সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় একই পরিবারের তিন বাকপ্রতিবন্ধী প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত

0
138

অণিমেষ দাস,(সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার  সদর ইউনিয়নের লংকাপাথারিয়া গ্রামে তিন প্রতিবন্ধীর বাড়ি। প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে বার বার গেলেও তাঁদের ভাগ্যে আজও প্রতিবন্ধী ভাতা জোটেনি।

ফলে দু’বেলা কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে এই দরিদ্র তিনটি পরিবার। জাকির হোসেন(৪৫), মিয়ার হোসেন (৩২) ও আক্তার হোসেন (২৩) ওরা তিনজন আপন ভাই। জন্ম থেকে ওরা তিনজনই বাক প্রতিবন্ধী। পেশায় মৎস্যজীবী ও দিনমজুর, সম্পদ বলতে এক চিলতে ভিটে এটুকুই।

সেই ভিটেতে ঘর তুলার সামর্থ্য ও নেই তাঁদের। এক আত্মীয়ের বাড়িতে একটি দু’চালা জরাজীর্ণ টিনের ঘরের কাপড়ের বেষ্টনী দিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও মা নিয়ে কোনোরকমে বসবাস করছেন। এক ঘরের মধ্যে তাঁরা বসবাস করলে বছর খানেক হলো তাঁরা তিন ভাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে পৃথক হয়ে গেছেন। বৃদ্ধা মাকে পালাক্রমে তিন সন্তানের সঙ্গে খাবার খান। তিন প্রতিবন্ধীর মা আছিয়া খাতুন (৬৫) বলেন, আমার তিনডা পুত ও একটা মাইয়া।

তিনডা পুত জন্ম থাইক্যা বোবা। হেরার বাবাও মাছ মাইর‌্যা সংসার চালাইতো,১২ বছর আগে আমার স্বামীডা মইর‌্যা গেছে। মাইনষের বাড়িত কাম কইর‌্যা হেরারে বড় করছি, মাইয়াডারে হের বাবা থাকতেই বিয়া দিছি। হুনছি সরকার থাইক্যা প্রতিবন্ধীরার ভাতা দেয়। হেরার ভাতা ফাইবার লাইগ্যা চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে কয়বার যে গেছে তা কইতাম ফারতাম না।

কুনু কাম অয় নাই। বেহেই খালি আশা দিছে।  প্রতিবন্ধী জাকির হোসেনের স্ত্রী তাজিয়া বেগম বলেন, আমার চারডা মাইয়া। একটা পুতের আশায় চাইরডা মাইয়া অইছে। আমার দেবর মিয়ার হোসেনের একটা পুত ও একটা মাইয়া। সবার ছুডু দেবরডার (আক্তার হোসেনের) একটা পুত। হেরা কামে গেলে খাওন জুটে, না অয় উপবাসই থাকতে অয়।

মিয়ার হোসেনের স্ত্রী হনুফা আক্তার বলেন, আমরা গরীব। আমার স্বামী, ভাসুর ও দেবর প্রতিবন্ধী ভাতা ফাওয়ার যোগ্য অইলেও গরীব অরয়ায় হেরার ভাগ্যে আইজো ভাতা জুটতাছে না। আক্তার হোসেনের স্ত্রী রবিনা আক্তার বলেন, আমরার শাশুড়ি, ভাসুর ও দেবরের পুলাফান লইয়্যা তিন পরিবার মিলিয়ে সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। বছরহানি অইছে আমরা বেহেই আলাদ অইয়া গেছি।

আমার স্বামী, দেবর ও ভাসুর তাঁরা তিনজনই আমরার লগে ইশারায় কথা কয়। কামে গেলে কাওন জুডে আর না অইলে উাবস থাওন লাগে। ক্যামনে আমরার দিনকাল যাইতাছে হেইডা উফুর ওয়ালাই জানইন। সরহারি ভাতা ফাইলে খুউব ভালা অইতো। ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ওই তিনজনই প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার যোগ্য। আমি এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব।

ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ বলেন, এতদিন বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। ওই তিন প্রতিবন্ধীর ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলে অবশ্যই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা সমাজপসবা কর্মকর্তা মো. ইসমামফল হোসেন বলেন, লংকাপাথারিয়া গ্রামে তিনজন বাক প্রতিবন্ধী রয়েছে অথচ তাঁরা ভাতা পাননা বিষয়টি কেউ আমাকে এতদিন জানায়নি।

খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার বলেন, ওই তিন বাক প্রতিবন্ধীর বৃদ্ধা মা তাঁর তিন ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য আমার কাছে কয়েকদিন আগে এসেছিলেন। ওই তিন বাক প্রতিবন্ধীর ভাতা প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here