সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ‘এখনতো সবাই শিল্পী হয়ে যাচ্ছে। যাকেই দেখছি সেই গান গাইছে। গান জানুক আর না জানুক গাইছে কিন্তু ঠিকই। বিভিন্ন সফটওয়্যার দিয়ে শ্রোতাদের জোর করে গান শোনানো হচ্ছে।

বেশিরভাগ এভাবেই তো এখন চলছে। গান শিখে খুব কম ছেলেমেয়ে গাইতে আসছে।’ সংগীতের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমনটাই বলছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী।

সামিনা বলেন, ‘আসলে এসব নিয়ে আর বলতে ইচ্ছে হয় না। শিল্পী, গীতিকার, সংগীত পরিচালকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু মানসম্পন্ন গানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সবাই ভিডিওর পিছনে ছুটছে। গান কেমন হলো সেটা কোনো বিষয়ই নয়।

ভালো বাজেটে ভালো নির্মাতা দিয়ে পরিচিত মডেল দাঁড় করিয়ে ভিডিও নির্মাণ দিয়েই চলছে ইন্ডাস্ট্রি। গান নিয়ে কোনো নিউজ নেই, আগ্রহ নেই; যতো প্রচার বা লক্ষ্য ভিডিও হিট করানো। ভিডিও নির্মাণ তখনই সফল হবে যখন গানটি ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, ‘সবাই এখন নিজেকে পরিচিত করতে চাচ্ছে যেভাবেই হোক সেটা।

রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেতে চাইলে প্রকৃত শিল্পী হওয়া যায় না। এখন সেই প্রতিযোগিতাটাই চলছে। কোম্পানিগুলোও অযোগ্যদের প্রমোট করছে চাকচিক্যের নাম দিয়ে। গুণী শিল্পীদের অচল বলা হচ্ছে যত্রতত্র। এমন সংগীত চর্চা ও বাজারজাতকরণ জগতের আর কোথাও আছে কী না আমি জানি না।

গানের ব্যস্ততার কথা জানতে চাইলে সামিনা বলেন, ‘ব্যস্ততা তো গান নিয়েই। শিল্পী হিসেবে যেহেতু কাজ করছি গান নিয়েই থাকতে হয় সবসময়। স্টেজ শো ও অ্যালবামের ব্যস্ততা রয়েছে। তাছাড়া ৫ জুলাই বাংলাভিশনের মিউজিক ক্লাবে লাইভ গান করলাম। মৌলিক গানই করেছি সেখানে। ভালো সাড়া পেয়েছি দর্শকদের। বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর নিয়েও কথা চলছে।

ব্যাটে বলে মিলে গেলে হয়তো শো’গুলো করবো। নতুন অ্যালবাম প্রসঙ্গে সামিনা বলেন, ‘একটি নতুন অ্যালবামের গানের রেকর্ডিং শেষ করছি। আমার মনে হয় এটি বিশেষ কিছু হতে চলেছে। কারণ অ্যালবামের গানগুলোর সুর করেছেন ওপার বাংলার নচিকেতা। আর এর সংগীতায়োজন করছে পঞ্চম। অ্যালবামে আমি ও ফাহমিদা গান গেয়েছি।

আমার নিজের কাছে গানগুলো বেশ ভালো লেগেছে। গেয়েছিও খুব উপভোগ করে। আমার বিশ্বাস গানগুলো শ্রোতাদের ভালো লাগবে। সম্প্রতি সামিনা চৌধুরী ‘আজ বৃষ্টি নামুক’ শিরোনামে একটি বৃষ্টির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। লিমন আহমেদের কথায় এর সুর ও সংগীত করেছেন রাজন সাহা।

NO COMMENTS

Leave a Reply