বড়লেখায় ৩ বছরেও শেষ হয়নি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও একাডেমিক ভবনের কাজ

0
188

নজরুল ইসলাম, (বড়লেখা): মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওরপারের ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর ৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজও কাজ সম্পন্ন করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

ওয়ার্কঅর্ডার অনুযায়ী নির্মাণ কাজ ১ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্ত ৩ বছরেও তা শেষ না করায় স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম ও অফিস কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষের অভাবে ঝড়ে বিধ্বস্ত একটি ঘরে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিজ্ঞানের ক্লাস।

লাইব্রেরী কার্যক্রম বন্ধ রেখে ৩ বছর ধরে এ রুম ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষক মিলনায়ন ও প্রধান শিক্ষকের অফিস হিসেবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর হাকালুকি হাওরপারের ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে দুই তলা বিশিষ্ট স্কুলের একাডেমিক ভবন কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের টেন্ডার আহবান করে।

১২ মাসে সম্পন্ন করার শর্তে ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ নির্মাণকাজের ওয়ার্ক অর্ডার পায় মৌলভীবাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তোফায়েল আহমদ। ঐ বছরের ১৮ আগষ্ট প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত একাডেমিক ভবন কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন।

ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৭ আগষ্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তোফায়েল আহমদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্ত কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কার্যক্রম ও শিক্ষকদের অফিস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সার্বিকভাবে স্কুলের ৫শতাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকার বন্যা কবলিত লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষক শ্রীবাস চন্দ্র দাস জানান, দীঘদিন যাবৎ নির্মাণ কাজ ঝুলিয়ে রাখায় শিক্ষার্থীর পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। শ্রেণীকক্ষের অভাবে অনেকগুলো ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। সার্বিকভাবে যার প্রভাব পড়ছে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। ঠিকাদারকে ফোন করেও পাওয়া যায় না। নির্মাণকাজ সম্পন্নের ব্যাপারে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন জানান, যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার প্রায় কোটি টাকার বিল্ডিংটির বরাদ্দ দিলেন কিন্তু ঠিকাদারের চরম উদাসীনতায় তা ভেস্তে যাচ্ছে। বিল্ডিংটির নির্মাণকাজ অসম্পুর্ণ না থাকলে এবারের ২-৩ দফা বন্যায় হাকালুকি হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়ে উপকৃত হত। এ ব্যাপারে জানতে নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তোফায়েল আহমদের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here