বড়লেখায় বন্যার পানিতে একাকার : কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

0
231

নজরুল ইসলাম, (বড়লেখা): বড়লেখায় শুক্রবার রাতের ভারি বর্ষণে এবং পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চল সহ পানিতে একাকার হয়ে আছে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহা সড়ক।

পৌর এলাকার উত্তর চৌমুহনী,পানিধার ছাড়াও কাঠালতলী,দক্ষিণভাগ সহ ৮ স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পানিধার থেকে কাঠালতলী বাজার এবং কাঠালতলী বাজার থেকে পশ্চিমুখী সড়কে সাইডিং পর্যন্ত বিস্তীর্ণ প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক তিন ফুটের অধিক পানির নিচে রয়েছে।

এতে ভারী যানবাহন চলাচল ছাড়া সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের  বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় লোকজন মারাত্মক দুর্ভোগ পড়েছেন। দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও দেড়শতাধিক দোকানপাঠে পানি টুকে পড়ে। এছাড়া মৎস চাষের হ্যাচারী পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

বন্যায় আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ভোক্তভোগীদের দাবি। সরেজমিন বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, কাঠালতলী বাজারের ছাদিয়া ফেন্সী ষ্টোর, মিতা মেডিকেল হল, আল-আমিন ভ্যারাইটিজ ষ্টোর, নাঈমা ষ্টোর, বুশরা ভ্যারাইটিজ ষ্টোর সহ প্রায় শতাধিক দোকানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে।

এতে পানিতে ভেসে এবং পণ্য ভিজে গিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের ০২ নং সদস্য শহীদুল আলম শিমুল জানান, তার মৎস চাষের আটটি হ্যাচারী পানিতে তিলিয়ে যাওয়ার প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া পেঁপেঁ বাগানে বন্যার পানিতে ঢুকে পড়ায় দুই সহস্রাধিক পেপে গাছ মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এদিকে কাঠালতলী সাইডিংস্থ রেল ষ্টেশন থেকে ছেং ছড়া পর্যন্ত পানি নিস্কাশনের খাল ভরাট করে গোয়ালঘর স্থাপন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।পানি নিস্কাশন না হওয়ায় এখানে প্রায় ২০ টি পরিবার পানি বন্দি রয়েছে এবং জমাট পানিতে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে কাঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কাঠালতলী জামে মসজিদটি।

এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ সিরাজ উদ্দিন বলেন, শত বছরের পানি নিস্কাশনের এই ব্যাবস্থাটি নুরুজ আলী, মোক্তার আলী, নিমার আলী ভরাট করে রেখেছে। নির্মাণাধীন মসজিদটি ঝুকিতে রয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার শিকার কয়েকটি পরিবার দুর্ভোগে রয়েছে। পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা দরকার।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের ডুবে যাওয়া অংশটুকু পার হতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ভারী যানবাহন চালকরা। ২০০ মিটার জায়গা পার করতে আদায় করা হচ্ছে মাথাপিছু ২০ টাকা হারে। ট্রাক ও ট্র্যাক্টরে করে ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে শতশত মানুষ। দূরগামী সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ যেন শেষ হবার নয়। অতিরিক্ত ভাড়া নির্বাহ করতে ব্যার্থ অনেককেই নিরাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here