সিলেট নগরীতে নেশার আরেক নাম ঘুমের ঔষধ

0
2178

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদের পাশাপাশি এবার নেশার রাজ্যে যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ট্যাবলেট মাদক সেবীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে।

মাদকদ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে এবং পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার ফলে মাদক সেবীরা ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন ফার্মেসীর কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে।

হাত বাড়ালেই যে কোন ঔষুধের ফার্মেসী থেকে অনায়াসে মিলছে ঘুমের ট্যাবলেট। প্রতিটি এলাকায় লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট। সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় সয়লাব।

নগরীর অলিগুলিতে গড়ে ওঠা ঔষুধের দোকানগুলোতেও প্রায় প্রতিদিনই অন্যান্য ঔষুধের চেয়ে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে বেশি।

এর মধ্যে সিলেট নগরীর টিলাগড়েই আছে এরখম কয়েকটি ফার্মেসী যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ পেকেট ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সরকারি নিয়মনীতিমালায় যে কোন ঔষধ, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ থাকলেও এলাকার ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন শত শত ঔষুধের দোকান, ঘুমের ঔষধ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব ফার্মেসী সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র শুধু টাকার বিনিময়েই বিক্রি করছে।

নেশার উদ্দেশ্যে সেবনে আসক্ত ব্যক্তিরা তা ক্রয় করে সেবন করছে। এসব ঔষুধ খেয়ে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন ধ্বংস করছে। ঘুমের ট্যাবলেট বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ মানুষকে সেবন করিয়ে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। নিভিয়ে দিচ্ছে জীবন প্রদীপ। অথচ এসব ঔষধ গুরুতর অসুস্থ্য, দুর্ঘটনার আহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ লোকজনের ঘুমের ব্যাঘাত ঠেকাতে উৎপাদন ও বাজার জাত করছে।

ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসব ঔষধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার আশায় বিক্রি করছে। ঘুমের ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে লাইজন, সেডিল, ট্রাইপট্রিন, ডরমিটল, ল্যাগজুটেনিল, গোফাম, এক্সিউনিল, ইজিয়াম, পেইস, হাইফনোফাস্ট, ডিসোপান, ক্লোসান, মিলামসহ আরো ।নেক ঔষধ।

এসব ঔষধ সিলেট নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসীতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের আশায় ফার্মেসীর মালিকরা সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যে কোন ব্যক্তির হাতে ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছে। আর এসব ঘুমের ট্যাবলেট মাদকাসক্তদের হাতে চলে যাচ্ছে অনায়াসে। জানা যায়, রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন কোন ফার্মেসীর মালিকের কাছে বিক্রি করাও নিষেধ। অতি লাভের আশায় কিছু কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা সরকারের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নাম সর্বস্ব ফার্মেসীগুলোতে বিক্রি করছে। ঔষধ নীতিমালার সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা বিভিন্ন ফার্মেসীর মাধ্যমে মাদকাসক্তদের কাছে চলে এসব ঘুমের ঔষধ।

(Visited 143 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here