বড়লেখায় খাল ভরাট করে গোয়ালঘর নির্মাণ : দুই শতাধিক মানুষ দুর্ভোগে

0
182

নজরুল ইসলাম, (বড়লেখা): মৌলভীবাজারের বড়লেখার কাঠালতলীতে খাল ভরাট করে গোয়ালঘর নির্মাণের ফলে দুটি মসজিদ, পাকা রাস্তা, ২৫টি পরিবার পানি বন্দি থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এতে দুর্ভোগে রয়েছে ২০ টি পরিবারের দুইশতাধিক মানুষ। সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কাঠালতলীর রেল ষ্টেশনের পশ্চিম পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী প্রায় শত বৎসর থেকে পানি নিস্কাশনের খালটি ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের জন্য ভরাট করে গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন ঐ এলাকার নুরুজ আলী,মোক্তার আলী, নিমার আলী গং রা।

এতে পানি নিস্কাশন ব্যাহত হওয়ায় পানি বন্দি হয়ে আছে বেশ কয়েকটি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ। এছাড়া কাঠালতলী সরকারি প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ১ নং কাঠালতলী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানি জমে যাওয়ায় নির্মাণাধীন মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা না করলে নির্মাণাধীন মসজিদের নিচের মাটি নরম হয়ে যেকোন ধরণের দূর্ঘটনা ও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এছাড়া রেল ষ্টেশন সংলগ্ন মসজিদটি জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। পানি জমে আশেপাশের মৎস চাষের হ্যাচারী পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।এতে হ্যাচারী মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে এক সপ্তাহ পূর্বে সিসি ঢালাই করা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বাড়ি মুখী ২০০ মিটার রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

শীঘ্রই এখান থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা না করলে নতুন ঢালাই করা এ রাস্তা গলে যাওয়ার আশংকা করছেন ঐ এলাকার সচেতনমহল। পানি নিস্কাশন বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ সিরাজ উদ্দিন বলেন, “রেলওয়ে সংলগ্ন দক্ষিনমুখী খাল দিয়ে এই এলাকার পানি গিয়ে ছেংছড়ি খালে পড়তো।

এটা শত বৎসরের পুরনো পানি নিস্কাশন ব্যাবস্থা। সম্প্রতি এলাকার স্বার্থলোভী একটি পরিবার তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের খালটি ভরাট করে রেখেছে। আমরা এলাকাবাসী বাধাঁ প্রদান করলেও তারা এসবের তোয়াক্কা করেনি। আমি চাই এখানে পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা পূর্বাস্থায় ফিরে আসুক। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাগব হবে।

তাছাড়া নির্মাণাধীন মসজিদটির নির্মান কাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বুরহান উদ্দিন রানা, ময়নুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ সহ অনেকেই জানান, আমরা বিষয়টি মৌখিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বারকে অবগত করি। নুরুজ আলী গংরা চেয়ারম্যান, মেম্বারের কোন তোয়াক্কা করেনি। তাই আমরা দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করছি।

(Visited 10 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here