বিয়ানীবাজারে ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার ঘটনায় ২জন গ্রেফতার

0
127

সিলেটের সংবাদ ডটকম: যমুনা ব্যাংক বিয়ানীবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সজল কান্তি দাস (৫০) আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মঙ্গলবার সিলেট নগরী থেকে ব্যাংকার দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মৃত্যের লাশের পাশে পাওয়া চিরকুটে লেখা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- যমুনা ব্যাংক সিলেট নগরীর বন্দরবাজার শাখায় কর্মরত এক্সিকিউটিভ অফিসার আলী আহমেদ সেলিম ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বপ্না।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত সজলের মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেন- গ্রেফতারকৃত দম্পতি যমুনা ব্যাংকের ডাইরেক্টরের আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বিয়ানীবাজার শাখা থেকে বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে ঋণের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে।

ভিকটিম, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, বিয়ানীবাজার শাখার ব্যবস্থাপক হওয়ায় তার উপর সম্পুর্ণ দায়-দায়িত্ব থাকায় তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দম্পতির নিয়ন্ত্রনে ব্যক্তিদ্বয়ের কাছে ব্যাংকের আমানত ফেরৎ আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এমনকি উক্ত ব্যক্তিদ্বয় ঋণ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে এবং উক্ত ঋণ গ্রহণের বিষয়টি কারো নিকট জানালে ভিকটিমের সন্তানদের ক্ষতিসাধন করবে নতুবা ব্যবস্থাপককে আত্মহত্যার পরামর্শ দেয়।

এছাড়াও ভিকটিম চিরকুটে উল্লেখ করেন, সেলিম ও স্বপ্না পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভিকটিম মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলেও চিরকুটে উল্লেখ করে গেছেন। তার চিরকুটের তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট নগরী থেকে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনকে আসামী করে নিহত সজলের ভাই সুজিত দাস বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ওই মামলায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজারস্থ মোহলা বিল্ডিং এর তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ব্যাংকার সজল কান্তি দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করে লাশ পোস্টমোর্টেমের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here