বড়লেখায় ফের বন্যা : পানিতে ভাসছে পৌরশহর : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0
147

নজরুল ইসলাম, (বড়লেখা): মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে ফের বন্যার পানিতে ভাসছে বড়লেখা পৌরশহর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। বরিবার ভোর ৩ টা থেকে শুরু হওয়া টানা ৫ ঘন্টার বর্ষণে এবং পাহাড়ি ঢলে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

নিম্নাঞ্চল সহ পানিতে একাকার হয়ে আছে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়ক। পৌর এলাকার উত্তর চৌমুহনী, কলেজ রোড, মহুবন্দ, উপজেলা চত্বর এলাকা, পানিধার, মুছেগুল কাঠালতলী,দক্ষিণভাগ সহ আনুমানিক ১০ স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

রবিবার সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলে উপজেলার উত্তর চৌমুহনী থেকে কাঠালতলী বাজার, দক্ষিণভাগ বাজার এবং কাঠালতলী বাজার থেকে পশ্চিমমুখী সড়কে সাইডিং পর্যন্ত, বরইতলী থেকে মুছেগুলসহ বিস্তীর্ণ প্রায় পাচঁ কিলোমিটার সড়ক তিন ফুটের অধিক পানির নিচে রয়েছে। এতে সকাল থেকেই ভারী যানবাহন চলাচল ছাড়া সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রাতের ভারি বর্ষণে ষাটমাছড়া, নিখড়িছড়া, মাধবছড়ার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলসহ প্লাবিত এলাকার প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও পাচঁশতাধিক ব্যাবসা প্রতিষ্টানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে ব্যাবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সহ প্রায় দশ হাজার মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এছাড়া বরইতলী -মুছেগুল রাস্তায় প্রায় ৩/৪ স্থানে ভাঙ্গন, ব্র্যাক অফিস -কাঠালতলী উত্তর রাস্তায় ২ স্থানে ভাঙ্গনের ফলে ঐ এলাকার প্রায় পাচঁ হাজার মানুষ বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। মুছেগুল এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, হারুন মিয়া, মনির আলী, জাহাঙ্গীর জানান, নিখড়িছড়ার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বছরে ৬/৮ দফা মুছেগুল এলাকা প্লাবিত হয়।

মুছেগুল থেকে যাতায়াতের রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে গিয়েছে এবং পানি প্রবাহিত হওয়া প্রায় পুরো রাস্তাটিতে গর্ত হয়ে গিয়েছে এতে গাড়ীতে হোক আর পায়ে হেটে হোক কোনভাবেই গ্রাম থেকে বের হয়া যায়না। বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। আমরা আশা করবো আমাদের এই দূর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে।

কাঠালতলী উত্তরের একাধিক বাসিন্দা জানান, মেইন সড়ক থেকে ব্র্যাক অফিসের পাশ দিয়ে কাঠালতলী উত্তরের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিতে আব্দুল জব্বারের বাড়ীর সামনে দীর্ঘদিন থেকে ভাঙ্গন ছিলো। কোনভাবে পায়ে হেটে ঝুকি নিয়ে চলাচল করা যেতো, এবার তা পুরোপুরি ভেঙ্গে গিয়েছে। আমরা এখন কি করবো?

এদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় উপজেলার উত্তর চৌমুহনী,পানিধার, কাঠালতলী বাজারের প্রায় পাচঁ শতাধিক দোকানের কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বরাবরের মতো বন্যা কবলিত এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের ডুবে যাওয়া অংশটুকু পার হতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ভারী যানবাহন চালকরা।

২০০ মিটার জায়গা পার করতে আদায় করা হচ্ছে মাথাপিছু ২০ টাকা হারে। ট্রাক ও ট্র্যাক্টরে করে ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে শতশত মানুষ। দূরগামী সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ যেন শেষ হবার নয়। অতিরিক্ত ভাড়া নির্বাহ করতে ব্যার্থ অনেককেই নিরাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here