বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আলম খান মুক্তির

0
1811

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তির। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কিছুতেই।

বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে একের পর এক নানা অঘটনের জন্ম দিয়েই যাচ্ছেন তিনি। একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের অপরদিকে ক্ষমতার দাপটে কারণে-অকারণে হামলা লাঞ্চনার ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন তিনি।

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে ছোটখাটো ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর সে কারনে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে সিলেট মহানগর যুবলীগকে।

মহানগর যুবলীগের আহবায়কের পদ পাওয়ার পর আলম খান মুক্তি সুপার পাওয়ারে পরিনত হন। তার ভাইসহ আত্বীয় স্বজন সাবাইও সে সুপার পাওয়ারের অংশিদার হন। যেমন, ২০১৪ সালের ১৮ আগষ্ট আলম খান মুক্তির চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কারন আলম খান মুক্তির আরেক ভাই বেলাল খান ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আলম খান মুক্তির ছোট ভাই ইয়ামিন আরফাত খানকে মদসহ সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশ আটক করে। কিন্তদু আলম খান মুক্তির সেই সুপার পাওয়ারের কারনে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এরপর ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল তার নিজ দলের যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গীরদার আলম খান মুক্তির হাতে লাঞ্চিত হন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একা তার নেতৃত্ব দেখাতে গিয়ে এবং যুবলীগের অন্যান্য নেতাদের নাম বাদ দিয়ে কমিটি জমা দিলে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও আরো অনেক কাহিনীর জন্মদাতা এই আলম খান মুক্তি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেটে আসলেই তিনি হয়ে উঠেন বেপরোয়া। কাউকে তিনি সম্মান দিতে নারাজ। একটি সুত্র থেকে জানা যায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট আসলেই মুক্তি যুবলীগ, ছাত্রলীগ তথা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সাথে শুরু করেন খারাপ আচরন।

তার এসব আচরন দেখে মনে হয় তিনিই একমাত্র নেতা যিনি সিলেট আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে পরিচালনা করছেন। আলম খান মুক্তি সর্বশেষ বিতর্কের জন্ম দিলেন চলতি মাসের ৮ জুন।

ঐ দিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গেলে সিলেট জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য মোহাম্মদ শাহানূরের সাথে আলম খান মুক্তির অসদাচরণের ঘটনা ঘটে।

তিনি শাহনুরকে গালিগালাজ করেন এমনকি তাকে মারার জন্যও এগিয়ে আসেন। এসময় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হলেও পরে এ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়। আলম খান মুক্তির এমন ব্যবহারের জন্য তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মিছিল মিটিং হচ্ছে।

এমনকি তাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কারের দাবী জানানো হয়। একটি সুত্র থেকে জানা যায়, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচনে তার ভাই ছাত্রদলের সাবেক নেতা বেলাল খান পরাজিত হওয়ায় এবং শাহনুর নির্বাচিত হওয়ায় আলম খান মুক্তি হিংসার বশবর্তী হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরনে লিপ্ত হয়েছেন।

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here