জামালগঞ্জের সাচনায় সড়ক কেটে খাল তৈরি করায় দুই ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ

0
136

অনিমেষ দাস, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা-বেহেলী রোডে সাচনা  গ্রামের কাছে একটি কালভার্ট নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ব্যবহার যোগ্য কালভার্ট ভেঙে অসময়ে ও পরিকল্পনাবিহীন নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় জামালগঞ্জ উত্তর ও বেহেলী ইউনিয়নের হাজারো লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কি কারণে অসময়ে পুরাতন কালভার্ট ভেঙে বহু টাকা ব্যয়ে নতুন কালভার্ট নির্মাণ? সাচনাবাজার-বেহেলী প্রধান রাস্তায় এই কালভার্ট নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দুই ইউনিয়নবাসীর সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন কালভার্ট নির্মাণ করতে রাস্তা কেটে খাল তৈরি করায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

প্রকল্পের নির্দিষ্ট সময়ে কাজও শেষ করা সম্ভব হবেনা। জানা যায়, উন্নয়ন সংস্থা আরসিআইপি-এর অর্থায়নে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার মিটার বাই সাড়ে চার মিটার দুইটি কালভার্ট, সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেয় এল জি ই ডি। গত ১৭ এপ্রিল কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মেয়ার ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত। এই প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পূজা এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়দের অভিযোগ বিকল্প রাস্তা নির্মাণ না করে সাচনা গ্রামের সুবোধ দাসের বাড়ির কাছের পুরাতন কালভার্ট ভাঙার পর এই দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অপকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করার ফলে ব্রিজের পাশের সুবোধ দাসের বসতবাড়ির লোকজন ঘর হারা হচ্ছে।

তাদের বসতবাড়ি নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে ধ্বসে পড়ছে। অপরিকল্পিত ভাবে কালভার্ট নির্মাণ ও দুর্ভোগ সৃষ্টির বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার জানতে চেয়েও কোন জবাব পাননি। এ ঘটনায় এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রবীন্দ্র কুমার দাস গতকাল সোমবার এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।

সাবেক ইউপি সদস্য রবীন্দ্র কুমার দাস বলেন,‘ পুরাতন কালভার্ট ভেঙে নতুন আরেকটা করার প্রয়োজন ছিল না। যদি করার প্রয়োজনই হতো তাহলে আগেই বিকল্প রাস্তা তৈরি করা উচিত ছিল। নতুন কালভার্ট তৈরি করার জন্য মস্ত বড় একটা খাল কাটা হয়েছে। এক লোকের বসতঘর খালে পড়ে যাওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাস্তা না থাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে এই খাল পার হতে হচ্ছে। এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলতে চাইলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাচনাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ বলেন,‘এল জি ই ডি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য ও রাষ্ট্রের মঙ্গালার্থে  গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ করেন।

কিন্তু সাচনা গ্রামের মাঝের পুরাতন কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন তারা। অসময়ে কাজ শুরু করায় রাস্তা কেটে বিরাট খালের সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্মাণাধীন ব্রিজের ঠিকাদার বিপ্লব পাল বলেন,‘গত এপ্রিল মাসে আমরা প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছি। এর পরপরই টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের জন্য এখন কাজও করা যাচ্ছে না। এই কালভার্টের  জন্য এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এটা সত্য কথা। এই কালভার্ট ভাঙার কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। আমরা নিজেরা এই দুর্ভোগে পড়েছি। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব এই কালভার্ট নির্মাণ করতে। জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন,‘ এই কালভার্টটি একটি উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে হচ্ছে।

কালভার্টের সাথে সড়ক সংস্কার করা হবে। ঠিকাদারকে গত ১৭ এপ্রিল কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। বৃষ্টির জন্য বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। প্রকল্পে বিকল্প সড়কের কোন বরাদ্দ না থাকায় সড়ক নির্মাণ করে দেয়া সম্ভব হয়নি। বিকল্প রাস্তার জন্য জায়গাও পাওয়া যায়নি। ব্যক্তি মালিকরা কেউ জায়গা দিতে রাজী হচ্ছে না।

তবে ইট ফেলে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করতে। কালভার্ট নির্মাণে ব্যক্তি মালিকানাধিন কারো ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। এক লোক দাবি করছে ওই ভূমি নিজের। তাকে বলা হয়েছে কাগজপত্র নিয়ে আসতে।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here