ইসলামপুরে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি : নিরব প্রশাসন, অতিষ্ঠ এরাকাবাসী

0
312

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সিলেট সরকারী কলেজের সামনে ট্রাক স্ট্যান্ডে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জফলং-তামাবিলগামী ডিস্ট্রিক ট্রাক থেকে ৫০ খেকে ১০০টাকা হারে চাঁদা নেয়া হয়।

এর বিপরিতে কোন রসিদ বা প্রমান দেয়া হয়না। ট্রাক ড্রাইভারদের বলা হয়ে থাকে মসজিদ অথবা মাদ্রাসার কথা। আর স্বভাবত ড্রাইভাররা মসজিদ মাদ্রাসার নাম শুনে চাঁদা দিয়ে দেন। কিন্তু এসব টাকা যাচ্ছে কোথায়?

তার অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। এ যেন আরেক আবু সরকার। মেজরটিলার ইসলামপুর এলাকার মুজিব পাহারাদারের ছেলে সিরাজ মিয়াই হলেন এই চাঁদাবাজির মুল ঠিকাদার। তার সাথে রয়েছেন চাঁদাবাজির সাব-ঠিকাদার ইসলামপুরের ট্রাক স্ট্যান্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া।

জনশ্রুতি রয়েছে আজাদ-সিরাজের বর্তমানে রয়েছে ২টি করে ট্রাক। যা এর আগে কোনদিনই লোকজন দেখেননি বা শুনেননি। কারন সিরাজ মিয়ার বাবা ছিলেন একজন পাহাদার। আর পাহাদারের ছেলে হয়ে সিরাজ মিয়া কিভাবে ট্রাকের মালিক হলেন তার হিসেব মেলালেই বুঝা যায়, তার রয়েছে ট্রাক স্ট্যান্ডের নামে আলাদিনের চেরাগ।

যা থেকে প্রতিদিন তিনি আয় করেন প্রায় ১০হাজার টাকা। স্হানীয় সুত্র থেকে জানা যায়, সকাল ৮টা থেকে চাঁদাবাজি শুরু হয়ে তা গভীর রাত অবধি চলে। সুত্র থেকে জানা যায়, মসজিদ-মাদ্রাসার নাম করে তিনি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই টাকা দিয়েই কিনেছেন ট্রাক, তার রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব যা যে মসজিদ বা মাদ্রাসার নামে চাঁদা উঠানো হয়ে সেই মসজিদ বা মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষরাই কিছুই জানেন না।

আর জানলেও কিছু করার নাই কারন সিরাজ-আজাদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তথাকথিত কয়েকজহন নেতাকে ম্যানেজ করেই চলে তাদের চাঁদা তোলার মিশন। তাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অসহায় ট্রাক চালকরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো অনেক চালককে প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে এই চক্রটির হাতে।

ফলে ট্র্রাক চালকরা একেবারেই অসহায় তাদের কাছে। আর এই চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রত্যাক্ষ্যভাবে সহযোগিতা করছে পুলিশ। পাশাপাশি এই স্টেন্ডে মাঝে মধ্যে বসে মাদকের আড্ডা। গভীর রাত অবধি চলে মাদক সেবন। আর সে কারনে এলাকাবাসীও মাঝে মধ্যে তাদের হাতে লাঞ্চিত হচ্ছেন বলেও সুত্রটি নিশ্চিত করে।

ট্রাক স্টেন্ড এর চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবহারের কারনে অত্র এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, অবৈধ এই ট্রাক স্টেন্ডের বিরুদ্ধে কিছু বললেই সিরাজ-আজাদের পক্ষে কিছু নেতা এসে মহড়া দেন। আমরা ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারিনা। তবে এলাকাবাসীর দাবী প্রশাসন এর সুষ্ঠু সমাধান করবেন।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here