নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে পানিবন্দি মানুষের হাহাকার

0
181

খালেদ আহমদ: মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা অংশে সৃষ্ঠ ৯টি ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। দুই উপজেলায় শতাধিক গ্রামে হাজার হাজার পরিবারের দুর্গত মানুষের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সামান্য চিড়াগুড় ছাড়া আর কোন ত্রাণই পৌঁছায়নি।

ফলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে চলছে হাহাকার। এদিকে বন্যার পানি বাড়ি ঘর থেকে না নামায় মানুষ মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে অথিকাংশ বন্যা কবলিত মানুষ নিজ বাড়িতে পানিবস্দি অবস্থায় বসবাস করছে।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী জানান, জেলা প্রশাসক থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ ও চাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মঙ্গলবার ০৬ জুন উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাপ্ত এই ত্রাণ কুলাউড়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ শরীফপুর, হাজীপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নে বিতরণ করা হবে।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালিক, শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, জানান, স্থানীয়ভাবে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু শুকনা খাবার যেমন চিড়া গুড় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কোন সরকারি ত্রাণ এখন পর্যন্ত ইউনিয়নে পৌঁছায়নি। হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু জানান, ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে শরীফপুর ইউনিয়নে।

ভাঙন দিয়ে লোকলয়ে আসা পানিতে হাজীপুর ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবাই শরীফপুর নিয়ে চিন্তিত কিন্তু হাজীপুরের বানভাসী মানুষের কথা কেউ ভাবছে না। বিষয়টি তিনি কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম ও টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রিপন মিয়া জানান. নিজস্ব অর্থায়নে আমরা মানুষকে যতটা পারি সহায়তা করার চেষ্টা করছি।

সরকারি কোন ত্রাণ পাই নি।  কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, কুলাউড়া উপজেলায় দুর্গত মানুষের জন্য মাত্র ৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ পেয়েছি। এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণকে তাদের অবস্থান থেকে যেন দুর্গত মানুষকে সহায়তার জন্য বলা হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিলাগাঁও ইউনিয়নে ৩০০ পরিবারকে ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার যেমন চিড়া, গুড়, পানি এসব বিতরণ করা হচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম জানান, আমি সরেজমিন নিশ্চিন্তপুর ও মিয়ারপাড়া ভাঙন এলাকা পরিদর্শণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের জন্য অল্প পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আমার হাতে যা ছিলো, অর্থাৎ ৪০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা সবটাই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য বরাদ্ধ দিয়েছি। এই বরাদ্ধ পাবে মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ। আরও লিখছি। বরাদ্ধ এলেই দ্রুত তা দেয়া হবে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here