মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করতে চায় কুয়েত

0
191

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: কাতারের সঙ্গে মালদ্বীপসহ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী সাত দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের পর যে কূটনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে; তা নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত।

সোমবার রাতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহর মধ্যে টেলিফোনে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।

কাতার ও কুয়েতের আমিরের টেলিফোন অালাপের বিষয়টি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি। তিনি বলেন, ফোনালাপে কুয়েতের আমির কাতারের আমিরকে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে তার যে ভাষণ দেয়ার কথা ছিল; সেটা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করেন কুয়েতের আমির। ২০১৪ সালেও এরকম দায়িত্ব নিয়েছিল দেশটি। কুয়েতের আমিরের প্রস্তাবের পর নিজের ভাষণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন কাতারের আমির। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কুয়েতের আমিরকে কাতারের অামির নিজের অভিভাবকের মতো শ্রদ্ধা করেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েকজন বিশ্ব নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ কাতারের আমির, সৌদি আরবের বাদশা ও কুয়েতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রও এ সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে দেশটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা।

কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা আছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে কাতারের মার্কিন ঘাঁটি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিস্থিতিতে ফিফা।

সোমবার সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, ইয়েমেন ও মালদ্বীপ কাতারের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তাদের অভিযোগ, মুসলিম ব্যাদারহুড, ইসলামিক স্টেট (আইএস), অাল কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে কাতার। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এসব দেশের নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ওই সাত দেশের নাগরিকদেরকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে কাতার থেকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে বসবাসরত কাতারিদেরও একই সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া অাকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে প্রতিবেশি দেশগুলো কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে বাইরের দেশগুলো থেকে কাতারে পণ্য আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সূত্র : ডি ডব্লিউ।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here