কামরান নাকি আসাদ?

2
2761

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ক’দিনও আগেও বেশ কজন ছিলো এই লিষ্টে। আর এই নামের তালিকা ছোট হতে হতে এখন এই দুজনে এসে ঠেকেছে। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর আরেকজন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

সিলেটের রাজনীতি মহলে এই দুজনের নামই বেশ শোনা যাচ্ছে। তাই আওয়ামীলীগের মেয়র লড়াইটা এই দুজনের মধ্যে প্রবলতর হবে বলে সিলেটের নেতাকর্মীরা মনে করেন। গত বছরও আওয়ামীলীগে মেয়র পদে শুধু মাত্র কামরানকেই বুঝাতো।

কিন্তু এ বছর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ  ভিন্ন। তার সময়কার একজন কমিশনারের সাথে বিপুল ব্যবধানে পরাজয় ভালোভাবে নেয়নি দলীয় প্রধান থেকে শুরু করে দলের নীতি নির্ধারকরা। গতবারের এই পরাজয়ের পর থেকে কামরানের ঊর্দ্ধমূখী জনপ্রিয়তার গ্রাফ ক্রমস নিচের দিকে নামতে থাকে।

এর ফলে দলীয় পদ-পদবী থেকেও তাকে বঞ্চিত রাখা হয়। তার তুলনায় মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে দেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ পদ। গত নির্বাচনের পর কিছুদিন নিজেকে আড়াল করে রাখেন কামরান। অনেকটাই নিরব ভূমিকায় অবতীর্ন হন। তবে বছর খানেক পরই সেই আগের কামরানের মতো জনসাধারনের সাথে মিশতে শুরু করেন।

সিলেট নগরী ছাপিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সভা সেমিনার আর বিচার-সালিশ সহ নানা কর্মসূচিতে তার সাবলিল উপস্থিতি নজর কারে নগরবাসীর। আর বর্তমান সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কারাগারে থাকার সময়কালে সাবেক মেয়র কামরানই হয়ে উঠেন নগরবাসীর আশা আকাঙ্খা আর বিচার-সালিশের আশ্রয়স্থল।

এভাবে নিজের অবস্থানটা আবারো পাকাপোক্ত করে নেন তিনি। কেন্দ্রের কাছেও তার অবস্থান এখন অনেক ভালো।  মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার যাদুকরি ক্ষমতা রয়েছে কামরানের। তার দরজা সবার জন্য খোলা। ধনি-গরিব সকলেই কামরানের কাছে যান। সেই কামরান এখনও আগের মতোই আছেন।

এদিকে  সাবেক মেয়র কামরান যখন গত নির্বাচনে পরাজিত হন তখনই আওয়ামীলীগের একটা অংশ মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে সামনে নিয়ে আসেন। নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক আর মতবিনিময় সভাগুলোতে তার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দেন তার অনুসারী ও কামরান বিরোধী বলয়ের নেতাকর্মীরা।

সৎ, স্বজন  ও সহজ-সরল মানুষ হিসেবে এই নগরীতে আসাদ উদ্দিন আহমদের একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে। সর্বোপরি  তার অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ সকলে। শক্তিশালী প্রার্থী  কামরানের নামের পাশে নিজ যোগ্যতায় স্থান করে নিয়েছে আসাদ উদ্দিন আহমদ। তাই আওয়ামীলীগে আরো বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও এ দুজনেই চূড়ান্ত  মোকাবেলা হবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

শেষ পর্যন্ত আসাদ উদ্দিন যদি মেয়র প্রার্থী হয়েই যান তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আওয়ামীলীগ সূত্র থেকে জানা গেছে, সাবেক মেয়র কামরানকে  সংসদ নির্বাচনে নিয়ে আসতে পারেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এই খবরটি যদি সত্য হয় তাহলে আসাদই আগামী দিনের সিলেট নগরীর আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী।

এদিকে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নগরবাসী জানতে চাইছে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কে? তবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ নেতাকর্মীই মনে করেন মেয়র নির্বাচনের লড়াই কামরান-আসাদের মধ্যেই জমে উঠবে। এই দুজনের মনোনয়ন যুদ্ধটায় এক সময় দুইভাগে বিভক্ত হবে সিলেট আওয়ামীলীগ।

তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই মাঠে নামবে। এমনকি যে প্রার্থী  মনোনয়ন পাবে না তিনিও মাঠে নেমে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধানের মতামতের ভিত্তিতেই হবে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।

(Visited 24 times, 1 visits today)

2 COMMENTS

  1. কার তালিকা? তালিকার স্ক্যান কপি দেখালে জনগন ঝুলন্ত চিন্তায় থাকতনা। এতে নিউজের পপুলারিটিও মনে হয় বাড়ে যদিও সিউর জানিনা। মিডিয়ায় জনগনের বাকশক্তির প্রয়োজন,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here