স্ত্রীর জন্য স্বামীর ভালোবাসা

0
266

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ‘সবার মতো চলাফেরা করা আমার স্ত্রীর জন্য কঠিন। সেই জন্য আমি রান্না করি। আমি আমার ও আমার স্ত্রীর জন্য রান্না করি। কাজটি কঠিন নয়’, কথাগুলো বলছিলেন সত্তোরোর্ধ্ব রফিক শেখ।

তিনি স্বপ্নবাজ। কারণ তিনি স্বপ্ন দেখেন নিজের স্ত্রীকে নিয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকার। সারা জীবন স্ত্রীর সেবা যত্ন করার। রফিক শেখ বলেন, ‘আমি রান্না করতে কষ্ট পাই না। কিন্তু খুব কষ্ট পাই যখন দেখি আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে রয়েছে।

সেই জন্য আমি একটি চেয়ার কিনে এনেছি, যাতে সে শুয়ে থাকতে পারবে। আর চেয়ারটিকে রান্না ঘরের কাছে বসিয়েছি। কথায় কথায় জানা যায়, তার স্ত্রীর না নাজমা। অসুস্থতার কারণে তার স্ত্রী চলাফেরায় অক্ষম।

তাই বেশিরভাগ সময়ই তার স্ত্রীকে ঘরে খুব অসহায়ের মতো জীবনযাপন করতে হয়। রফিক শেখ বলতে শুরু করেন, ‘আমি যখন রান্না করি সাধারণত তখন তাকে আমি ওই চেয়ারের কাছে নিয়ে আসি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, কীভাবে রান্না করতে হয়।

সে হাসে আর অভিযোগ জানায়, কীভাবে আমি সামান্য ব্যপারগুলো ভুলে যাই। আমি তাকে বলি, যতদিন সে আমাকে মনে রাখবে আমিও ততদিন এসব ভুলে যাব। ‘সে আমাকে চিমটি কাটে। আর বলে আমি অতি শিগগির সবকিছু মনে রাখতে শুরু করব। আমি কোনো উত্তর দেই না। মাঝে মাঝেই সে আমাকে জিজ্ঞেস করে কেনো আমি তরকারিতে কাঁচা মরিচ দেই না।

আমি তাকে মনে করিয়ে দেই তার জন্য মরিচ খাওয়া নিষিদ্ধ। ৬ বছর হলো আমরা তরকারিতে মরিচ খাই না,’ বলেন রফিক। ধীরে ধীরে তিনি আবার বলতে শুরু করেন, ‘আমরা মাঝে মধ্যেই বাড়ির উঠানে যাই। এ সময় সে আমাকে বলে সে কতটা হাঁটতে চায়। আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমি তার পাশে নীরব হয়ে বসে থাকি। এটা খুব বেদনাদায়ক।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত উৎসবে আমি তার জন্য একটি শাড়ি এনেছিলাম। বলেছিলাম তার ছেলে শহর থেকে কিনে তার জন্য পাঠিয়েছে। সে সেইদিন এত্ত খুশি হয়েছিল যে শাড়িটা সারাদিন বুকের মাঝে আগলে রেখেছিল। আমি তাকে বলেছিলাম শাড়িটি আমাকে দিতে, যাতে আমি শাড়িটা আলমারিরে রাখতে পারি। কিন্তু সে দেয়নি।

‘খেতে বসার সময় সে শুধু জিজ্ঞেস করেছিল, কেন আমি তার জন্য সবসময় সাদা শাড়ি নিয়ে আসি। আমি তার কথা শুনে চোখের দিকে তাকাতে পাড়ছিলাম না। কারণ আমি যদি তার চোখের দিকে তাকাই সে সব বুঝে যাবে। আমি বুঝেছিলাম সে সত্যটি বুঝে ফেলেছিল,’ যোগ করেন রফিক শেখ। কিছুটা থেমে রফিক শেখ বলতে শুরু করেন, ‘আমি সবসময় চাই সে (নাজমা) আমার সঙ্গে সারাজীবন থাকুক। মানুষ বলত এতো কষ্টের চেয়ে আমার স্ত্রী মারা গেলেই পারে। এতে আমি খুব কষ্ট পেতাম।

আমি যখন বাইরে যেতাম তখন ঘরে তালা লাগিয়ে বের হতাম। যখন আমি ফিরতাম তখন আমি আতঙ্কে থাকতাম। মনের মধ্যে ভয় কাজ করত। ‘আমার আসার শব্দ শুনে সে বলত ‘তুমি এসেছো’। এই আওয়াজ শুনে আমি গলায় পানি ফিরে পেতাম। আমার নিশ্বাস চলত। এরপর ঘরে ঢুকে তাকে দেখার পর মনে হতো আমার পৃথিবী নিরাপদে রয়েছে। তবে আমি কখনই তাকে বিষয়তি বুঝতে দিতাম না,’ বলেন তিনি। বড় একটি নিশ্বাস ছেড়ে রফিক শেখ বলেন, ‘আমি কখনও চিন্তা করতে পারি না যে, নাজমা ছাড়া আমি কীভাবে পৃথিবীতে বাঁচব’। -প্রিয়কম

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here