‘সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়’

0
127

সিলেটের সংবাদ ডটকম  ডেস্ক: সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

বুধবার বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড ও সফলতার বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে সব সময় বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানানোসহ সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তারাও (বিএসএফ) সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানের কথা আমাদের জানিয়েছে।

তিনি জানান, আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। সীমান্ত হত্যার ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধে আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সেগুলো হলো- নির্দিষ্ট এলাকায় ক্যাটেল করিডোর খোলা, ক্যাটেল করিডোরে রাখালদের রেজিস্ট্রেশন করা, সীমান্তের শূন্য রেখায় গরু আদান-প্রদান, সব রাখালের কর্মসংস্থান, সীমান্তে বিভিন্ন ছোট প্রকল্প, সীমান্ত রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ইত্যাদি কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সর্বোচ্চ সুসম্পর্ক রেখে সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা।

মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, যেসব ব্যবসায়ী গরু ব্যবসা করতে চান তারা বৈধভাবে করলে বাধা দেয়া হবে না। ভারতীয় গরু আনার জন্য বাংলাদেশি রাখাল ও ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই সীমান্তের জিরোলাইন অতিক্রম করতে পারবে না। ভারতের ব্যাপারিরা জিরোলাইনে গরু নিয়ে আসলে নিয়ম অনুযায়ী এদেশের ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে আসতে পারবেন।

বিজিবি মহাপরিচালক পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিএসএফ এর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকার ফলে তাদের হাতে আটক ২৩০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১২৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সার্বক্ষণিক ও বিশেষ নজরদারির জন্য অ্যাডহক ভিত্তিতে রিজিয়ন সৃজন, উক্ত এলাকায় সকল প্রকার অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সশস্ত্র দল চিহ্নিতকরণ ও দমনের নিমিত্তে গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যৌথ অভিযান, সম্ভাব্য মাদক পাচারের রুটে চেক পোস্ট বসানো, সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তদারকি ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রতিবেশী সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন ও সার্বক্ষণিক সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বিজিবির আধুনিকায়নের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন দাফতরিক কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি পৃথক ডাটা সেন্টার স্থাপনসহ বিজিবি সদর দফতরে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রচলণ ও অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একটি ডিজিটাল কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

স্পর্শকাতর এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে যশোর জেলার পটুয়াখালী ও কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তের কিছু জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তির সার্ভিল্যান্স ডিভাইস স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। অনুষ্ঠানে ‘বর্ডার ট্যুরিজম’ নামে একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক। এ সময় তিনি জানান, বর্ডার টুরিজম ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার বর্ডার সংলগ্ন ও বাংলাদেশের সকল দর্শনীয় স্থান সম্পর্কিত সকল তথ্য পাওয়া যাবে।

ওয়েবসাইটে বিজিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত রিসোর্টসমূহের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র দেয়া থাকবে। ঢাকা থেকে রিসোর্টসমূহে যাওয়ার বিস্তারিত গাইড লাইন ও বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজের তথ্যসহ অনলাইনে বুকিং এবং পেমেন্ট সুবিধাও রাখা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ পর্যটকদের জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হবে আশা করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here