কমলগঞ্জে পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত : জনজীবন বিপর্যস্ত

0
132

সিলেটের সংবাদ ডটকম: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বুধবার সারা রাতের টানা বৃষ্টিতে ধলাই নদীসহ পাহাড়ি সবগুলো ছড়ার পানি বেড়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সারা দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে কমলগঞ্জে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

ধলাইসহ পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকায় কমলগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সামুদ্রিক ঘূণিঝড় মোরার প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে কমলগঞ্জে ধমকা বাতাসসহ হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছিল।

তবে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কমলগঞ্জে পাহাড়ি খরস্রোতা ধলাই নদী, পাহাড়ি ছড়া লাঘাটা, খিরনীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়ে যায়। পানি বেড়ে বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা থেকে বিপদ সীমা অতিক্রম করে।

সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি দুই তীর উপচে ও পুরাতন কিছু ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রাম, আলীনগর ইউনিয়ন, শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত করেছে। প্লাবনের পানিতে গ্রামের ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তাঘাটও তলিয়ে যায়।

তবে সবগুলো ফসলি জমিতে এখনও আউশ ধান রোপন করা হয়নি বলে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। প্লাবনের পানিতে শমমেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নিমনাঞ্চলে ব্যাপক এলাকায় বড় ধরনের প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এদিকে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গতকার বৃহস্পতিবার সারা দিন টানা বৃষ্টিপাতে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারেনি।

বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে যেতে পারেনি। রাস্তাঘাটে তেমন যানবাহন চলাচল করেনি। হাট বাজারে লোকজন বের না হওয়ায় দোকানপাঠেও ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে পাাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, একণ সঠিকভাবে পরিসংখ্যান করা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় যেহেতু এখন ভালভাবে আউশ চাসঅবাদ শুরু হয়নি তাই প্রায় ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমির রোপিত আউশ ধান পানিতে নিমজ্জিত আছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আসলেই যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাতে উজানের পাহাড়ি পানি  নেমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে এখন ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমা পুরোপুরি অতিক্রম করেনি।

তবে উজানে ভারতীয় অংশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে পানি আরও বেড়ে বিপদ হতে পারে। এমনকি বন্যার আশঙ্কা হতে পারে বলেও নির্বাহী কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সার্বক্ষনিক নজরদারী করছে। শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক হারুন-অর-রশীদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৭৫ মি:মি: বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও বলেন, আরও ২/১ দিন এরুপ আবাহওয়া থাকতে পারে।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here