ফেঞ্চুগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতায় প্রবাসী সংগীত শিল্পীকে হয়রানির অভিযোগ

0
34

সিলেটের সংবাদ ডটকম: ফেঞ্চুগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতায় একটি প্রভাবশালী মহল দ্বারা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী এক সংগীত শিল্পীকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কায়েস্থগ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র জয়নুল ইসলাম (জয়) একই গ্রামের মৃত আকমল আলীর পুত্র নূরুল হুদা কুটি’র বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে জয় বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দেশে আসেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি জরুরি প্রয়োজনে ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও বাজারে গেলে কয়েছসহ কুটির ৭/৮ জন লোক জোরপূর্বক তাকে ধরে নিয়ে যায়। তারা সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন একটি ঘরের কক্ষে আটক রেখে প্রায় ৪ ঘন্টা তাকে নির্যাতন চালায়।

এ সময় তার আইফোন সিক্স, রিয়ালসহ মানিব্যাগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে মাইজগাঁও রেলস্টেশনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশ উপস্থিত ছিলো। সেখান থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার এসআই অমৃত কুমার দেব কৌশলে তার পকেটে মাদক ঢুকিয়ে থানায় নিয়ে যান। কুটির ইশারায় থানায় নিয়ে পুলিশ তার উপর নির্যাতন চালায়।

এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় নিজেকে একজন প্রবাসী ও সংগীত শিল্পী পরিচয় দিলে উপরের নির্দেশ আছে বলে পুলিশ তাকে জানায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করে। এ মামলায় তিনি ১৫ দিন কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল ছামাদ মিয়া তদন্তের জন্য এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলেন। এলাকার সবাই তিনি একজন ভালো মানুষ এবং শিল্পী হিসেবে প্রশংসা করেন। এলাকার আছদ্দর আলী, মখলিছুর রহমান মখলিছ, সাবু মিয়া ও রিপন মিয়াসহ অনেকের সাথেই কথা বলে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের কোনো অভিযোগ সরেজমিনে পাননি তদন্ত কর্মকর্তা।

তারপরও গত ৬ এপ্রিল তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি ও দেশে থাকা তার দুই ভাই এবং এলাকার হেলাল আহমদ হেলু, আবুল মিয়াসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে কুটি মিয়া। এই মামলায় আদালত থেকে তারা খালাস পান।

গত ২৪ জানুয়ারি কুটি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয় ২৩ জানুয়ারি কুটি বাড়িতে যাওয়ার পথে তার উপর হামলার চেষ্টা করেন তারা। এ মামলায় জয়সহ তার বৃদ্ধ মা ও বৃদ্ধ ফুফু, কুটির আপন ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী এবং এলাকার লোকজনকে আসামি করা হয়। অথচ গানের নতুন এলবামের জন্য তিনি এ সময় ঢাকায় ছিলেন।

কুটির বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিয়ালীবাজার জামে মসজিদের ভূমি দখলে এসে এলাকার মানুষের দাওয়ার মুখে পালিয়ে যায় নূরুল হুদা কুটি। নিজেকে জাহির করতে একটি সংগঠনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন তার পরিবার মাদক কিংবা কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নয়। কুটি ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। – বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here