টহলদারিতে টহল পুলিশ, ডাকাতিতে ডাকাত

0
210

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: টহলদারিতে টহল পুলিশ, ডাকাতিতে ডাকাত আসন্ন ঈদকে নিয়ে যেন প্রস্ততিটা এরকমই। যার উদাহরণ দেখা যায় বাহুবলের কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকায়। টহল পুলিশ যখন টহলে ব্যস্ত তখন তাদের ফাঁকি দিয়ে ডাকাতরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ডাকাতিতে।

হবিগঞ্জের বাহুবলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে গাছ ফেলে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (১৫জুন) দিবাগতরাত ১টার দিকে বাহুবলের কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।

ডাকাতরা চারটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয় বলে জানিয়েছে যাত্রীরা। রাস্তার মাঝখানে গাছ ফেলে ৪০/৪২ জনের এক ডাকাতদল ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজার অভিমুখী ছেড়ে আসা ২টি হানিফ,২টি বড় মালবাহী ট্রাক ও ১টি এনা পরিবহন এবং ঢাকাগামী কয়েকটি মালবাহী ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি যানবাহনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত করে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা নাগাদ বাহুবলের কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা যায়। ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজার অভিমুখী ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের শ্রীমঙ্গলের যাত্রী কন্ঠশিল্পী বাউলিয়ানা দিপু ডেইলি সিলেটকে জানান, বাসের যাত্রীরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন।

কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ী স্থানে হঠাৎ গাড়ি হার্ডব্রেক করায় যখন সবার ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন সবাই দেখতে পায় দুপাশ থেকে ছেড়ে আসা গাড়ীগুলো আটকে একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্র হাতে একে একে গাড়ীগুলোর দরজা জানালা ভেঙ্গে যাত্রীদের মারধর করে সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেই।

এসময় ডাকাতদের হামলায় এক ড্রাইভার ও যাত্রী আহত হয় বলে জানান তিনি। পিছনে সারিতে থাকা হানিফ পরিবহনের এই যাত্রী আরো জানান, সামনে থাকা বড় গাড়ীগুলো ডাকাতির শিকার হয়। পিছনে থাকা ছোট ছোট গাড়ীগুলো এই অবস্থা দেখে পেছন থেকে গাড়ী ঘুরিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর এক অ্যাস্বুলেন্সের শব্দ শুনে পুলিশের গাড়ী ভেবে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

আহত ২জন যাত্রীদের সেই অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান। মৌলভীবাজার ২ আসনের এমপি আব্দুল মতিনের গাড়ীও এই ডাকাতির হামলার শিকার হয় বলে জানা যায়। এ প্রসঙ্গে এমপি’র পিএস অরুন কালোয়ার ডেইলি সিলেটকে জানান, আমাদের গাড়ীতে আমি,স্যার ও ড্রাইভার ছিলাম।

গাড়ী থামাতেই মুখোশ পরা তিনজন লাঠি ও লম্বা দা হাতে আমাদের গাড়ীর সামনে এসে দরজা,জানালায় বাড়ি দিতে থাকে। তেমন ক্ষতি না হলেও ড্রাইভারের মোবাইল তারা ছিনিয়ে নেন। আমার ও স্যারের সোবাইল বন্ধ করে গাড়ীর সিটের নিচে ফেলে দেওয়ায় পরবর্তীতে ফোন অন করে কুলাউড়া থানা ও মৌলভীবাজার এসপিকে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাওয়ার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ চলে আসায় ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

বাহুবল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিৎ দেব ডেইলি সিলেটকে জানান, কয়েকটি গাড়ী আটকিয়ে ডাকাতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। চা বাগান অধ্যূষিত এলাকা হওয়ায় পুলিশ আসার পূর্বেই ডাকাতরা চা বাগানের ভেতরে ঢুকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনার সময় হাইওয়ে পুলিশের টহলটিম কোথায় ছিলো জানতে চাইলে সাঁতগাও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: রুহুল আমিন  বলেন, ডাকাতি যে সময় সংগঠিত হয় তার কিছু সময় পূর্বে আমাদের টহলটিম সেই স্থান পাড়ি দিয়ে শ্রীমঙ্গল অভিমুখে যায়।

তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই এই ঘটনাটি ঘটে। টহলটিমের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিরপুর তিতারকোনা পয়েন্ট থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত আমাদের টহলটিম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাদের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। ঈদের সময় এরকম ঘটনা এড়াতে টহল পুলিশের টহল অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

হবিগঞ্জের বাহুবলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে গাছ ফেলে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫জুন) দিবাগতরাত ১টার দিকে বাহুবলের কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা চারটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয় বলে জানিয়েছে যাত্রীরা। টহলদারিতে টহল পুলিশ, ডাকাতিতে ডাকাত আসন্ন ঈদকে নিয়ে যেন প্রস্ততিটা এরকমই। যার উদাহরণ দেখা যায় বাহুবলের কামাইছড়া ও রশিদপুর এলাকায়। টহল পুলিশ যখন টহলে ব্যস্ত তখন তাদের ফাঁকি দিয়ে ডাকাতরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ডাকাতিতে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here