মুক্তি এখন অর্থমন্ত্রীর গলার কাঁটা

0
1663

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ক্ষমতার অপব্যবহার আর সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সিলেট সদর উপজেলাব্যাপী।

কয়েক দিন ধরে যুবলীগ থেকে মুক্তিকে বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করছে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মানুষ। একাধিক প্রতিবাদ সভায় তারা অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নাম ভাঙিয়ে মুক্তি টেন্ডারবাজি, যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাসা দখল, জায়গা দখল, এয়ারপোর্টের পার্কিং জোন দখল করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

ব্যক্তিস্বার্থে সাংগঠনিক পদবি ব্যবহার করলেও নগর যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ৩ মাসের জন্য গঠিত আহবায়ক কমিটি তার নেতৃত্বের ব্যর্থতায় ৩ বছরেও মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করতে পারেনি।

এ অবস্থায় দাবি উঠেছে মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ভেঙে দেয়ার। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতামত ছাড়াই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সচিবালয়ে তার দফতরে বসে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে আলম খান মুক্তিকে আহবায়ক করে তিন মাসের জন্য ৬১ সদস্যের সিলেট মহানগর যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন।

তিন মাস মেয়াদের এ কমিটি ৩ বছর কাটিয়ে দিলেও এখনও সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি। অর্থমন্ত্রীর দফতরে এসেই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতামত ছাড়া অর্থমন্ত্রীর একক পছন্দে গঠিত মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি শুরু থেকেই সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা।

বিশেষ করে কমিটির আহবায়ক আলম খান মুক্তির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও। অর্থমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেন না। গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী সিলেট এলে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়া জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য মোহাম্মদ শাহনূরকে লাঞ্ছিত করেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি।

শাহনূরের অপরাধ মুক্তির ভাই বেলাল খানকে হারিয়ে নির্বাচিত হওয়া। নির্বাচনে শাহনূর ২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেও মুক্তির ভাই বেলাল পায় মাত্র ২ ভোট। জেলা পরিষদের সদস্য শাহনূরকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানসহ পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা।

তারা অবিলম্বে শাহনূরকে লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অপরদিকে সিলেট সদর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মানুষ এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে। যুবলীগ থেকে মুক্তিকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার দাবিতে এলাকায় প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এসব আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন জেলা, মহানগর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও।

যাদের অনেকেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগের পরিবেশ সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাস, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন মুক্তির অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন।

এ অবস্থা চলতে থাকলে অর্থমন্ত্রীর শেষ নির্বাচন করা ঘোষণায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। আন্দোলনকারীদের দাবি আগামী নির্বাচনে মুক্তিই হবে অর্থমন্ত্রীর গলার কাঁটা। আওয়ামী লীগ নেতারা অবিলম্বে আলম খান মুক্তিকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করে গ্রেফতারের দাবি জানান। সুত্র:- যুগান্তর

(Visited 12 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here