সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের নয় মৌজার ৫ টি গ্রামের চলাচলের ভরসা এই সড়কটি যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। বাংলাবাজার থেকে তাহিরপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কটি র্দীঘ দিন ধরে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ।

সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাবেক এক এমপি ও বর্তমান এমপির বাড়ী এই কুর্শি ইউনিয়নে থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এ অবস্থা দেখে অনেকেই লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীগঞ্জ টু শেরপুর সড়কের সাথে সংযুক্ত উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের চলাচলের ভরসা এই সড়কটি। অর্ধেক পিছ, কিছু অংশ ইট সলিং ও কিছু কাচা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ কিলো মিটার সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কটি সংস্কার না করার কারণে ও বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে রাস্তাটির এহেন অবস্থা বিরাজ করে।

বাংলা বাজার থেকে শুরু হয়ে গহরপুর, রাইয়াপুর, কাদিপুর, সাদুল্লাপুর হয়ে তাহিরপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট পর্যন্ত এই সড়ক। এই গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান। ওই ৫ গ্রামের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ভার্সিটিতে যাতায়েত করেন ওই ভাঙ্গা সড়ক দিয়েই। পিছ অংশের বিভিন্ন স্থানেই কিছুদূর পর পর রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হয়ে ইটের খোয়া সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এতে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। রাস্তার কার্পেটিং ও ইটের খোয় সরে যাওয়ায় অনেক জায়গায় কাদার উপর গাড়ী হেলে দুলে চলে। আর কাচা অংশে বৃষ্টি হলেই কাদা হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় সময়ই জরুরী কোন রোগিকে হাসতপাতাল নিয়ে যেতে গেলেও তাদেরলে বিপাকে পড়তে হয়। অনেক জনপ্রতিনিধিই নির্বাচনের আগে অনেকবার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কেউই করেন নি, বলেও জানান তারা।

এই রাস্তার দিকে নজর দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এলকাবাসী। এদিকে এই সড়ক নিয়ে একটি স্বচিত্র প্রতিবেদন করে বাংলা টিভি ও এনটিভি। পরে অনলাইনে নিউজগুলো ব্যপক শেয়ার ও ভিউ হয়। নিউজের ভিডিও ক্লিপগুলো রিতিমত ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অনেকেই কমেন্ট করেছেন জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে।

আবার অনেকেই লিখেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করেও। কারন বর্তমান সংসদ সদস্যের বাড়ী কুর্শি ইউনিয়নেই। এমনকি সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাড়িও কুর্শি ইউয়নের নয় মৌজায়ই ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি বেসরকারী একটি টিভি চ্যানেল এর নারী সাংবাদিক ঢাকা থেকে এসে এমপি মুনিম চৌধুরী বাবুর বাড়ি থেকে তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে ডকুমেন্টারী প্রতিবেদন করার জন্য তার পার্টির লোকদের বিভিন্ন বক্তব্য নেয়।

এ নিয়েও বেশ হৈ চৈ লক্ষ করা গেছে, কারণ এর আগে গত বছর যমুনা টেলিভিশন এই এলাকারই অনেক ভূয়া প্রকল্প নিয়ে রিপোর্ট করেছিল। স্থানীয়দের দাবী যেসব প্রকল্পের নামে বরাদ্ধ আসে সেগুলো স্থানীয় পত্রিকা কিংবা ফেসবুকে যাতে প্রকাশ করা হয়।

NO COMMENTS

Leave a Reply