মহল।

অন্যান্য এলাকার কোন নৌকা আটক না করে শুধু ফাজিলপুরের নৌকাগুলো আটকানো হচ্ছে। আমরা তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শ্রমিকেরা লাওরেরগড় এলাকায় সভা করেছি। যারা অবৈধভাবে নৌকা আটকে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী আশ্রয় নেব, পাশাপাশি পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসুচী নেয়া হবে।এব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ বলেন, বলহেড আটকে রাখা হচ্ছেনা। নৌ-মাঝিদের বুঝিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা নিয়ম তান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, তিন উপজেলা দ্বন্ধ ও সংঘাতের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply