পানের দোকানদার থেকে কোটিপতি জাল মখন : নৈপথ্যে জাল দলিলের ব্যবসা (পর্ব ৩)

0
1060

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: ছিলেন তিনি পানের দোকানদার, দোকানে বসে সারাদিন যা বিক্রি হত তা থেকে লাভের টাকা দিয়ে কোনরখম বাজার করে চলত তাদের সংসার। অপরদিকে বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধার কেয়াটেকার।

সারাদিন কাজ কর্ম শেষে বিকেলে ৫০ থেকে ১শ টাকা পেতেন। বাবার টাকা ও ছেলের পান সিগারেট বিক্রি করে যা লাভ হত এ নিয়েই ছিল তাদের সংসার। কিন্তু আজ তাদের রয়েছে কযেক কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বে-হিসেব টাকা।

পাশাপাশি এক বোনের রয়েছে লন্ডনে মদের ব্যবসা। পাঠক এতক্ষন যাদের কথা বলা হল তারা হলেন, বর্তমান পুর্ব শাপলাবাগের মৃত (হাত কাটা) সোনা মিয়া ও তার ছেলে মাহবুবুর রহমান মখন উরফে জাল মখন।

স্হানীয় কয়েকটি সুত্র থেকে জানা যায়, এক সময় মখনের বাবা সোনা মিয়া ছিলেন বেকার। কোন কাজ কর্ম ছিলনা। তৎকালিন টিলাগড়ের জমিদার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সালাম মিয়ার বাড়িতে কাজ জুটে সোনা মিয়ার।

কাজ ছিল সালাম মিয়ার বাজার-হাট এবং জায়গা সম্পত্তি দেখাশুনা করা। বিনিময়ে পেতেন ৫০ থেকে ১শত টাকা। কিন্তু এ টাকা দিয়ে সোনা মিয়ার সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে। আর সেজন্য তিনি মখনকে সিলেট নগরীর টিলাগড়ে একটি পানের দোকান খুলে দেন। পানের দোকানে সকালে বসতেন সোনা মিয়ার ছেলে মখন আর বিকেলে বসতেন আরেক ছেলে আজিম।

সোনা মিয়ার আরেক ছেলে বর্তমানে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান ছিলেন বেকার। যেহেতু সালাম মিয়ার সম্পত্তির দেখাশুনা করতেন সোনা মিয়া সেহেতু তিনি ছিলেন সালাম মিয়ার খুব কাছের মানুষ। আর এ জন্য সালাম মিয়া মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তির সকল দলিলপত্র সোনা মিয়া নিজের কাছে রেখে দেন।

সালাম মিয়ার ছেলে সন্তান অবুঝ থাকার ফলে সে সুযোগে সোনা মিয়া সালাম মিয়ার অধিকাংশ সম্পত্তি হাতিয়ে নেন। পর্যায়ক্রমে সোনা মিয়া ও মারা গেলে বাবার কাছ থেকে সালাম মিয়ার সকল সম্পত্তির দলিলপত্র হাতে পান মখন। আর তখনই তার মাথায় ঘুরপাক খায় কিভাবে তিনি সালাম মিয়ার সকল সম্পত্তি হাতিয়ে নিবেন।

মখনের বাবা মারা যাওয়ার পর পরই মখন আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তৈরী করেন একটি জাল চক্র। যাদের কাজ ছিল দলিল জাল করে জায়গা বিক্রি করা। আর সেজন্য বাবার দেয়া নামটিও হারান তিনি। একের পর এক জাল দলিল করে নিরীহ জনগণকে হয়রানি করায় স্থানীয়রা তার নাম দিয়েছেন জাল মখন উরফে জেটিবি।

জেটিবি অর্থও স্হানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। জাল, টাউট ও বাটপার এই তিন মিলে সংক্ষেপে জেটিবি। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস ও তফসিল অফিসে মুহূর্তের মধ্যে যে কোন দলিল জাল করে জনগণকে হয়রানি করার কারণেই তার এ নাম হয়েছে বলে স্হানীয় একটি সুত্র থেকে জানা যায়।

ঐ সুত্র থেকে আরো জানা যায়, সালাম মিয়ার ছেলে মেয়েদেরকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে টিপসই-দস্তখত সংগ্রহ করে তাদের বাবার জায়গা জমি বিক্রি করা শুরু করে এই জাল মখন।

সালাম মিয়ার ছেলে সন্তানরা তাদের বাবার সম্পত্তি যতটুকু জানতেন ততটুকুর হিসেব মখন তাদেরকে দিয়েছেন। বাকি সম্পত্তির কোন হিসেব তাদেরকে মখন জানায়নি। আর জাল দলিলের সুত্রে সেসব সম্পত্তির মালিক হয়ে যান তিনি। চলবে……………………………..

(আগের সংবাদ গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন)  (আগের সংবাদ গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন)   (আগের সংবাদ গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন)  

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here