লাখো মুসল্লির জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

0
123

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে জাতীয় ঈদগাহের সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মোতায়েন থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনের জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায়।

আর আবহাওয়া খারাপ থাকলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহ প্রস্তুতকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাখো মুসল্লির ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য প্রায় প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবে।

এখানে নারীদের জন্যও আলাদা নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে ঈদের দিন সকাল ৭টা থেকে এক ঘণ্টা পর পর মোট পাঁচটি জামাত হবে। তবে, আবহাওয়া খারাপ হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমের জামাতই ঈদের প্রধান জামাত হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মসচিব মো. আব্দুল জলিল।

এ ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের ঈদের নামাজের জন্য আলাদা জায়গা সংরক্ষণ করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবেন। জাতীয় ঈদগাহের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ইতোমধ্যে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

আর নিরাপত্তার দিকটি দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, নামাজের জন্য মাঠে প্যান্ডেল তৈরির মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ। মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেলে ফ্যান লাগানোও শেষ পর্যায়ে।

এ ছাড়া বৃষ্টি হলে যেন নামাজের স্থানে পানি না জমে, সে জন্য নিচু জায়গাগুলোতে বালু ও মাটি ফেলে সমান করা হয়েছে। নামাজ আদায়ের জন্য মূল প্যান্ডেলের ভেতরে পাটি বিছানো হবে রোববার রাতে। ঈদের দিন বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় এবার ঈদগাহে শামিয়ানার ওপর লাগানো হয়েছে বৃষ্টিনিরোধক ত্রিপল। ঈদগাহ ময়দানের সামনের মিনারসহ মাঠের সীমানা ও আশপাশের গাছে রং করা এবং মাঠের ঘাস কাটার কাজও শেষ হয়েছে।

ডিএসসিসির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম জানান, জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে প্রায় ৮৪ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। পাঁচ হাজার নারীর নামাজ আদায়ের জন্য পর্দা দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাঠের ২ লাখ ৭০ হাজার ২৭৭ বর্গফুট এলাকা বৃষ্টি প্রতিরোধক ত্রিপল দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেয়া হয়েছে।

মাঠে ৭০০ সিলিং ও ১০০টি পেডেলস্ট্যান্ড পাখা লাগানো হয়েছে। ১৪০টি অজুর জায়গা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারও থাকছে। জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ঈদগাহে শুধু মাত্র জায়নামাজ আনা যাবে। মোবাইল ফোন বা অন্যকোনো ধরনের ডিভাইস আনা যাবে না।

এমনকি পানির বোতল না আনতে নিরুৎসাহিত করার কথা জানান তিনি। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজধানীর ৫শ’ স্থানে ছোট-বড় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। সেসব স্থানে র্যা ব ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুরো রাজধানীতে থাকবে নিশ্ছিদ্র পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো ঈদগাহ এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগত মুসল্লিরা ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, লাগেজ, দাহ্য পদার্থ, ছুরি-কাঁচি ইত্যাদি যাতে নিয়ে প্রবেশ না করে সেজন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ঈদগাহের চারদিকে এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুলিশি চৌকি থাকবে। নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। গাড়ি ও মোটরসাইকেল আধা কিলো মিটার বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করতে হবে।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here