টুলটিকর ইউনিয়নে জেলেদের চাল নিয়ে চালবাজি (পর্ব-১)

0
935

সিলেটের সংবাদ ডটকম একক্লুসিভ: বর্তমান সরকারের সুন্দর পদক্ষেপকে বিতর্কিত করতে জেলেদের চাল নিয়ে টুলটিকর ইউনিয়নের সংরক্ষিত (১,২,৩) মহিলা মেম্বার আমিনা বেগম ও চেয়ারম্যান আলী হোসেনের বিরুদ্ধে চালবাজির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৬০ কেজি চাল ও ১ হাজার টাকা দেয়ার কথা্ থাকলেও তা অনেকে পাচ্ছেন না। অপরদিকে যাদের দেয়া হচ্ছে তারা অধিকাংশরাই ব্যবসায়ী। স্থানীয় জেলে পরিবারের মধ্যে অনেকে বৈধ কার্ডধারীরা ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে চাল পেয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ কেজি।

কিন্তু কার্ডধারী ছাড়া অনেকে পাচ্ছেন ৫৫ কেজি করে আর এসবের কারন এরা সবাই চেয়ারম্যান এবং ঐ মহিলা মেম্বারের আত্বীয় স্বজন। এমনকি এক ঘরে দু’জনকেও দেয়া হয়েছে চাল ও টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সঠিক ভাবে কোন জেলেই ৬০ কেজি চাল বা টাকা পায়নি, তাহলে এত চাল কোথায় যাচ্ছে?

আর এনিয়ে নানান প্রশ্ন উকিঝুকি দিচ্ছে সর্বত্র। সুত্র থেকে জানা যায়, অত্র ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেরা কার্ড পায়নি কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশয়ে অনেকেই নামে-বেনামে কার্ড পাচ্ছেন যত্রতত্র ভাবে। যা কিনা একমাত্র চেয়ারম্যান আলী হোসেনের আত্বীয়র বলে। এ ব্যাপারে টুলটিকর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সায়েম জানান, টুলটিকর ইউনিয়নের একমাত্র জেলেরা হচ্ছেন কুশিঘাট এলাকার।

কিন্তু এদেরকে কোন চাল বা টাকা না দিয়ে অন্যত্র চার ও টাকা বিতরন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তিনি বলেন, সিলেট সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জেলেদের জন্য চাল ও টাকা আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার টুলটিকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেনকে এগুলো বন্ঠন করার জন্য দায়িত্ব দেন।

কিন্তু আলী হোসেন টুলটিকর ইউনিয়নের মেম্বারদের বিষয়টি না জানিয়ে টুলটিকর ইউনিয়নের সংরক্ষিত (১,২,৩) মহিলা মেম্বার আমিনা বেগমকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু মহিলা মেম্বার আমিনা বেগম আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই চেয়ারম্যান আলী হোসেনের কথামত তার পরিচিতদের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরন করেন।

তিনি আরো জানান, আমার কাছে এলাকার লোকজন এসেছে এ বিষয়ে বিচার প্রার্থী হয়ে। এদিকে টুলটিকর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাবিবুর রহমান ফয়সল জানান, চাল ও টাকা বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। যারা জেলে নয় এবং ব্যবসায়ী এমন লোকদের বিতরন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এসব লোকদের তালিকা সংগ্রহ করেছি।

তাতে দেখা যায়, অধিকাংশ লোকই বিভিন্ন ব্যবসায়ী। অপর দিকে কুশিঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। স্হানীয় সুত্র থেকে জানা যায়, চেয়ারম্যান যাদেরকে প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন নির্বাচনে পাস করলে তাদেরকে সাহায্য করবেন এমন লোকদের ঘরে চাল ও টাকা দেয়া হচ্ছে।

আর সেজন্য তিনি আমিনা বেগমকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সিলেটের সংবাদ ডটকম চাল ও টাকা বিতরনের একটা তালিকা সংগ্রহ করে, তাতে দেখা যায়, যাদেরকে চাল ও টাকা দেয়া হচ্ছে তারা প্রায়ই ব্যবসায়ী। এদিকে চাল ও টাকা বিতন নিয়ে গতকাল কুশিঘাট এলাকায় মারামারির ঘটনাও ঘটে।

কিন্তু এরপর চেয়ারম্যান ও আমিনা বেগমের কোন টনক নড়েনি। একটি সুত্র থেকে জানা যায়, চাল ও টাকা বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানানো হয়েছে। রেববার যদি এর সুষ্ঠু সমাধান না হয় তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও সুত্র নিশ্চিত করে। চলবে……………  

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here