সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ

0
219

সিলেটের সংবাদ ডটকম: কানাইঘাটে শায়েস্তা মিয়ার জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কানাইঘাট উপজেলার দেওয়ানচক গ্রামের মৃত ইছরাক আলীর স্ত্রী আছারুন নেছা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শায়েস্তা মিয়া কানাইঘাট উপজেলার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর আগে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে তিনবার ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে শায়েস্তা মিয়ার জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়ীক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মহল ওঠেপড়ে লেগেছে।

রাজাগঞ্জ বাজারে নজির এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শায়েস্তা মিয়া। সরকার অনুমোদিত ডিলার হিসেবে ১০ টাকা মূল্যের ৩০ কেজি চালের (খাদ্য বান্ধব কমৃসূচীর) কার্ডধারীগণের মধ্যে চাল বিতরণ করে আসছেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ডিলার নিযুক্ত হওয়ার পর অদ্যবধি তার বিরুদ্ধে কোনরূপ অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেনি।

গত ১৭ এপ্রিল ৭ হাজার ৪শ’ ৭০ কেজি চাল উত্তোলন করে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজার ৯শ’ ৩০ কেজি চাল কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করেন। এর মধ্যে ৫শ’ ৪০ কেজি চাল অবশিষ্ট ছিল। অবশিষ্ট এ চাল ১৭ মে উপজেলা টেগ কর্মকর্তা বেলাল আহমদ ও গোদাম প্রতিনিধি কারেন্ড বাবু, ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রফিক আহমদ ও সরফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতির মাধ্যমে ১৮জন কার্ডধারীর মধ্যে ৩০ কেজি করে বিতরণ করা হয়।

আছারুন নেছা আরো বলেন, লুৎফুর রহমান, ছালিম আহমদ, আওলাদ হোসেন, হোসেন আহমদ, মাসুদ আহমদ ও আফছরসহ প্রতিদ্বন্দ্বী মহল তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পরিকল্পিতভাবে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জাগড় শাহী-ঈদগাহ সংলগ্ন কানাইঘাট-সিলেট পাকা সড়কের উপর সরকারি ন্যায্য মূল্যের চাল আটকের একটি নাটক সাজায়।

তার ছেলে শায়েস্তা মিয়া ও কলেজ পড়–য়া অপর ছেলে আশফাক এর বিরুদ্ধে সরকারি চাল পাচারের মিথ্যা অভিযোগ আনলে স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করেন। তারা আটককৃত চাল কানাইঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশকে প্রভাবিত করে লুৎফুর রহমান ও তার সহযোগীরা ভুয়া স্বাক্ষী সাজিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ১৬।

তিনি বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ৬ বস্তা চাল শায়েস্তা মিয়ার মালিকানাধীন নজির এন্টারপ্রাইজের কিংবা নজির এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক সরকারী গোদাম থেকে উত্তোলনকৃত ছিল না। উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনাস্থলে যান এবং গোদামজাতকৃত চাল যথাযথ মওজুদ রয়েছে বলে পরিদর্শনে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, শায়েস্তা মিয়ার প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিত ছাড়া এভাবে ঘটনাস্থলে একত্রিত হওয়ার সুযোগ নেই। কারন ঘটনাস্থল থেকে তাদের সকলের বাড়ী ৩/৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘনবসতিপূর্ণ এমন একটি এলাকায় ঘটনার স্বাক্ষী তাদের লোকজন ছাড়া আর কেউ নেই যা রহস্যের জন্ম দিচ্ছে।

ঘটনার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কাউকে সনাক্ত করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের লোকজনের জবানবন্ধীর আলোকে রহস্যজনকভাবে মামলা নেয় পুলিশ। তার দুই ছেলেকে নির্বাচনী শত্রুতাবশত সাজানো মামলার আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন সঠিক তদন্ত হলে ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা বাতিলের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মিছবাহ উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, আয়াছ আলী, ইসমাইল আলী, ফয়ছল আহমদ, হবি রহমান ও হামিদ আলী প্রমুখ। – বিজ্ঞপ্তি

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here