বড়লেখায় ৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

0
330

নজরুল ইসলাম, (বড়লেখা): মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ৪৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে নেই প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে এসব বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম।

সিনিয়র সহকারি শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় দাপ্তরিক কাজ করে ক্লাসে পাঠদান করাতে পারছেন না তারা।

ফলে এসব বিদ্যালয়ে ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে লেখাপড়ার মান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি ৯৬ টি ও সদ্য জাতীয়করণকৃত ৫৩ টি সহ এ উপজেলায় মোট ১৪৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

নিয়োগ ও পদন্নোতি বন্ধ থাকায় এর মধ্যে ৪৮ টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। সিনিয়র সহকারি শিক্ষকদের একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েই চলছে এসব বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক সকল কার্যক্রম।

তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব সহকারি শিক্ষকরা পাঠদান করাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে দিন দিন এসকল বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া সিনিয়র সহকারি শিক্ষদের মধ্যেও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার মন মানসিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেকেই সিনিয়রিটি হিসেব কষিয়ে বদলি হয়েছেন পছন্দসই অনেক বিদ্যালয়ে।

প্রধান শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা খেয়ালখুশী মতো বিদ্যালয় চালিয়ে আসছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সরেজমিন এমন কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে জানা যায়, বেশকয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারি এই দায়িত্ব পাওয়ার ফলে দুজন শিক্ষকের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তাছাড়া মাতৃত্বছুটি ও প্রশিক্ষণের জন্য ডেপুটশন দেয়ায় অনেক বিদ্যালয়েই বছরের বেশীরভাগ সময়  অনুপস্থিত থাকছেন সহকারি শিক্ষকরা। ২/৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যাকয়ের পাঠদান এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম না এ উপজেলায়। দুর্গম এলাকার বিদ্যালয় গুলোতে পাঠদান কার্যক্রন নেই বললেই চলে। অভিবাবকরা জানান, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপের বাচ্চারা এমনিতেই চাপে রয়েছে, এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ায় দায়িত্বে থাকা ঐ শিক্ষকের ক্লাস অন্য একজন শিক্ষক নিতে হচ্ছে।

এতে করে নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নৈমত্তিক ছুটি ও বিভিন্ন কারনে শিক্ষকরাও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছেন না। শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রধান শিক্ষকের এসব শূন্যপদ পূরণ করার দাবি জানান তারা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন এমন কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম আমাদেরই করতে হয়, এসব কাজের ফাকেঁ শ্রেণীতে পাঠদান করাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষকের এসব শূন্য পদ পূরণের কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমাদের এ ভোগান্তি পোহাতে হবে না। শিক্ষার্থীদেরও লেখপড়ার মান ভালো হবে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আলিম বলেন, সহকারি শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালালে পাঠদানে ঘাটতি হয়।

প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ইতিমধ্যে পদোন্নতির যোগ্য সহকারি শিক্ষকদের তালিকা করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।সম্প্রতি পদোন্নতির যোগ্যদের চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ করার উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা জেলায় চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো জেলায় তা কার্যকর হবে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here